নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে পিছু হটছে মোদি সরকার! সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নোটিফিকেশন জারি করতে পারল না

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে পিছু হটছে মোদি সরকার! সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নোটিফিকেশন জারি করতে পারল না

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: পেরিয়ে গেল ৯ জানুয়ারির শেষ সময়সীমাও। কিন্তু তারপরেও সিএএ নিয়ে কোনও নোটিফিকেশন জারি করল না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে জানতে চেেয়ছে লোকসভা ও রাজ্যসভার সংসদীয় কমিটি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এর আগে ২ বার সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়েছে। তাতে পর পর ২ বার তার অনুমোদন দিয়েছিল সংসদীয় কমিটি। কিন্তু তারপরেও তার নোটিফিকেশন জারি করা হয়নি।

মোদী সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই প্রথম নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করে। তারপরেই গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। উত্তর পূর্বের রাজ্য থেকে শুরু করে দক্ষিণের তামিলনাড়ু সর্বত্র বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছিল। রাজধানী দিল্লিতে তো প্রায় দীর্ঘ ১ বছর ধরে চলেছে সিএএ বিরোধী আন্দোলন। এই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই আইন সংসদে পাস হলেও এখনও গোটা দেশে কার্যকর হয়নি। এক প্রকার এই আইন নিয়ে চুপ করে গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আগের মতো আর বিজেপি বা মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা নেই, ইতিমধ্যে আন্দোলনের চাপে কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। করোনা মহামারী দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে বিড়ম্বনায় ফেলেছে সরকারকে। সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করতে কোনমতেই সাহস পাচ্ছে না মোদি অমিত শাহরা। শেষমেষ পিছু হটার সম্ভাবনা প্রবল।

একের পর এক দিন পিছিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। গতবছর পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের জন্য নাগরিকত্ব আইন নিয়ে নোটিফেশন জারি করেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তাতে প্রথমে ২০২১ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয় সময়। তারপরে আবার ৯ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা নিয়ে ৩০ নভেম্বর শেষ বিবৃতি দিেয়ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তারপরে আর এই নিয়ে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনও কথা বলা হয়নি। সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে এখনও তা কর্যকর করার নোটিস জারি করেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি জাির ৬ মাসের মধ্যে তা কার্যকর করতে হয়।