মুসলিমদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই: মুসলিম নেতৃত্বকে ঠেকানোর দায় এদের

মুসলিমদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই: মুসলিম নেতৃত্বকে ঠেকানোর দায় এদের

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার মুসলিমদের মধ্যে শুধু সঠিকভাবে ইসলাম, গণতন্ত্র, আধুনিকতা প্রভৃতির ব্যাখ্যা জানা আলেম-উলামা, নেতাদেরই অভাব নয়, এই মুহূর্তে উপর-নিচ সবেই নির্ভীক ও স্পষ্টবাদী কন্ঠেরও অভাব। ধর্ম, রাজনীতি সব ময়দানেই বিক্রি হয়না, বন্ধক নেওয়া যায়না এমন আওয়াজেরও অভাব।

রাজ্যসভা-বিধানসভার টিকিট-মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আগে যে কওম দরদিটি শহীদ মিনারে মাইকের সামনে , সম্পাদকীয় কলামে সবপ্রকার জুলুমের বিরুদ্ধে মুখ খুলত, এখন সে তখনই মুখ খোলে যখন দলের নির্দেশ আসে স্বজাতির কোনো নেতা, ইমাম বা বক্তাকে গালি দিতে হবে। এই সমালোচনাগুলো অন্য সময় হয়না কেন ? দলের প্রয়োজনে মিডিয়ার সামনে রসালো বাইট দেয়া ছাড়াও এইসব পিরজাদার,বক্তার, উম্মাহর হাজারো বিচুত্যির ইসলাহ করে প্রবন্ধ, বইপত্র লেখা যায়না কেন ? এত তেল মেরেও যখন সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী হওয়া গেল, তখন আবার বেচারা দেখে মুসলিম ইস্যু ছাড়া ( তাও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী) অন্য কোনো কিছুই মুখ খোলার অনুমতি নেই ! অধিকার নেই একটু প্রশ্ন করার যে ,ক্যা-র ভোটের দিন দলের এতগুলো সাংসদ অনুপস্থিত কেন, ভূমিপূজনের ব্যাপারে সচেতন নীরবতা কেন ! একেকজনের পুরো টার্ম পার হয়ে যায় এই প্রমান করতেই যে সে মৌলবাদী না, অথবা নিজে মন্ত্রী হয়েও দলের জেলা নেতৃত্বর কাছে কোণঠাসা হয়েই ৫ বছর কাটে ।

এই ‘সরকারি মুসলিম’-রা কিন্ত রাজ্যের মুসলিমরা হাজারটা পার্ক-সার্কাস, বহরমপুর, জঙ্গিপুর ধর্ণা মঞ্চ করলে তখন গেল গেল, বিজেপি এল এল রব নিয়ে ময়দানে নামে না, অথচ ওই মুসলিমরা একটা রাজনৈতিক সভা-প্রয়োগ কিছু করলে বা একটু ওসব নিয়ে ভাবলেই প্রভুর দেয়া ‘বিজেপি এসে যাবে’ নোটস-সাজেশন পড়ে জনসমক্ষে ব্যক্তিগত সেকুলারিজম উদ্গীরণ করে ! মাস পলটিক্স যতই কর, পাওয়ার পলিটিক্স করতে এস না , এটা আমাদের বামুন মনিবদের পৈতৃক সম্পত্তি — বার্তা এটাই তো ?

এবার কথা হল, যারা এখনও নেতা হননি ফেসবুকের ওয়েটিং রুমে স্বপ্নের বিরিয়ানি নিয়ে বসে, তাদের নিয়ে। শহীদ মিনারে কোনও জনসভা না করে, খবরের কাগজ বের না করে, বিডির মালিক না হয়ে– টাকা-জনবল ব্যতিরেকেই যাঁরা শুধু সামাজিক মাধ্যমে ক্রিস গেইল সুলভ ব্যাটিং করে প্ৰতিনিয়ত রাজনৈতিক দলগুলোর পার্টি-কাঠামোয় অনেক নীচে থাকা, সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ স্বঘোষিত সিলেক্টরদের নজরে পড়তে উদগ্রীব,একটা স্বজাতির কাউকে ঠুকে পোস্ট দিয়েই ভাবছেন তাঁদের পারফরম্যান্সগুলো বোর্ড প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করা হচ্ছে–তারা কল্পিত স্বর্গরাজ্যতে নেই তো ? এপ্রিল মাসের টেস্ট সিরিজের জন্য যখন ২৯৪ জনের টিম-স্কোয়াড ঘোষণা হবে, তা থেকে বাদ পড়বে নাতো ? (দলে ছিলই-বা কবে যে বাদ পড়বে !) বিজেপিকে হারিয়ে যদি এই স্বঘোষিত সেকুলার দলগুলো সত্যি জেতে, তখন সেখানে ‘আমায় একটু জায়গা দাও মায়ের মন্দিরে বসি’ গেয়ে গেয়েও দেখা গেল কোথাও কোনও চেয়ার ছাড়া হয়নি, হলেও ওই সংখ্যালঘু কমিটিগুলোতেই ? নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব, বিক্রি হতে উদগ্রীব না হওয়া কলম-কন্ঠ, দ্বীন ও দুনিয়ার সহি সমঝওয়ালা আলেম–অনেক কিছুরই অভাব এই বাংলায়। সবচেয়ে বড় অভাব– রং না দেখে যে আলেম-উলামা-দাদা-দিদি কাউকেই প্ৰশ্ন করতে দ্বিধা করবে না –রাজা, তোর কাপড় কোথায় ? আলেম, তোর ইলম কোথায় ? নেতা, তোর সাহস কোথায় ? সবচেয়ে উত্তম জিহাদ তো জালিমের বিরুদ্ধে হক কথা বলা, তাইনা ?

লেখা: অধ্যাপক ডঃ আব্দুল মাতিন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়