২০০৭ সালের ১৪ মার্চ: ফিরে দেখা ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম দিবস

    ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ: ফিরে দেখা ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম দিবস

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ। পূর্ব মেদিনীপুরের এক অখ্যাত গ্রাম উঠে এসেছিল গোটা বিশ্বের নজরে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের সামান্য এক কৃষক আন্দোলন ঘটিয়ে দিয়েছিল বাংলার ৩৪ বছরের বাম সরকারের পরিবর্তন।

    লাল রঙে লেখা সেই ইতিহাস ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ। ১৪ জন জলজ্যান্ত মানুষের মৃতদেহ আর অসংখ্য মহিলার ধর্ষিত শরীরের সাক্ষী ছিল সেদিনের নন্দীগ্রাম। ঘটনার সুত্রপাত অবশ্য হয়েছিল ২ জানুয়ারি। সেদিন তৃণমূল সমর্থিত কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সদস্যদের সাথে সিপিএম বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন ৬ জন। এরপর আন্দোলন তুলতে ১৪ মার্চ বিশাল পুলিশ বাহিনী নন্দীগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা বাধা দিলে শুরু হয় নির্বিচারে গুলি চালানো। সেদিন পুলিশের সঙ্গে সিপিএমের লোকজনও আক্রমণ চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাণ দিয়ে সেই আন্দোলন প্রতিহত করেছিল নন্দীগ্রামের মানুষ।

    শহরের রাজপথে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের
    তুলনা হয়েছিল জালিয়ানওয়ালাবাগের সঙ্গে নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী কঠিন প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। তিনি সেদিন নন্দীগ্রামে পুলিশি নৃশংসতার তুলনা টেনেছিলেন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। সেই সময় বাম সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন সমাজের সমস্ত স্তরের বিদ্বজনেরা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে থাকে সাধারণের মনে। বাংলায় রাজনৈতিক মসনদে পরিবর্তন হয়তো ঘটেছিল ২০১১ সালে। কিন্তু তার বীজ বপন হয়ে গিয়েছিল ২০০৭ সালের ১৪ মার্চেই।

    নন্দীগ্রাম পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। একটি বিশেষ সেজ নীতির আওতায় এই অঞ্চলে সরকার ইন্দোনেশিয়ার সালেম গোষ্ঠীকে একটি কেমিক্যাল হাব গঠন করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

    সবই হয়েছে। নন্দীগ্রাম দিবস হিসেবে আলাদা দিন চিহ্নিত হয়েছে। বিরাট শহীদ বেদি হয়েছে। তৎকালীন অনেক কর্মী, অধুনা নেতাদের বিশাল অট্টালিকার মতো বাড়ি হয়েছে(যা খোদ মমতাকেও ক্রুদ্ধ করেছে), কিন্তু নন্দীগ্রাম ক্ষতে কি প্রলেপ পড়েছে? প্রাণ আর মৃত্যুর ব্যবধান কতটা, কে জানে। তাও স্বজনহারা মানুষগুলোর কি আর মনের মধ্যে উঁকি দেয় না সেইদিন? অপরাধীদের অনেকেই আজ মুক্ত।