ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমার কথায় কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী: অবশেষে ভুল স্বীকার ফিরহাদ হাকিমের

ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমার কথায় কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী: অবশেষে ভুল স্বীকার ফিরহাদ হাকিমের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: সপ্তাহখানেক আগে গত রবিবার কোলকাতায় চেতলায় এক বৌদ্ধদের সভা শেষে সাক্ষাৎকারে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করেন যে হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্মে হিংসা আছে, পৃথিবীতে একমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে বৌদ্ধধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তুষ্ট করতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম রুষ্ট করে ফেলেছন হিন্দু ও মুসলমানদের! রবিবার ঐ অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি হিংসার জন্য হিন্দু এবং ইসলামবাদীদের দায়ী করেন! তাঁর এহেন আলটপকা মন্তব্যে বেজায় ক্ষুব্ধ হিন্দু এবং মুসলমানেরা ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একটা বড়ো অংশ।

নিজে একজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়ে শান্তির ধর্ম ইসলাম নিয়ে এমন মন্তব্যে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন মন্ত্রী। অবশেষে এক সপ্তাহ পার করে একরকম ভুল স্বীকারের সুরে তিনি টুইট করে বলেন “আমি সকল ধর্মকে সম্মান করি এবং আমার কথায় কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এটা বলতে চাইনি, আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আমার ধর্ম ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং আমাকে মানবতা ও অন্য সকল ধর্মকে সম্মান করতে শেখায়।”

ঐ সভায় মন্ত্রীমশাইয়ের এহেন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যে বেজায় চটেছেন হিন্দু এবং মুসলমানেরা। নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে হিন্দুধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তি বলেন, হিন্দুত্ববাদ কিংবা ইসলামবাদ কোনও ধর্মই হিংসার কথা বলে না। বলে শান্তির কথাই। কিছু কট্টরপন্থী মানুষ হিংসার আশ্রয় নেয়। স্বাভাবিকভাবেই কলঙ্কিত হয় তাদের ধর্ম।

ইসলামবাদও হিংসার কথা বলে না বলেই দাবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। তাঁরও দাবি, কট্টরপন্থীরাই ধর্মের নামে বপন করে হিংসার বীজ। সেজন্য ধর্ম কোনওমতেই দায়ী হতে পারে না। এঁদের দাবি, সস্তা রাজনীতি করতে গিয়েই মন্ত্রী এসব বলেছেন। তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মুসলিম বিরোধী বৌদ্ধ ভিক্ষু আশিন উইরাথুরের কথা। গোটা বিশ্ব তাঁকে চেনে ‘দ্য ফেস অব বুদ্ধিস্ট টেরর’ নামে। আবার অনেক নেটিজেনের বক্তব্য ফিরহাদ বাবু কী মায়ানমারে বৌদ্ধদের দ্বারা রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার কথা ভুলে গেছেন!