সাফুরা জারগারের পর মেধাবী ছাত্রী ফাতিমা: CAA বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অপরাধে জেলবন্দি

সাফুরা জারগারের পর মেধাবী ছাত্রী ফাতিমা: CAA বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অপরাধে জেলবন্দি

মেয়েটির নাম গুলাফশা ফাতিমা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করছিলেন। সব ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু মেয়েটি ‘অপরাধ’ করে বসেন। যদিও কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এটাকে অপরাধ বলা হয় না, কিন্তু ভারতে এটাই এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ। সেই অপরাধ হলো, সরকারের কোন নীতির বিরোধিতা করা।

২২ ফেব্রুয়ারি জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের কাছে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে কিছু বক্তব্য রেখেছিলেন ফাতিমা। বেচারি হয়তো ভেবেছিলেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশের এক সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকারের ভ্রান্ত নীতির প্রতিবাদ করা তাঁর অধিকারের মধ্যে পড়ে। কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে, এদেশে মুসলমান হওয়াটাই হয়তো সবচেয়ে বড় অপরাধ। যেমন তিনি। ডাক্তার কাফিল খানও প্রতিবাদ করে অপরাধ করেছিলেন। যার দরুন তিনি আজও জেলের কুঠুরিতে অসহায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগের সময়কে সুযোগে পরিণত করার নীতি অনুসারে ৯ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় ফাতিমাকেও। পূর্বদিল্লিতে দাঙ্গা ছড়ানোর অভিযোগ আরোপ করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। মামলা করা হয় ইউপিএ নামের কালাকানুন অনুসারে। জি হ্যাঁ, সফুরা জারগরের বিরুদ্ধেও ইউপিএ অনুসারে কেস করা হয়েছিল। সন্তানসম্ভবা হওয়ার কারণে দিন কয়েক আগে, দেশজোড়া প্রতিবাদের মুখে, তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দিল্লি দাঙ্গার অভিযোগে মিরন হায়দারসহ গ্রেফতার করা হয়েছে অন্য বারোজনকেও।

দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের বক্তব্য, নেতাদের উস্কানিমূলক ও উত্তেজক ভাষণের কারণে এবং পরিকল্পিত পন্থায় দিল্লিতে দাঙ্গা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করছে ছাত্র-ছাত্রীদের, আর ঘুরে বেড়াচ্ছে কপিল মিশ্রর মতো শ্বাপদেরা।

গুলাফশা ফাতিমা এখনও জেলে আছেন। এখন তাঁর লড়াই মানে আমাদের সকলের লড়াই। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের লড়াই। সচেতন নাগরিকদের লড়াই। পথে নেমে সবাই বিক্ষোভ দেখাতে না পারলেও, আওয়াজ তুলতে পারি সোশ্যাল মিডিয়াতে। দিকে দিকে আওয়াজ উঠুক : গুলাফশা ফাতিমার মুক্তি চাই।