শতবর্ষের দোরগোড়ায় নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা

শতবর্ষের দোরগোড়ায় নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা

আবু রাইহান

২০২১ সালে নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শততম বছর পূর্ণ হবে। এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি নজরুলকে তাঁর কবি-জীবনের শুরুতেই খ্যাতির চরম শিখরে নিয়ে যায়। নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরও অনেক কবিতা লিখলেও শুধু এক ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের ‘বিদ্রোহী কবি’। এরকম অসাধারণ শব্দচয়ন, স্বতন্ত্র ভাষারীতি ও অভিনব ছন্দের গাঁথুনিতে রচিত বিদ্রোহ-দৃপ্ত, রুদ্ররোষে বলীয়ান কবিতা বাংলা সাহিত্যে আর একটিও নেই। এমনকি বিশ্বসাহিত্যেও এর তুলনা খুঁজে পাওয়া ভার।প্রথম মহাযুদ্ধ সবেমাত্র শেষ হয়েছে।

ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে নজরুল রচনা করেন তাঁর কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’।কলকাতার তালতলা লেনের ৩/৪ সি বাড়িটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার আঁতুড়ঘর।সুনির্দিষ্টভাবে সেই তারিখ জানা না গেলেও ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখা হয়েছে ১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা মুজফফর আহমদ তাঁর ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’ গ্রন্থে লিখেছেন,কলকাতার তালতলা লেনের ৩/৪ সি পুরো বাড়িটি পশ্চিমগাঁর নওয়াব ফয়জুন্নিসা চৌধুরানীর নাতিরা ভাড়া নিয়েছিল। বাড়ির নিচতলার দক্ষিণ-পূর্ব ঘরটি তাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন।মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে নজরুল তালতলা লেনের ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন।১৯২০ সালে ঊনপঞ্চাশ নম্বর বাঙালি পল্টন ভেঙে গেলে নজরুল তাঁর সৈনিক জীবন সমাপ্ত করে ফিরে এসে কলকাতায় প্রথমে সতীর্থ কথাসাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের বাসায় উঠেছিলেন! সেখানে কয়েক দিন থেকে আরেকটি বাসস্থানে, পরে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে মুজফফর আহমদের বাসায় এসে উঠেছিলেন।মুজফফর আহমদের সঙ্গে নজরুল একত্র বসবাস করেছেন আরও কয়েকটি বাসায়!শেষে ৩/৪ সি তালতলা লেনে। মুজফফর আহমেদ তাঁর নজরুল স্মৃতিকথা গ্রন্থে লিখেছেন, ‘এই ঘরেই কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর “বিদ্রোহী” কবিতা লিখেছিল।“বিদ্রোহী” কবিতার আমিই প্রথম শ্রোতা।’ মুজফফর আহমদ জানিয়েছেন, নিজের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই কবিতাটি শুনে তিনি কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। এতে নজরুল মনে মনে আহত হয়েছিল নিশ্চয়।আমার মনে হয় নজরুল ইসলাম শেষ রাত্রে ঘুম থেকে উঠে কবিতাটি লিখেছিল। তা না হলে এত সকালে সে আমায় কবিতা পড়ে শোনাতে পারত না।

