স্কুল সার্ভিস কমিশের গ্রুপ ডি পদের কর্মী নিয়োগ মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্কুল সার্ভিস কমিশের গ্রুপ ডি পদের কর্মী নিয়োগ মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: স্কুল সার্ভিস কমিশের গ্রুপ ডি পদের কর্মী নিয়োগ মামলায় সিবিআই তদন্ত ছাড়া কোনও উপায় নেই বলে জানালেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে স্কুল সার্ভিস কমিশন আদালতে অনুরোধ করে, সিবিআই ছাড়া রাজ্যের যে কোনও তদন্তকারী সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানো হোক।

সিবিআই তদন্তের বিরোধিতা করে এসএসসি-র হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।তা শুনে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আপনার যা বলার আছে তার জন্য ৫ মিনিট সময় দেব। কেন বুঝতে চাইছেন না আপনারা মামলায় হেরে গিয়েছেন।আপনাদের হলফনামা থেকে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়নি। আমি এটার তদন্তের জন্য সিবিআই ঠিক করে নিয়েছি।” বিচারপতি আরও বলেন, “যে হেতু এই ঘটনার সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। তাই রাজ্যের কোনও সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা যাবে না।”

রাজ্যের আইনজীবীর হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) বলেন, “অনুরোধ করছি সিবিআই দেবেন না। রাজ্যের পুলিশের উপর এক বার ভরসা করা হোক। রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে একটিও অভিযোগ নেই যে তারা যথাযথ তদন্ত করেনি। সিবিআই তদন্ত একটা সময় গিয়ে থেমে যায়।” তিনি আরও বলেন, “যে কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিয়ে তদন্ত করালেও অসুবিধা নেই।”  পুলিশ তদন্ত নিয়ে রাজ্য হলফনামা জমা দিতে চায় বলেও আদালতে জানিয়েছেন এজি।

২০১৯ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রচুর নিয়োগ হয়েছে বলে মামলা দায়ের হয় আদালতে। প্রাথমিক ভাবে ওই অনিয়মের অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে উঠেছিল। কিন্তু গত বুধবার কমিশন আদালতে জানায়, ওই নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও সুপারিশ তারা করেনি। এমনকি বৃহস্পতিবার এ নিয়ে তারা একটি হলফনামাও জমা দেয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এসএসসি যদি সুপারিশ না করে, তবে ওই নিয়োগ হল কী ভাবে? আর এতেই জড়িয়ে পড়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নাম। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন পর্ষদের আইনজীবী। তিনি জানান, পর্ষদ নিজে থেকে কোনও নিয়োগ করেনি। কমিশনের সুপারিশ মেনেই হয়েছে যাবতীয় নিয়োগ। ফলে শুনানি কক্ষেই শুরু হয়ে যায় কমিশন-পর্ষদ একে অপরের দোষারোপের পালা।