১৯৪৮ সালের আজকের দিনে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী উগ্র হিন্দু মৌলবাদী নাথুরাম গডসের হাতে শহীদ হন

১৯৪৮ সালের আজকের দিনে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী উগ্র হিন্দু মৌলবাদী নাথুরাম গডসের হাতে শহীদ হন

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ৩০ জানুয়ারি ‘শহীদ দিবস’।১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী উগ্র হিন্দু মৌলবাদী নাথুরাম গডসের গুলিতে শহীদ হন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এক বিবৃতিতে জানান, ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে আজকের দিনেই বুকে বুলেট পেতে নিতে হয়েছিলো মহাত্মা গান্ধীকে।

তিনি আরো বলেন মহাত্মা গান্ধীর হত্যা কেবল একজন ব্যক্তির হত্যা ছিলো না। মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকান্ড প্রকারান্তরে ছিলো ভারতবর্ষের বহুত্ববাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে হত্যার একটা ধাপ।
সেই হত্যালীলা আজও চলেছে ভয়ঙ্কর মাত্রায়। মহাত্মা গান্ধী হত্যাকারীরা আজকের ভারতবর্ষে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মহাত্মার দেখানো পথেই তাঁর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শপথ নেওয়ার দিন আজ।

একজন অন্যতম ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা।গান্ধী ভারতে এবং বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা মহান আত্মা এবং বাপু (বাবা) নামে পরিচিত। ভারত সরকার সম্মানার্থে তাকে ভারতের জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করেছে । ২রা অক্টোবর তার জন্মদিন ভারতে গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।

তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের অবাধ্যতা ঘোষিত হয়েছিল। এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অহিংস মতবাদ বা দর্শনের উপর এবং এটি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি, সারা বিশ্বে মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকার পাওয়ার আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা।

১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় তিনি নতুন দিল্লীর বিরলা ভবন (বিরলা হাউস) মাঝে রাত্রিকালীন পথসভা করছিলেন। তার হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন একজন হিন্দু মৌলবাদী যার সাথে চরমপন্থী “হিন্দু মহাসভার” যোগাযোগ ছিল। “হিন্দু মহাসভা” পাকিস্তানিদের অর্থ সাহায্য দেবার প্রস্তাব করে ভারতকে দূর্বল করার জন্য গান্ধীকে দোষারোপ করে। গোডসে এবং সহায়তাকারী নারায়ণ আপতেকে পরবর্তীতে আইনের আওতায় এনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১৯৪৯ সালের ১৪ নভেম্বর তাদের ফাঁসি দেয়া হয়। নতুন দিল্লীর রাজঘাটের স্মুতিসৌধে আছে – “হে রাম” – শব্দ দুটিকে গান্ধীর শেষ কথা বলে বিশ্বাস করা হয়, অবশ্য এই উক্তির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে। জওহরলাল নেহরু রেডিওতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন:

বন্ধু ও সহযোদ্ধারা আমাদের জীবন থেকে আলো হারিয়ে গেছে এবং সেখানে শুধুই অন্ধকার এবং আমি ঠিক জানি না আপনাদের কী বলব, কেমন করে বলব। আমাদের প্রেমময় নেতা যাকে আমরা বাপু বলে থাকি, আমাদের জাতীর পিতা আর নেই। হয়ত এভাবে বলায় আমার ভুল হচ্ছে তবে আমরা আর তাকে দেখতে পাব না যাকে আমরা বহুদিন ধরে দেখেছি, আমরা আর উপদেশ কিংবা সান্ত্বনার জন্য তার কাছে ছুটে যাব না, এবং এটি এক ভয়াবহ আঘাত, শুধু আমার জন্যই নয়, এই দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য।”

গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী, তার দেহভস্ম বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান নদী যেমন: নীলনদ, ভোলগা, টেমস প্রভৃতিতে ডুবানো হয়। সামান্য অংশ ডঃ ভি এম নোলের (পুনের একজন সাংবাদিক ও প্রকাশক) পক্ষ থেকে পরমহংস যোগানন্দকে পৌছে দেয়া হয়। এরপর তার দেহভস্ম সেলফ রিয়ালাইজেশন ফেলোশিপ লেক স্রাইনের মহাত্মা গান্ধী বিশ্ব শান্তি সৌধে একটি হাজার বছরের পুরনো চৈনিক পাথরের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।