ঠাকুরনগর ও ফুরফুরায় বিভেদ তৈরি করেছে মমতা: দেগঙ্গায় কৃষক আইন বিরোধী সভায় বললেন নওসাদ সিদ্দিকী

ঠাকুরনগর ও ফুরফুরায় বিভেদ তৈরি করেছে মমতা: দেগঙ্গায় কৃষক আইন বিরোধী সভায় বললেন নওসাদ সিদ্দিকী

আলি আকবর, বঙ্গ রিপোর্ট, দেগঙ্গা : মতুয়া সম্প্রদায়ের পূর্ণভূমি বনগাঁর ঠাকুরনগর ও মুসলিম সম্প্রদায়ের পূর্ণভূমি ফুরফুরা শরীফে বিভেদ তৈরি করছে মমতা ব্যানার্জি। উঃ ২৪ পরগনার দেগঙ্গাতে কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ও কেন্দ্র সরকারের কালা কানুন তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামায়াতের উদ্যোগে বেড়াচাঁপা শহীদুল্লাহ কলেজ থেকে দেগঙ্গা পর্যন্ত মিছিলের পর এক সভায় এই অভিযোগ করেন সংগঠনের সহ সম্পাদক পীরজাদা নওসাদ সিদ্দিকী।

তিনি বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সুকৌশলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে একজনকে সাংসদ করে দিয়েছিলেন, তারপর বিজেপি মমতা ব্যানার্জির দেখানো পথে আরো একজনকে সাংসদ করে দিল। যেখান থেকে জন্ম নিল বিবাদ, মতুয়াদের নিজেদের দাবি দাওয়ার জন্য জোরালো কন্ঠ আজ বিভেদে দূর্বল হয়ে পড়েছে। ঠিক সেরকম ফুরফুরা শরীফ থেকে যখন রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য জোরালো আওয়াজ উঠা শুরু হয়েছে ঠিক তখনি একজনকে নীল বাতির গাড়ি দিয়ে ফুরফুরা শরীফের জোরালো কন্ঠ দূর্বল করে দেওয়ার বিভেদের খেলায় মেতেছে। তবে বাংলার মানুষ মমতা ব্যানার্জির ভাইপোর জন্য তার তৈরি সমস্ত ফন্দি ও কৌশল ধরে ফেলেছে। তাই কেউ কেউ নিজের ভাইপোর বিরুদ্ধে গিয়ে মমতা ব্যানার্জির ভাইপোকে বাঁচাতে ময়দানে নেমেছে। কিন্তু আমরা আমাদের ভাইপো অর্থ্যাৎ আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য আমাদের অধিকারের আন্দোলন, লড়াই চালিয়ে যাবো। কোন অশুভ শক্তি আমাদের সেই লড়াইকে বন্ধ করতে পারবে না।

এদিন ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের দেগঙ্গা ব্লক কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সরকারের কালা কানুন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে লাঙল ট্রাক্টর নিয়ে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক মিছিলে হাঁটেন। মিছিলে বিজেপি সরকারের কৃষক নীতির কড়া সমালোচনা করে মোদি সরকারের বন্ধু আদানী আম্বানিদের সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। মিছিলের জন্য টাকি রোডে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচলে ব্যাহত হয়। তবে মিছিল চলাকালীন আসা প্রায় গোটা দশেক অ্যাম্বুলেন্সকে সুন্দরভাবে পথ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া নজর কেড়েছে এলাকার জনগণের। মিছিল চলাকালীন উল্টোদিক থেকে এসে পড়েন দেগঙ্গার বিধায়িকা রহিমা মন্ডলের গাড়ি। মিছিল দেখে দাঁড়িয়ে যায় রহিমা মন্ডলের গাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে বিধায়িকার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মিছিলকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ দেন পীরজাদা নওসাদ সিদ্দিকী। তিনি পরে বলেন- মিছিলে আগত কর্মীরা যাতে কোন প্ররোচনায় পড়ে স্থানীয় বিধায়কের প্রতি অভব্য আচরণ না করেন তাই আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মিছিলকে এগিয়ে দিলাম। আমরা কখনই কোন অবস্থায় শান্তি শৃংখলার প্রশ্নে আপোষ করি না।

এদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সম্পাদক পীরজাদা বায়জিদ আমীন, দেগঙ্গা ব্লক সভাপতি মুফতি আলা উদ্দিন, ব্লক সম্পাদক আব্দুল করিম সহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।