১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন: জাতীয় যুব দিবস

১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন: জাতীয় যুব দিবস

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: আমরা জানি ১২ ই জানুয়ারি দিনটি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তার প্রকৃত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ডাক নাম নরেন। নরেন থেকে স্বামী বিবেকানন্দ এর বিরাট চড়াই-উৎরাই পথ। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনকে সামনে রেখে যুব দিবসের দিন ধার্য করা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ একজন বিখ্যাত আদর্শবান পুরুষ, যিনি জাতির যুবকদের কাছে এক অনুপ্রেরণা মূলক ব্যক্তিত্ব।

 

আমরা সকলেই জানি স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তাঁর পৈত্রিক বাসভবনটি রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউটের সদরদপ্তর। বিবেকানন্দের পিতা ছিলেন বিশ্বনাথ দত্ত এবং তার পিতামহের নাম দুর্গাচরণ দত্ত,মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। যিনি মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। স্বভাবতই বিবেকানন্দের কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ আশ্চর্যের ছিলনা।

 

তখন ১৯৮৪ সাল, দেশের প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সেই বছর ১২ই জানুয়ারীকে জাতীয় যুব দিবস হিসাবে পালন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ঠিক তার পরের বছর ১৯৮৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

বিবেকানন্দ একটি বিশেষ আদর্শ ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী করতেন, যা অতীন্দ্রিয়বাদ(Transcendentalism) নামে পরিচিত। সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মমানের সাথে, এমন এক ধরনের দর্শন, যা প্রকৃতির বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ গুলোকে প্রশ্রয় দেয় না। বরং প্রকৃতির বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ গুলোকে প্রতিবাদ করে। এই আন্দোলন প্রকৃতিকে ভালবাসতে শেখায়, সম্মান দেখাতে শেখায়, যা পার্সোনাল আধ্যাত্বিক জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে ধ্বংস করার থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রকৃতিকে এক বিশেষ সম্মানীয ও শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। প্রকৃতির উপর ভালোবাসার আচরণ করা উচিত বলে তিনি মনে করতেন।

 

১৮৯৩ সাল বিশ্বধর্ম মহাসভা চলছে আমেরিকার শিকাগো শহরে। আজীবনের অভিজ্ঞতা, বেদ বেদান্ত দর্শন এবং নিজের অনুভূতির কথা বিশ্ববাসীর কাছে তাদের সামনে তুলে ধরলেন তুলে ধরেন। ভারতবর্ষের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন, মানুষের হাহাকার, মানুষের যথার্থ চাহিদার আকুতিকে, প্রেম, ভালোবাসা, সহানুভূতি, মান মর্যাদা। মুগ্ধ হল সারা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক এই মহাসভায় উজ্জ্বল হয়ে থাকল ভারতবর্ষের মানুষের জয় গান।

 

বিবেকানন্দের কর্মজীবন মাত্র ৩৯ বছরেই(১৮৬৩-১৯০২) পরিসমাপ্তি হয়েছিল। এই স্বল্প বয়সের মধ্যেই তাঁর আদর্শ, তাঁর তেজ, তাঁর জ্যোতি ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। তাঁর নিজের হাতে তৈরি রামকৃষ্ণ মিশন, বেলুড় মঠ। জাতীয় যুব দিবস কেবল ১২ জানুয়ারি নয়, বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জীবনযাত্রায়, চলনে-বলনে, কর্মে এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, জুড়ে যাক, জুড়ে থাক জাতীয় যুব দিবসের জীবনাদর্শ ও মূল্যবোধের জীবনচরিত।