২৬ জুলাই ঐতিহাসিক কার্গিল বিজয় দিবস: শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

২৬ জুলাই ঐতিহাসিক কার্গিল বিজয় দিবস: শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: প্রত্যেক বছর ২৬ জুলাই পালন করা হয় কার্গিল বিজয় দিবস, এটা এমন একটা দিন যেদিন ভারতের বীর সৈনিকরা জাতির জন্য লড়াই করে বীরত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে শহিদ হয়েছিলেন

কারগিলে ভারতের জয়ের দু’দশক পার। পাক সেনাদের হঠিয়ে কারগিল তেরঙ্গা উড়িয়েছিলেন দেশের বীর জওয়ানরা। তবে তার জন্য আহুতি দিতে হয় বহু প্রাণ। দিনটিকে স্মরণ করে পালন করা হচ্ছে কারগিল বিজয় দিবস। শহিদ জওয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করতে রবিবার সকালে মন কি বাতে সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

১৯৯৯ সালের এই দিনেই ভারতীয় সেনাবাহিনী সফলভাবে ‘অপারেশন বিজয়’ সম্পন্ন করে। জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ১৯৯৯ সালে ৩ মে যুদ্ধ শুরু হয় এবং শেষ হয় ২৬ জুলাই । লড়াই চলে মোট ২ মাস তিন সপ্তাহ ২ দিন। যদিও ১৪ জুলাই অটলবিহারী বাজপেয়ী ‘অপারেশন বিজয়’-এর সাফল্য ঘোষণা করেছিলেন।

১৯৯৯ সালের ‘কারগিল যুদ্ধ’ বলা হয় প্রতিবেশী পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার চরম নিদর্শন। কারণ, সংঘর্ষের মাত্র দু’মাস আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী লাহোর সফর করেছিলেন। শীতে কাশ্মীর সীমান্তের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি নেমে যায়। ছাউনি ছেড়ে সেনারা সরে আসে। কারগিল যুদ্ধ যখন হচ্ছে, তখন ভারত-পাক দু’টি দেশই পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ। ১৯৭১-এর ‘মুক্তিযুদ্ধ’-র পর থেকে দীর্ঘকালীন শান্তি বজায় থাকলেও ১৯৯৮-এর মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশেরই পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পটভূমিকা রচিত হতে থাকে। যদিও, ১৯৭৪ সালে ভারত প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করে।

যুদ্ধে মোট ৪৫৩ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়। যুদ্ধবন্দির সংখ্যা ৮ জন। এই যুদ্ধে পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার সেনা পাঠায়। যুদ্ধ চলাকালীন দু’টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। আরও একটি ভেঙে পড়েছিল মাটিতে। এই যুদ্ধে কারগিলকে তাক করার নেপথ্যে পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য ছিল লাদাখ এবং কাশ্মীরের মধ্যে সংযোগ ছিন্ন করা। এবং এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে আসা, যাতে বিভিন্ন অজুহাতে তারা তাদের দখল সফল করতে অন্যান্য দেশের সাহায্য পায়। কিন্তু এমন কিছুই হয়নি। এমনকী, চিনও সাড়া দেয়নি এই যুদ্ধে।

এই দিন সকালে সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ট্যুইট করেছেন রাজনাথ সিং। তিনি লিখেছেন, ‘কারগিল বিজয়ের ২১তম বার্ষিকীতে আমি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সেই সাহসী সৈন্যদের স্যালুট জানাচ্ছি’।