বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের সাহায্য নিতেই হবে মমতা ব্যানার্জির: অধীর চৌধুরী

বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের সাহায্য নিতেই হবে মমতা ব্যানার্জির: অধীর চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে বিজেপিকে রুখতে হবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই ‘উপায়’ বাতলে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। দাবি করলেন, মমতা অনুধাবন করেছেন যে এবার হেরে যাবেন। তাই কংগ্রেসের অন্তবর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর শরণাপন্ন হয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার চেষ্টা করছেন।

রবিবার নিজের খাসতালুক বহরমপুরের একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে অধীর দাবি করেন, রাজ্যপাট হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন মমতা। এমনকী নন্দীগ্রামও হাতছাড়া হওয়ার ভয় চেপে বসেছে মমতার মনে। সেই পরিস্থিতিতে নিজের কুর্সি বাঁচানোর জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে দরবার করেছেন। তৃণমূলকে হটিয়ে যাতে বাংলার মসনদে বিজেপি বসতে না পারে, সেজন্য মমতা কংগ্রেসের সাহায্য চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন অধীর।
এমনিতেই কংগ্রেসের হাইকমান্ড রাজ্যে প্রায় তিন দফা নির্বাচনের প্রচার কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত কেউ এসে পৌঁছায়নি পাশাপাশি আসাম এবং কেরলে তারা সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়াই করছে। রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের প্রচারে এসে বিজেপি বিরোধী তৃণমূলের ভোটে ভাগ বসাতে চাইছে না হাইকমান্ড এমনকি ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে বিজেপিকে রুখতে বিনা শর্তে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করবে।

এমনিতে বছর দশেক আগে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে পরবর্তীতে সেই কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়ে নিজের দলে নিয়ে কংগ্রেস দলটাকে একেবারেই পঙ্গু করে দিয়েছে মমতা ব্যানার্জি।

বরাবরই মমতা-বিরোধী অধীর তৃণমূলের সঙ্গে জোটের খুব একটা পক্ষে ছিলেন না। বিশেষত আসন ছাড়া নিয়ে আপত্তি ছিল অধীরদের। শেষপর্যন্ত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে আসনরফা হয়েছিল। নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীও হন মমতা। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই জোটে ভাঙন ধরে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই করেছিল কংগ্রেস। এবারও একইসঙ্গে লড়াই করছে বাম-কংগ্রেস।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, একুশের বঙ্গ নির্বাচনে মূল লড়াইটা হতে চলেছে তৃণমূল এবং বিজেপির। তা যেন খানিকটা স্বীকার করেই অধীর দাবি করেন যে একাকভাবে বিজেপিকে রোখার ক্ষমতা নেই তৃণমূলের। সেজন্য কংগ্রেসের সহায়তা প্রয়োজন মমতাদের। কীভাবে সাহায্য মিলবে, সেই ‘উপায়’ বাতলে দিয়েছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের ২২ টি আসন থেকেই তৃণমূলকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিতে হবে। সেইসঙ্গে বিজেপি রুখতে কংগ্রেসকে যাতে ভোট দেন, সেই প্রচারও মমতাকে করতে হবে বলে জানিয়েছেন অধীর।