ব্রিটিশরা শোন! শরীরের চামড়া গলে পড়ে গেলেও আমি ব্রিটিশদের পক্ষে ফতোয়া দেব নাঃ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী

ব্রিটিশরা শোন! শরীরের চামড়া গলে পড়ে গেলেও আমি ব্রিটিশদের পক্ষে ফতোয়া দেব নাঃ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী

জুলফিকার মোল্যা, বঙ্গ রিপোর্টঃ ভারতের উপজাতীয় এলাকায় মুসলিমদের নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামী বিদ্রোহ ঘটানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এজন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯১৫ সালে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপল মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধি কাবুলের দিকে যাত্রা করেন। এ উদ্দেশ্যে উবাইদুল্লাহ সিন্ধি আফগানিস্তানের আমির হাবিবুল্লাহ খানকে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য প্রস্তাব করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে মাহমুদুল হাসান জার্মান ও তুর্কি সাহায্য চান।

শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান(রহ) ১৯২০ সালে ৬০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেহ গোসল দেওয়ার জন্য তাঁর কোমরের কাপড় সরিয়ে ফেলার পর দেখা গেল সেখানে কোন মাংস কিংবা চর্বি নেই। মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী রহঃ সে সময়ে দারুল উলুম কলকাতায় শিক্ষকতা করতেন।

তিনি যখন ঘটনাস্থলে আসলেন তখন লোকজন তাকে তাঁর উস্তাদের অবস্থা জানালেন। তা শ্রবণ করার পর মাওলানা হোসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন এবং বলেছিলেন, “শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান রহঃ” আমাকে এ ব্যাপারটা কারো কাছে প্রকাশ করতে বারণ করেছিলেন। মাল্টার জেলে থাকা অবস্থায় ব্রিটিশরা আমার উস্তাদকে একাকী একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যেত। সেখানে তারা একটি রড যা গরম করে লাল করে রাখা হতো, তা তার কোমরে লাগিয়ে বলতো, “মাহমুদুল হাসান” ! ব্রিটিশদের পক্ষে একটি ফতোয়া দিয়ে দাও। এ নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে উনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। কিন্তু যখনই জ্ঞান ফিরে পেতেন, তখন তিনি ঈমান্দীপ্ত কণ্ঠে বলতেন- “ব্রিটিশরা শোন ! আমি হলাম বিলাল রাঃ এর উত্তরসূরি, আমার শরীরের চামড়া গলে পড়ে যেতে পারে , কিন্তু আমি কখনোই ব্রিটিশদের পক্ষে ফতোয়া দেব না।”