ফাঁসির মঞ্চের ঝুলন্ত দড়ি চুম্বন করেছিলেন বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী আসফাক-উল্লাহ

ফাঁসির মঞ্চের ঝুলন্ত দড়ি চুম্বন করেছিলেন বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী আসফাক-উল্লাহ

জুলফিকার মোল্যা, বঙ্গ রিপোর্টঃ বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভারতীয় মুসলিম বীর বিপ্লবী আসফাক উল্লাহ খান। যাকে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯০০ সালের ২২ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা, শফিক উল্লা খান পাঠান পরিবারের মানুষ ছিলেন এবং তাঁর পরিবার সামরিক দিক দিয়ে বিখ্যাত ছিলো। তাঁর মা মাজহুর-উন-নিসা ছিলেন একজন ধার্মিক নারী। আশফাকউল্লা ছিলেন চার ভায়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট  ছিলেন।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে দেশর জন্য ফাঁসির মঞ্চের ঝুলন্ত দড়ি চুম্বন করে নিজেকে সঁপে দেন। ১৯২২ সালে, আসফাকুল্লাহ অসহযোগ আন্দোলনের সময় বিসমিলের সাথে শাহজাহানপুরে সভা দুজনের সাক্ষাৎ হয়। ভারতীয় বিপ্লবীরা বুঝেছিলেন শুধুমাত্র অনুনয়-বিনয় নয়। এভাবে স্বাধীনতা অর্জন করা যায়না তাই তাঁরা ভারতে বসবাসকারী ব্রিটিশদের ভেতরে ভীতির সঞ্চারের জন্য বোমা, রিভলভার এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করতে চাইলেন। তাঁদের কার্যক্রম চালানো এবং অস্ত্রশস্ত্র কেনার উদ্দেশ্যে, সরণপুর লখনৌ চলাচলকারী ৮-ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন বহনকারী সরকারি কোষাগার লুট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

৯ আগস্ট ১৯২৫ সালে কাকোরীতে আসফাকউল্লা বিসমিল সহ নয় জন ট্রেন লুট করেন। এই ঘটনায় ব্রিটিশ হতচকিত হয়ে যায় ও তদন্ত শুরু করে। ১৯২৫ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর সকালবেলা পণ্ডিত রামপ্রসাদ বিসমিল এবং অন্যান্য বিপ্লবীদের পুলিস গ্রেপ্তার করে কিন্তু আসফাক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপরই বিদেশে লালা হরদায়ালের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এক বন্ধু বিশ্বাসঘাতকতা করে পুলিশকে জানিয়ে দেয় এবং আসফাককে পুলিস গ্রেপ্তার করে। আসফাকউল্লা খানকে ফৈজাবাদ জেলে প্রেরণ করা হয়। ওই মামলায় আসফাকুল্লাহর মৃত্যুদণ্ড দেয় ইংরেজ সরকার।

কেমন ছিল বিপ্লবী আসফাকের ফাঁসির আগের মুহূর্তগুলি? ফাঁসির তিন-চারদিন আগে আসফাককে জেলের নিঃসঙ্গ সেলে দেখতে আসেন। তিনি তখন নমাজ পড়তে ব্যস্ত। এক ব্রিটিশ পুলিশ ইচ্ছা করে আসফাককে উদ্দেশ্য করে বলে ‘আমি দেখতে চাই যখন এই ইঁদুরটাকে ঝোলানো হবে তখন তাঁর কতটুকু ধর্মবিশ্বাস থাকে’। আসফাক অবিচলিত থাকলেন, তিনি নামাজ পড়া চালিয়ে গেলেন।

১৯ ডিসেম্বর ১৯২৭ সোমবার, আসফাকউল্লা খানকে দুই স্তর উপরে বেদিতে উঠিয়ে দেওয়া হয়। শিকল থেকে মুক্ত করা হয়। বিস্ময় ভরা চোখে তিনি ফাঁসির দড়ির কাছে যান এবং সেটিকে চুমু খেয়ে বললেন : ‘আমার হাতে কোনও মানুষ মারা যায়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আল্লাহ আমাকে ন্যায়বিচার দেবেন।’ অবশেষে তিনি স্পষ্টভাবে কলেমা উচ্চারণ করেন “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ”। তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় এবং দেশ হারায় এক বীর বিপ্লবীকে। এরপরেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখা হয়ে যায় তাঁর। শহিদ আসফাক-উল্লাহ খান।