তাঁর ঘুম সাধারণত দেরীতেই ভাঙত, আমার মতো তাড়াতাড়ি তাঁর খুব ভাঙত না।’ মুজফফর আহমদ জানিয়েছেন, নজরুল সম্ভবত প্রথমে কবিতাটি পেনসিলে লিখেছিলেন।কবি কাজী নজরুল ইসলাম দোয়াত-কলমে কবিতা লিখতেন। দোয়াতের কালিতে বার বার কলমের নিব চুবিয়ে তিনি কবিতা, গল্প, গান লিখেছেন। কিন্তু কালজয়ী বিদ্রোহী কবিতা লিখেছেন পেনসিল দিয়ে।কবিতা লেখার জোশ একেবারে পরিপূর্ণ রাখার জন্যই নজরুল পেনসিল ব্যবহার করেছিলেন। বার বার দোয়াতে কলম চুবিয়ে লিখলে জোশ হারিয়ে যাবে, কবিতার সুর-তাল কেটে যাবে সম্ভবত এই আশঙ্কা থেকেই নজরুল পেনসিল দিয়ে কবিতাটি লেখেন। মাত্রাবৃত্ত মুক্তকছন্দে কবিতাটি লিখে নজরুল দুনিয়া কাঁপিয়েছেন। কবিরা বলে থাকেন, ‘কবিতার প্রথম লাইন স্বর্গ থেকে আসে। এরপর কবি স্বর্গের সেই লাইন সাজিয়ে কবিতাকে পূর্ণপ্রাণ করেন।’ এক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করেছি, নজরুল তাঁর বিদ্রোহী কবিতার প্রথম স্তবক মহাকাশ থেকে নিয়ে সাজিয়েছেন, ‘মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি/চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি/ভ্যুলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া/খোদার আসন আরশ ছেদিয়া/উঠিয়াছি চির বিস্ময়, আমি বিশ্ব বিধাত্রীর।’ নজরুল মহাবিশ্বের মহাকাশ, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, ভ্যুলোক, দ্যুলোক ভেদ করে খোদার আসন ‘আরশ’ অতিক্রম করে বিদ্রোহী হয়েছেন। নজরুলের আগে পৃথিবীতে এমন বিদ্রোহীর কোনো উত্থান ঘটেনি।

মুজফফর আহমদ বলেছেন, ‘বিদ্রোহী’ প্রথমে সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় ছাপা হয়েছে (১৯২১ সালের ৬ জানুয়ারি, ২২ পৌষ ১৩২৮ বঙ্গাব্দ)! ‘বিদ্রোহী’ প্রথম ছাপানোর সম্মান বিজলীরই প্রাপ্য। এ কথা অবশ্য ঠিক যে ‘মোসলেম ভারতে’ প্রকাশের জন্য নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতা সম্পাদক আফজালুল হককে প্রথমে দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘মোসলেম ভারতে’র কথিত সংখ্যাটি বের হতে দেরি হয়ে গিয়েছিল।’ কবিতাটি প্রকাশ হওয়া মাত্র এমনই জনপ্রিয় হয় যে, একই সপ্তাহে প্রকাশক পত্রিকাটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে। দু’বার মিলিয়ে পত্রিকাটি ঊনত্রিশ হাজার কপি ছাপতে হয়েছিল পাঠক-চাহিদা মেটাবার জন্যে। এরপর মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার কার্তিক সংখ্যায় (১৩২৮ বঙ্গাব্দ ) ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি আবারও ছাপা হয়। একই বছর এটি মাসিক ‘প্রবাসী’ এবং মাসিক ‘বসুমতী’ এবং পরের বছর (১৩২৯ বঙ্গাব্দ) মাসিক ‘সাধনা’য় পূনঃপ্রকাশিত হয়।‘বিদ্রোহী’ কবিতার এই পূনঃ পূনঃ প্রকাশনা তখনকার সময়ে পাঠক ও প্রকাশকের মধ্যে এর তুমুল জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে। বস্তুত এই কবিতার জন্ম বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত সাড়া জাগানো ঘটনা।ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্তির জন্য নজরুলের কবিতার ইংরেজি অনুবাধ করিয়েছিল। কবিতাগুলোর মধ্যে ‘বিদ্রোহী’ও ছিল।
১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’য় ‘বিদ্রোহী’টি আরও বারোটি কবিতার সাথে স্থান পায়।‘অগ্নিবীণা’ এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে প্রকাশের সাথে সাথেই এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে গিয়েছিল,তাই আরও কয়েকটি সংস্করণ বার করতে হয়েছিল। বিদ্রোহী-ভাবাপন্ন কবিতা-সম্বলিত ‘অগ্নিবীণা’ বাংলা সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।শুধু বাংলা ভাষায় কেন, পৃথিবীর আর কোনো ভাষার আর কোনো কবির ক্ষেত্রে তাঁর একটি কবিতার সঙ্গে নিজ নাম এমন ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি!

