করোনায় মৃত সবধর্মের মানুষের শেষকৃত্য করছে তবলিগ জামায়াতের সদস্যরা

করোনায় মৃত সবধর্মের মানুষের শেষকৃত্য করছে তবলিগ জামায়াতের সদস্যরা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় তাবলিগি জামাতেরজমায়াত নিয়ে নানাবিধ বিতর্ক হয়েছিল৷ এই জমায়াতের ফলে করোনার প্রকোপ অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন অনেকে৷ যদিও পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এমন তথ্যের কোনও ভিত্তি নেই৷ এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন নাজেহার গোটা দেশ তখন জামাতে উপস্থিত মানুষ হাত লাগিয়েছেন সরাসরি করোনা মোকাবিলার কাজে৷ অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপতিতে করোনার ভাইরাসে মৃতদের শেষকৃত্যের কাজ করছেন তবলিগ জামায়াতের সদস্যরা।

এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিমারী চলাকালীন সাধারণ মানুষের সহাযার্থ্যে এবং সম্প্রদায় ও ধর্ম নির্বিশেষে কোভিডে মৃতদের শেষকৃত্য করছে এই কমিটি৷ এর জন্য তিরুপতি ইউনাইটেড মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে COVID-19 জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটিও তৈরি হয়েছে।

তাবলিগি জামায়াতের সক্রিয় সদস্য জেএমডি গউস জানিয়েছেন যে, গত বছর তাঁদের অতিমারী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বারবার কাঠগোড়ায় উঠতে হয়৷ তবে এবার যেভাবে তাঁরা নেমে পড়েছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায়, তাতে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তাঁরা৷ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ফলে দেশজুড়ে বিপর্যস্ত সকলে। হাসপাতালে বেড, অক্সিজেন এবং ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন করোনা আক্রান্ত এবং তাঁদের পরিবার। কোভিড -১৯ এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্মশান ঘাটের উপরও চাপ বেড়েছে।

এমন সঙ্কটের সময়ে তাবলিগি জামায়াতের সদস্যরা কোভিডে মৃতদের শেষকৃত্যে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন। গাউস বলেন যে, প্রতিদিন ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবীর সাথে সমন্বয় করে এই কাজ করছেন তিনি। গত একমাস ধরে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ টি মৃতদেহ শ্মশানে সৎকার করেছেন তাঁরা। গাউস আরও জানান, “প্রথম ধাপে খুব কম লোকের মৃত্যু হয়েছিল৷ যাঁদের মৃত্যু হয় তাঁরা বেশিরভাগ বয়স্ক মানুষ৷ তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখন কম বয়সিরাও মারা যাচ্ছেন।”

গাউস বলেন, ‘মৃত যদি হিন্দু হয় তবে আমরা একটি কাপড় এবং ফুলের মালা দিয়ে থাকি। যদি তারা খ্রিস্টান হন, তবে আমরা কফিনে দেহটি রাখি এবং প্রার্থনার জন্য গির্জার থেকে ফাদারকে ডেকে আনি। ক্ষতিগ্রস্থরা যদি মুসলমান হন তবে নামাজ পড়া হয়।