মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি: রাজ্যের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি: রাজ্যের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (ম্যাকাউট)। বিগত দুই দশক ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি তার উৎকর্ষ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, উচ্চ শিক্ষার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বিজ্ঞান এবং ম্যানেজমেন্ট, সমাজবিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা– সব ক্ষেত্রেই উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি, সমাজ উন্নয়নেও ম্যাকাউট কর্পোরেট সোস্যাল রেসপনসিবিলিটি-র আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

রাজ্য সরকার অনুমোদিত এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কলেজের সংখ্যা ২০০টিরও বেশি। এই কলেজগুলির ও ম্যাকাউটের নিজস্ব (ইন-হাউস) কোর্সের তালিকায় রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, আর্কিটেকচার, ম্যানেজমেন্ট, বিবিএ, বিসিএ, ফলিত বিজ্ঞানের মতো বিষয়। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে এই সব বিষয়ে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোর্সের মধ্যে রয়েছে: ইনফরমেশন টেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স, বায়ো-টেকনোলজি, বায়ো-ইনফরমেটিক্স, মেটিরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফরেনসিক সায়েন্স, ডিজিটাল হেলথ, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজনেস অ্যানালিটিক্স, সোশ্যাল অন্ত্রেপ্রেনরশিপ, ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম, মিডিয়া সায়েন্স, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি/অগমেন্টেড রিয়েলিটি, রোবটিক্স ইত্যাদি। এ ছাড়াও জিও-ইনফরম্যাটিক্স ও স্পেশিয়াল সায়েন্স, এগ্রো বায়ো-টেকনোলজি, বায়ো-রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, বায়ো-ইকোনমি সহ আরও বেশ কিছুর কোর্সের জন্য কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

নদীয়ার হরিণঘাটায় প্রায় ৪০ একর অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, যেটি সবুজে ঘেরা, পরিচ্ছন্ন। এই স্মার্ট ক্যাম্পাস থেকেই সমস্ত অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয় পেশাদার ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে নিজস্ব কোর্সে পঠন-পাঠন সম্প্রসারণ করছে। পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন, নতুন স্কুল অফ স্টাডিজ তৈরি, বিভিন্ন কেন্দ্র ও বিভাগ গঠন করা, প্রশিক্ষণের উপর জোর, অফ ক্যাম্পাস এবং স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস শুরু করা, ইত্যাদি পদক্ষেপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। লক্ষ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ানো ।

ম্যাকাউট বরাবরই শিক্ষার্থী এবং অধ্যাপকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অনলাইন পরিকাঠামো ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছে। ক্লাসরুমে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ফ্লিপড লার্নিং এবং মোবাইল লার্নিং টুলস। বিশ্ববিদ্যালয় তার অনুমোদিত কলেজগুলির জন্য বিভিন্ন বিষয়ের অনলাইন কোর্সের সংকলন প্রস্তুত করেছে। এই সব ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স বা মুকস থেকে শিক্ষার্থীরা ‘ক্রেডিট’ সংগ্রহ করতে পারে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়ার আগে থেকেই এই পথে হেঁটেছে ম্যাকউট।

বিদ্যালয় স্তর থেকেই পড়ুয়াদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং তাদের কেরিয়ার গড়ার ব্যাপারে দিশা দেখাতে চালু হয়েছে ‘স্কুল কানেক্ট প্রোগ্রাম’। পাশাপাশি, চালু হয়েছে ‘কলেজ কানেক্ট প্রোগ্রাম’। এই সব কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য পড়ুয়াদের গঠনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখা, যাতে তারা মানসিক অবসাদে না ভোগে। বিভিন্ন আলোচনা, প্রদর্শনী বা প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে পারে ম্যাকাউট অনুমোদিত কলেজ ছাড়াও যে কোনও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

ছাত্রছাত্রীদের সমাজ সচেতন করে তুলতে পাঠ্যক্রমের বাইরে বৃহত্তর কর্মকাণ্ডে তাদের যুক্ত করেছে ম্যাকাউট। এই উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে ম্যান্ডেটরি অ্যাডিশনাল রিকোয়্যারমেন্ট (এমএআর) কর্মসূচি, যা স্নাতক স্তরে ডিগ্রি পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক। সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক কাজ, সৃজনশীল রচনা, খেলাধুলো, নাচ-গান-আঁকা, পশুদের যত্ন নেওয়া, অনলাইন কোর্স, নিজের উদ্যোগ বা ব্যবসা গড়ে তোলা ইত্যাদি এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ম্যাকাউটের বিস্তৃত সবুজ ক্যাম্পাস নদিয়ার হরিণঘাটায় । অতিমারীর আবহে নতুন শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশে ফিরতে পারবে । তবে সুদিন ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকলে থমকে যাবে শিক্ষা ব্যবস্থা, পিছিয়ে পড়বে নতুন প্রজন্ম । আর এই নবীন ছাত্রছাত্রীরাই দেশ গড়ার কারিগর। তাই অনলাইন পঠন-পাঠনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ম্যাকাউট। ছাত্রছাত্রীদের প্রতিষ্ঠিত জীবনের পথে এগিয়ে দিতে কৃতসংকল্প ম্যাকাউট ।

আধুনিক শিক্ষাক্রম চালু করে পড়ুযাদের কর্মযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে অবিচল এই বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি, শিল্পোদ্যোগ গড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করো হয় শিক্ষার্থীদের। ম্যাকাউট প্রকৃতপক্ষেই শিক্ষার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করে চলেছে। এখন শিক্ষাক্রম তথা শিক্ষা প্রদান এবং শেখার ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ তৈরিতে ম্যাকাউটের পথনির্দেশন অবশ্যই ছাত্রছাত্রীদের সমৃদ্ধ করবে। প্রতিবেদন: আনন্দবাজার পত্রিকা