কাউকে ভাতে মারতে না পারলে তাকে জাতে মেরে দাও! গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের ১৩৯ জনের তালিকায় নেই কোন মুসলিমের নাম

কাউকে ভাতে মারতে না পারলে তাকে জাতে মেরে দাও! গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের ১৩৯ জনের তালিকায় নেই কোন মুসলিমের নাম

পাঠকের কলমে, বঙ্গ রিপোর্ট: জাতপাতের খেলাটা বিজেপি প্রকাশ্যে চালালেও তৃনমুল সরকার সেটা সুক্ষভাবে চালিয়ে আসছিলো৷ এবার প্রকাশ্যে উঠে আসলো জাতপাতের রাজনীতি।

➡️ মালদা-মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গাভাঙ্গন অতি পুরনো সমস্যা। কংগ্রেস-বামেরা এটাকে মাথায় নেয়নি তেমনই তৃনমুল সরকার এটাকে চেপে রেখে দিলো। এমনকি ভাঙ্গনের ভয়াবহ রিপোর্ট রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে পাঠায়নি পর্যন্ত। কোনো এক বিধায়ক গঙ্গা ভাঙ্গন নিয়ে বললে মুখ্যমন্ত্রীর সটান উত্তর “আপনারা নদীর ধারে বাড়ি দেন কেনো? ভাবা যায় ইনি আবার জননেত্রী… ইনার হয়তো জানা নাই গঙ্গা নদী কয়েকশো কিলোমিটার জুড়ে গ্রাস করে ফেলে শেষ পর্যন্ত লোকালয়-বস্তিকে গ্রাস করতে ঢুকে পড়েছে।

➡️ বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস হোক কিংবা তৃণমূল….. মুসলিমদের ভোট ব্যাঙ্ক বানিয়ে রাখাটা ওদের প্রধান লক্ষ্য বটে। বামেদের আমলে সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের অবস্থা করুন অবস্থায় ছিলো… তৃনমুল উন্নতি করবে– চাকরি দেবে বলে ভোট নিয়ে সেই করুন অবস্থাকে অত্যন্ত করুন করে ছাড়লো।

➡️ এবার জাতপাতের বিষাক্ত রাজনৈতিক হিসেবে নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে প্রমান করে ছাড়লো শাসকদলের নেত্রী তথা মালদা জেলার বৈষ্ণবনগরের বিধায়িকা #চন্দনা_সরকার। গঙ্গাভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সকল ধর্মের লোকেরাই.। গঙ্গা কোনোদিন ধর্ম-জাতপাত দেখে কাউকে গ্রাস করেনি। বিধায়িকা চন্দনা সরকার ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারি পাট্টা প্রদানের জন্যে ১৩৯ জনের একটা লিষ্ট পারমিট/পাবলিশ করান যেখানে ১৩৯ জনই হিন্দুধর্মের লোকেদের। মাত্র একটাও কোনো মুসলিমকে পাট্টা প্রদানের লিষ্টে জায়গা দেন নি… কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিকদের অধিকাংশই মুসলিম।

➡️ তাহলে কি বিজেপির রাজনৈতিক CAA-CAB মতাদর্শে দীক্ষিত হয়েই এই লিষ্ট তৈরি করে ফেললেন মাননীয়া চন্দনা মহাশয়া৷ ইনি কি সেই নেত্রী যিনি ভোটের সময় বড় বড় ভাষনে সম্প্রীতির ডায়লগ মারেন? হ্যাঁ ইনিই সেই…যিনি জাতের রাজনীতিটা রপ্ত করে ফেলেছেন অলরেডি। ভোটের সময় হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই বলে ভোট নিয়ে ভোটের পরে জাত যায় যায় রাজনীতির নোংরা খেলা শুরু করে ফেললেন।

➡️ আবার এই তৃনমুল সরকার মুসলিমদের ওয়াকফ সম্পত্তিকে দেদার লুটে চলেছে। বিগত চার বছরের হিসাব নাকি এখনো ক্লিয়ার করা হয়নি। ওয়াকফের হাজার হাজার বিঘে সম্পত্তিকে দখল করে ফ্রিতে ভোগ করে চলেছে রাজ্য সরকার। মুসলিমরা নিজস্ব জায়গা ছাড়া সরকারি জায়গাতে ধর্মস্থান বানায়না….বাড়িঘর বানায়না কিন্তু বিগত ৭০ বছর থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্থান-শ্রীলঙ্কা থেকে দলে দলে হিন্দুরা এসে ওয়াকফ জমিতে বস্তি গড়ে ফেলেছে। এভাবে হাজার হাজার বিঘে সম্পত্তিকে অলরেডি পাট্টা করিয়ে নিয়েছে সরকারের দ্বারা। এমনকি আমাদের মালদা জেলার রাজ হোটেল মোড়ের মসজিদের পাশের দোকানগুলোর একটাও মুসলিমদের ভাড়া দেওয়া হয়নি ব্যবসার জন্যে….যদিও সেগুলো ওয়াকফের বিল্ডিং।। ভাবুন কিভাবে ধীরে ধীরে একটা জাতিকে চেপে দিতে চাইছে ব্রাহ্মণবাদী সরকারেরা।

➡️ এখন স্বঘোষিত তৃনমুলের চ্যালামুন্ডারা আসবে আমাকে বিজেপি বলতে, ওরা আমাকে মাকু বলবে,, ওরা আমাকে সাম্প্রদায়িকও বলবে…… তাদের বলি এতে আমার বা..ল ছেঁড়া যায়৷ অনেকে আবার বলবে এতে দলের কি দোষ,,, তাদের বলি দল কি পারবে এই সাম্প্রদায়িক বিষের পদ খারিজ করতে?? না করবে না….

65% মুসলিম এলাকায় ৮০% মুসলিম ভোটে জিতে উনি কি একটা মুসলিম ঘর খুঁজে পেলেন না?? এই মহিলা তো যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন বিধায়িকা পদে থাকার।
১৩৯ জনের লিষ্টকে অনেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে নিজেকে বোকা প্রমান করতেও আসবে হয়তো।। চলুন চলুন এভাবেই নিজেকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখুন

কলমে- হালিম হক, কালিয়াচক, মালদা