মোদী গনতন্ত্রের ধার ধারেন না: মনুবাদী রাজতন্ত্রের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হয়ে গেল ৫ আগস্ট

মোদী গনতন্ত্রের ধার ধারেন না: মনুবাদী রাজতন্ত্রের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হয়ে গেল ৫ আগস্ট

কলমে: অধ্যাপক ইমানুয়েল হক

প্রথম দিন কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে লক ডাউন। আর, ৫ই অগাস্ট সারা দেশজুড়ে হাফ কাশ্মীর।
মোদি গণতন্ত্রের ধার ধারেন‌ না। নিজের তৈরি নিয়ম তো মানবেন? করোনা রোগীর কাছে এলে ১৪ দিন নিভৃতবাস/ঘরবসত/ কোয়ারেনটাইন নিয়ম। আর কোথাও করোনা রোগী এক বা একাধিক মিলল সেখানে ১৪ দিন প্রবেশ নিষেধ। এটাই আইন।‌ এটাই নিয়ম।

কিন্তু কী করেছেন ?
অমিত শাহ টুইট করে বলেছিলেন, আমার সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কোয়ারেনটাইনে যান।
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাও মানলেন না।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছিলেন অমিত শাহ।
তিনি বেসরকারি মেদান্তা হাসপাতালে গত ৩ আগস্ট ভর্তি হয়েছেন।
পরদিন ৪ আগস্ট ওই একই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি তৈলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
নিয়ম অনুযায়ী গোটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সব সদস্যের নিভৃতবাস/ ঘরতবাস করা উচিত ছিল। কোয়ারেন্টাইনে থাকা জরুরি ছিল।

আইসিএমআরের তৈরি নিয়ম কোথাও করোনা হলে সেই জায়গা সিল করে দেওয়া। কন্টেইমেন্ট জোন ঘোষণা করা।
উত্তরপ্রদেশের নয়া রামমন্দিরের প্রধান পুরোহিতসহ ২৬ জন আক্রান্ত। সেটা কেন আটকানো হলো না ? সেখানে যাওয়া কি বেআইনি নয় ? নিজামউদ্দিনে করোনা রোগী পাওয়ায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। উপস্থিত প্রত্যেকের নামে এফআইআর করা হয়। বহুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের ৮০ জন অতিথিকে সীমান্ত থেকে ফেরৎ পাঠানো হয়েছিল। দেশে ফেরত যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁরা করোনা রোগীও নন, তবু।
বলা হয়, দিল্লিতে তাঁদের নামে এফআইআর আছে। তাঁদের বহু পয়সা খরচ করে দিল্লি যেতে বাধ্য করা হয়।

এটা মনুবাদী রাজতন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র হলে এক দেশ দুই আইন হয় না।
দেশে কথায় কথায় লোকে জনস্বার্থ মামলা করেন, একজন আইনজীবীও পাওয়া গেল না– তিনি প্রশ্ন‌ করবেন– এটা অন্যায়। স্থগিত হোক। বিচারের ফল জানা হোক ! কিন্তু, নথিবদ্ধ হলে তো হতো প্রতিবাদ। এই ফেসবুকে লেখা– জলে আঁক কাটা।