নয়া ফরমান সরকারের! দাখিল করতে হবে আয়কর রিটার্ন: চিন্তায় হজযাত্রীরা

নয়া ফরমান সরকারের! দাখিল করতে হবে আয়কর রিটার্ন: চিন্তায় হজযাত্রীরা

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার সমস্যায় পড়লেন দেশের হজযাত্রীরা। তাদের চলতি বছরে হজ যাত্রার আগে দাখিল করতে হবে আয়কর রিটার্ন। অন্তত নতুন আয়কর আইনে সংশোধনী এনে সেটাই বলছে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দপ্তর। একাধিক চাটার একাউন্ট্যান্ট এমনকি হজ কমিটির সিইও বিগত ছয় মাসে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রককে। কিন্তু এই বিষয়ে এখনও বিভ্রান্তি বজায় রয়েছে।

 

২০১৯ সালে অর্থ আইন সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে বলা হয় যারা বিদেশ যাত্রার জন্য ২০১৯-২০ সালে দুই লাখের উপর খরচ করবেন তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এমনকি তাদের বার্ষিক আয় যদি করযোগ্য আয়ের কম হয় তবুও তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। হজযাত্রীরা ফ্যাসাদে পড়েছেন এই সংশোধনের ফলে।

অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের কার্যকরী সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী জাফরাইব জিলানী বলেন প্রতিবছর ভারত থেকে কয়েক লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান মক্কা ও মদিনায় হজ করতে যান। তাদের হজ করতে যাওয়ার খরচ 2 লাখ টাকার অনেক বেশি হয়। সরকার সেটা জানে। ভারত থেকে যে মুসলমানরা হজ করতে যান তাদের অধিকাংশই তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় এমনকি তাদের জমিজমা বিক্রি করেও হজের খরচ মেটান তাদের ধর্মীয় ফরমান পালনের তাগিদে। কারণ হজ হলো ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। এখন সরকারের এই আইন অনুযায়ী এদের সবাইকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে যদিও এদের অধিকাংশেরই করযোগ্য নয়।

এই হজযাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক শ্রমজীবী বিধবা মহিলা যারা মূলত গ্রামে থাকেন। এরা বহুকষ্টে হজের টাকা যোগাড় করে জীবনে মাত্র একবার মক্কা মদিনা হজ করতে যান। এদের ৭৫ শতাংশ মানুষ এমন যারা জীবনে আয়কর কথাটা শুনেন নি। সরকারের আইন অনুযায়ী এদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এটা মুসলমানদের হয়রান করা ছাড়া আর কি বলা যায়।

জিলানী জানান মোদি সরকার মুসলমানদের উত্ত্যক্ত করার জন্য অর্থ আইনে এই ধরনের সংশোধনী এনেছে। এই কথা এজন্য বলছি কারণ উক্ত আইনের সংশোধনীতে সরকার চীনের মানস এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাবে যাওয়ার জন্য ভারতীয়দের আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যতামূলক থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই দেশে গেলে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে না। কারণ চীনে হিন্দুরা জান মানস সরোবরের তীর্থযাত্রায় এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাবে যিন নানকানা সাহিব গুরুদোয়ায়। সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো পাকিস্তানের মত দেশে তীর্থ যাত্রীদের যাওয়ার জন্য কোনরকম শুল্ক বা কর চাপায়নি।

কলকাতা ও মুম্বাইয়ের একাধিক চাটার একাউন্ট্যান্ঠ জানিয়েছে তারা হজযাত্রীদের প্রচুর ফোন পাচ্ছেন এই বিষয় নিয়ে, কিন্তু হজ যাত্রীদের মতো আমরাও অন্ধকারে কী উত্তর দেবো আমরা ও নিজেও জানিনা। অপরদিকে আইনজীবী জিলানী বলেছেন বিজেপি সরকার মুসলিমদের হয়রান করে খুশি হয়। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কোন লাভ নেই। প্রতিবাদ করলেই বিতর্কে জড়িয়ে দেওয়া হয়। এই বিতর্কের মাঝেই ২০২১ সালে ভারতের হজযাত্রীরা কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থায় পড়েছেন। তাদের আপাতত আশ্বাসবাণী শোনানোর মত কেউ নেই।