নন্দীগ্রামে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে মাছের ভেড়ি! দখলদার প্রভাবশালী নেতার তাণ্ডবে ঘরছাড়া মোতওয়াল্লী

নন্দীগ্রামে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে মাছের ভেড়ি! দখলদার প্রভাবশালী নেতার তাণ্ডবে ঘরছাড়া মোতওয়াল্লী

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ছিল চাষযোগ্য জমি, আর সেই জমিকে মাছের ভেড়িতে পরিণত করার অভিযোগ উঠল এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থানা এলাকার সেখ শুকুরুল্লাহ ওয়াকফ স্টেটের এই জমি। জমির পরিমাণ ২ একর ২৮ ডেসিমেল, ইসি নাম্বার ১১৬৮৪, মৌজা পার্বতীপুর, দাগ নাম্বার ৫৫, জে এল নাম্বার ১৮৭।

গত পাঁচ বছর ধরে ওয়াকআপ বোর্ড, আদালত, স্থানীয় থানায় ঘুরে ঘুরে চাষযোগ্য জমিকে ভেড়িতে রুপান্তর করার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারেনি মোতওয়াল্লী শেখ এনামুল হক। বর্তমানে প্রাণের ভয়ে গ্রাম ছাড়া রয়েছেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখে এনামুলকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার অর্ডার হলেও এক প্রভাবশালী নেতার অঙ্গুলি হেলনে স্থানীয় থানা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ আইনজীবী আব্দুর রাকিবের।

মতোয়াল্লী শেখ এনামুল হক বলেন তার দাদু সেখ শুকুর উল্লাহ মোহাম্মদ বাংলা সন তেরোশো কুড়ি সালের কুড়ি আষাঢ় তার সমস্ত সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। সব মিলিয়ে ৯ একরের কিছু বেশি জমি ওয়াকফ করেন। কিন্তু স্থানীয় শেখ গোলাম মোস্তফা ও সেখ তোয়াক্কাল জমিতে থাকা গাছগাছালি জোর করে বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই দুই ব্যক্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা শাহনাওয়াজের কাছে বিক্রি করে। ২ একর চাষ যোগ্য জমিকে ভেড়িতে পরিণত করেছে শাহনওয়াজ খান। শেখ এনামুল হক অভিযোগ করেন ওয়াকফ বোর্ডে এনরোলমেন্ট রয়েছে সমস্ত সম্পত্তি মসজিদের নামে কিন্তু জোর করে দখল করে মাছের ভেড়ি তৈরি করছে এ অভিযুক্তরা।

তাঁর আরো অভিযোগ পুলিশের কাছে গত কয়েক বছর ধরে বারবার আবেদন করা হয়েছে কিন্তু প্রশাসন এখনও নীরব। এই সম্পত্তিকে রক্ষা করার জন্য জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের সিইও, নন্দীগ্রাম থানার ওসিকে গত বছরের ১৬ ই আগস্ট চিঠি দেওয়া হয় কিন্তু কোন লাভ হয়নি। গত ৯ ডিসেম্বর রাজ্য ওয়াকফ ট্রাইবুনাল অর্ডার দেয় শেখ এনামুল হক এই সম্পত্তির মতোয়াল্লী, তার কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করলে প্রশাসন তাকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করবে কিন্তু জেলা প্রশাসন ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের অর্ডার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বরং দখলদারদের হয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ দিচ্ছে। ফলে প্রাণের ভয়ে তিন ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে মোতওয়াল্লী। এর আগেও দখলদাররা একবার তার ঘরবাড়ি ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ।

এই মামলার আইনজীবী আব্দুর রাকিব বলেন ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ৩২/২১। গত ৯ ডিসেম্বর মামলার অর্ডার দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। এক মাস পার হলেও প্রশাসন এখনো নির্বিকার। দখলদারদের হোম হুমকিতে বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়েছেন ওই মোতওয়াল্লী।

রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল গনি বলেন ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আর এজন্য তার সঙ্গে শীঘ্রই দেখা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানাবো। মুখ্যমন্ত্রী নিজেরই চান ওয়াকফ সম্পত্তি গুলো সংরক্ষন করা হোক। কিন্তু কিছু অসামাজিক মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বেআইনিভাবে ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে বাড়ি ও ভেড়ি তৈরী করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান। কিছু মানুষ এই সম্পত্তি বিক্রি কিংবা জোর করে দখল করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চেয়ারম্যান জানান।
প্রতিবেদন: পুবের কলম(আব্দুল ওদুদ)