 

নজরুল কি কাউকে অনুসরণ কিংবা কারো প্রভাবপুষ্ট হয়ে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনা করেছেন? কবিতাটি ‘বিজলী’তে প্রকাশিত হবার পর মোহিতলাল মজুমদার প্রচার করেন যে নজরুল তার ‘আমি’ শীর্ষক প্রবন্ধের ভাব নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন, কিন্তু ঋণ স্বীকার করেননি।এ বিষয়ে মুজফফর আহমদ বলেছেন,মোহিতলাল যখন নজরুলকে ‘আমি’ প্রবন্ধটি পড়ে শোনান তখন সেখানে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা কেউই লেখাটি উপভোগ করতে পারেননি। নজরুলও মনোযোগী ছিলেন না। প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক আহমদ শরীফ বলেছেন, মোহিতলালের চেতনা অপার্থিব অধ্যাত্মসীমা ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেছে। আর নজরুলের চেতনা পার্থিব, ঐহ্যিক ও দৃষ্টিগ্রাহ্য কাম্য জীবনস্বপ্ন। দুটোর মধ্যে উপমা উৎপ্রেক্ষার কিছু মিল থাকলেও পার্থক্য মৌলিক, লক্ষ্য ভিন্ন, সাফল্য মেরুকৃত। ‘আমি’ দর্শন আর ‘বিদ্রোহী’ কাব্য।’ সাহিত্যিক সৈয়দ আলী আহসান বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত তাঁর অনূদিত ‘ওয়াল্ট হুইটম্যানের নির্বাচিত কবিতার ভূমিকায় লিখেছেন, ‘বাংল ভাষার কবি নজরুল ইসলামের ওপর হুইটম্যানের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। নজরুল ইসলামের প্রসিদ্ধ কবিতা ‘বিদ্রোহী’ ওয়াল্ট হুইটম্যানের ‘সঙ অব মাইসেলফ’ এর সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে। বিদ্রোহ, বিপ্লব ও যৌবনের আবেগ যেখানে তাঁর কাব্যের উপপাদ্য হয়েছে, সেখানেই তিনি হুইটম্যানকে অনুসরণ করেছেন নিঃসঙ্কোচে!’ এরূপ মনে করা খুব অসঙ্গত নয়। অনুপ্রাণিত হতে পারেন কারো দ্বারা,তবে নজরুল কাউকে অনুকরণ করেননি।কবি ও বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক আবদুল মান্নান সৈয়দ ‘নজরুলের বিদ্রোহী : কয়েকটি বিরূপ সমালোচনার জবাব’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। পরে প্রবন্ধটির কলেবর বৃদ্ধি করে ‘নজরুলের ইসলাম : কালজ কালোত্তর’ গ্রন্থে সংযোজন করেন। তিনি তৎকালীন চৌদ্দটি প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করে বেশ কিছু সংখ্যক বিরূপ সমালোচকের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। এসব জবাবে মোহিতলাল মজুমদার থেকে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আলী আহসান, গোলাম মোস্তফা, আহমদ শরীফ কেউই বাদ যাননি। তাঁর যৌক্তিক জবাবগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিবেচনা যোগ্য।

নজরুল‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ১৪৭ বার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।‘আমি কে’? এই প্রশ্ন সৃষ্টির শুরু থেকে।‘আমি’র মধ্যে ঐশ্বরিক মহাশক্তির উপস্থিতি নজরুল জানতেন। ইসলামের সূফী তত্ত্বও তাঁর অজানা ছিল না। সূফী-তত্বের ‘আনাল হক’ বিশ্বাস থেকেই নজরুলের ‘আমি’ উঠে এসেছে। ব্যাপারটা হচ্ছে নিজেকে চেনা। বৃহৎ সত্তায় নিজেকে দেখতে পাওয়া।

‘বিদ্রোহী’ কবিতা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন অনেকেই। বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, ‘অসহযোগের অগ্নিদীক্ষার পরে সমস্ত মনপ্রাণ যা কামনা করছিল এ যেন তাই; দেশব্যাপী উদ্দীপনার এই যেন বাণী’। প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছেন, ‘এ কবিতা যে বাংলাদেশকে মাতিয়ে দেবে তাতে আশ্চর্য হবার কী আছে’। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লিখেছেন, “একে নতুন কবি? নির্জীব দেশে একার বীর্যবাণী?… আলস্যে আচ্ছন্ন দেশ আরামের বিছানা ছেড়ে হঠাৎ উর্ধ্ব মেরুদণ্ডে দাঁড়াল।” নজরুল জোড়াসাঁকোর বাড়িতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা শুনিয়ে ছিলেন!শুনে রবীন্দ্রনাথ মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করে ছিলেন! কিন্তু বিদ্রোহী কবিতা জ্বালা ধরিয়েছিল নজরুলবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীলদের মনে।

