জলঙ্গিতে CAA বিরোধী মিছিলে গুলিতে মৃত মসজিদের ইমাম: অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে

    জলঙ্গিতে CAA বিরোধী মিছিলে গুলিতে মৃত মসজিদের ইমাম: অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে

     

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার সাহেবনগরে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বেশ কয়েকজন। এলাকা লোকজন প্রশ্ন তুলেছেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনের ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে।

    বুধবার সকালে এলোপাথাড়ি গুলিতে মৃত্যু হয়েছে আনারুল বিশ্বাস (৬৫) ও আরও একজনের, এখনও তাঁর নাম জানা যায়নি। আনারুল স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তাঁর ছেলে শাহরুল বিশ্বাস বলেন, “এলাকায় এনআরসি-বিরোধী বনধ ডাকা হয়েছিল। সেজন্য সকাল থেকে বিভিন্ন মোড়ে দু’-দশ জন করে লোক ছিল। মসজিদের কাছে একটি মোড় থাকায় এখানে জনা পঞ্চাশ লোকের জমায়েত হয়েছিল। নমাজ শেষ হওয়ার পরে মসজিদ পরিষ্কার করে আমার বাবা তালা লাগাচ্ছিলেন দরজায়। তখন তাহেরুদ্দিন ও তার দলবল পাঁচ-ছ’টি মারুতিতে করে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে, মনে হচ্ছিল সন্ত্রাসবাদী হামলা হচ্ছে। তার পঞ্চাশ মিটার দূরে পুলিশের গাড়ি ছিল, তাতে অন্তত ১৮-২০ জন পুলিশকর্মী ছিলেন। তাঁরা কিছু বলেননি। ঘটনার পরে পুলিশ পালিয়ে যায়।” তাহেরুদ্দিন মণ্ডল হলেন জলঙ্গির ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি।

    এলোপাথাড়ি গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আনারুল বিশ্বাসের বুকে একটি গুলি লেগে তা পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্রথমে বাইকে ও পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে গুলিবিদ্ধদের নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে। সেখানে আনারুল বিশ্বাস (৬৫) ও আরও একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত বছর চল্লিশের আলাউদ্দিন বিশ্বাসকে বহরমপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    সূত্রের খবর, বেশ কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল যে জলঙ্গির সাহেবনগরে নাগরিক (সংশোধন) আইন বা সিএএ-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে জানা যায় এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দল মজলিস-ই-মুত্তেহাদিন মুসলিমিন বা মিম। তাতে সায় ছিল না তৃণমূলের। তারা চাইছিল সিএএ বিরোধী আন্দোলন ও বিক্ষোভ হবে শুধুমাত্র তাদের নেতৃত্বে।

    তৃণমূলের এই নিষেধ না শুনে বুধবার সকালে সাহেবনগরে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, পথ অবরোধ করা হয়। তাতেই ক্ষেপে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। সকালে এই বিক্ষোভে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। অভিযোগ, জলঙ্গির ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তাহেরুদ্দিন মণ্ডল দাঁড়িয়ে থেকে এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই তাহেরুদ্দিনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এব্যাপারে কোনও রকম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও।

    গুলিতে আহত মিজানুর রহমানের বোন হীরা খাতুন বলেন, “আমরা কোনও পার্টি করি না। ওরা আমার ভাইকে কেন গুলি করল? এখানে সিএএ বিরোধী আন্দোলন চলছিল, তৃণমূল চাইছে এনআরসি হোক, তাই ওরা গুলি চালিয়েছে। এখানকার তৃণমূল বিধায়ক গুলি চালিয়েছে।”

    হীরার সুরে সুর মিলিয়েছেন এলাকার লোকজনও। তাঁরাও প্রশ্ন তুলেছেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনে তৃণমূল কেন গুলি চালাল তা নিয়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা একটি মারুতি ভ্যানে ভাঙচুর করেছে, একটি মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

    গুলি চলার কিছুক্ষণ পরে এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ। খবর পেয়ে চলে আসেন জেলা পুলিশ সুপার অজিত সিং যাদব। এলাকায় শুরু হয় রুট মার্চ। পুরো এলাকা এখন থমথমে। এই ঘটনায় পুলিশও মুখ খুলছে না। তারা শুধু বলেছে, ‘তদন্ত চলছে’।