এই চক্রটি নজরুলকে তো বটেই, বিদ্রোহী কবিতাকেও কাটাছেঁড়া করেছে। ওই সময় ‘শনিবারের চিঠি’ সাপ্তাহিক পত্রিকায় নজরুলকে ব্যঙ্গ করে বেশ কয়েকজনের বিদ্রোহী কবিতার প্যারোডি লেখা ছাপা হয়েছিল। সজনীকান্ত দাসের বিদ্রোহী কবিতার প্যারোডি , ‘আমি ব্যাঙ/লম্বা আমার ঠ্যাং/আমি ব্যাঙ/আমি সাপ, আমি ব্যাঙেরে গিলিয়া খাই/আমি বুক দিয়ে হাঁটি ইঁদুর ছুঁচোর গর্তে ঢুকিয়া যাই।’ এমনকি কবি গোলাম মোস্তফাও তাঁর ‘নিয়ন্ত্রিত’ শিরোনামের কবিতায় কালজয়ী বিদ্রোহী কবিতাকে আঘাত হানার চেষ্টা করেছেন এভাবে, ‘ওগো ‘বিদ্রোহী’ বীর!/ সংযত কর, সংহত কর উন্নত তব শির/ তুই যদি ভাই বলিস চেচিয়ে- উন্নত মম শির,/ আমি বিদ্রোহী বীর,/ সে যে শুধুই প্রলাপ, শুধুই খেয়াল, নাই নাই/ তার কোন গুণ,/ শুনি স্তম্ভিত হবে ‘নমরুদ’ আর ‘ফেরাউন’!’ কিন্তু সজনীকান্ত, গোলাম মোস্তফারা নজরুলের বিদ্রোহ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। নজরুলের কাঠ পেনসিলে লেখা কালজয়ী সেই বিদ্রোহী কবিতা আজও চির উন্নত মম শির হয়ে আছে।

পৃথিবীতে যত দিন মানুষ থাকবে, তত দিন বিদ্রোহ থাকবে, আর নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাও থাকবে!যতদিন জনবিরোধী শাসন-শোষণ বিদ্যমান থাকবে, যতদিন সামাজিক নিপীড়ন-নির্যাতন ও মানুষে মানুষে শ্রেণীবৈষম্য চরমভাবে বিরাজমান থাকবে,ততদিন এসবের বিরুদ্ধে মানুষের সোচ্চার হওয়ার স্বার্থে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রয়োজনীয়তাও থাকবে।

 

তবে আফশোষের কথা এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতার আঁতুড়ঘর তালতলার বাড়িতে বছরে ২৫ মে দিনটিতে তালতলা নজরুল শতবর্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছাড়া সারা বছর বাড়িটি নিয়ে তেমন কোনও হৈচৈ থাকে না! এমন কি নজরুল ভক্ত-গবেষক ছাড়া কোনও দর্শনার্থীর পা-ও পড়ে না ঐতিহাসিক এই বাড়িটির চৌহদ্দিতে।বহু চেষ্টা করেও এই বাড়িটি হেরিটেজ ভবন করা সম্ভব হয়নি। কলকাতা কর্পোরেশনের কাছে বহু আবেদন করা হয়েছে- বিদ্রোহী কবিতার আঁতুড়ঘরকে মিউজিয়াম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। কিন্তু কাজ হয়নি।
আর আশার কথা এই আজহারউদ্দিন খান এর পরে এবাংলায় নজরুলকে নিয়ে সিরিয়াস গবেষণার কাজ সেভাবে পরিলক্ষিত না হলেও, ওপার বাংলায় নজরুলকে নিয়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গবেষণাধর্মী কাজ হয়েছে! সম্প্রতি বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক এবং নজরুল গবেষক মজিদ মাহমুদ ধারাবাহিকভাবে নজরুল জীবন ভিত্তিক ‘তুমি শুনিতে চেওনা’ নামে একটি অসাধারণ উপন্যাস লিখছেন! যেখানে অনালোকিত সব তথ্যের আলোকে নজরুলকে নতুন করে বিনির্মাণ করা হচ্ছে, যা পাঠক হৃদয়কে আলোড়িত করছে!

প্রকাশিত: দিন দর্পণ ২২/১১/২০