পেটুয়া বিদ্যালয় পরিবারের নতুন উদ্যোগ:  ইকোব্রিক

পেটুয়া বিদ্যালয় পরিবারের নতুন উদ্যোগ:  ইকোব্রিক

আকতার আলি খান, বঙ্গ রিপোর্ট, পূর্ব মেদিনীপুর:  প্লাস্টিক বিহীন এক দূষণমুক্ত পরিবেশ গঠনের লক্ষ্যে আর এক ধাপ এগোল কাঁথির পেটুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পেটুয়া জুনিয়ার হাই স্কুল। ইতিপূর্বে স্কুলের পাঠরত শিক্ষার্থীদের কর্ম শিক্ষার অঙ্গ হিসাবে এই ইকোব্রিক ছাত্র-ছাত্রীদের হাত থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ আহরণ করে।

জমা হওয়া প্রায় শ’তিনেক ইকো ব্রিক গুলি নিয়ে স্কুলের একদিকের প্রাচীর তৈরীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল এদিন। মূলত ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক গুলোকে বোতল বন্দী করে, ওই বোতলকে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই প্রকল্পে, যা ইকোব্রিক নামে পরিচিত।
মূলত এই স্কুলটি পেটুয়া মৎস্য বন্দর সংলগ্ন হওয়ায়, প্লাস্টিক দূষণের হার বেশ কিছুটা বেশি।

আশা করা যায় ছাত্র-ছাত্রীদের এই প্রচেষ্টায় পেটুয়া বন্দর ওবন্দর সংলগ্ন তিন থেকে চারটি গ্রাম প্লাস্টিক মুক্ত হবে।
এই মহতী প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন দেশপ্রান পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি তরুণ জানা ও বিডিও মনোজ মল্লিক। পেটুয়া বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষে অনুকূল বেরা ইকো ব্রিক প্রোজেক্টের প্রাসঙ্গিকতা ছাত্র-ছাত্রী ও উপস্থিত হওয়া স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সামনে তুলে ধরেন ।

বিশ্ব যখন আজ পানীয় জল সংকটের মুখে ঠিক সেই সময়ে ভূগর্ভস্থ পানীয় জল সঞ্চয় এর পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানো প্লাস্টিক এর কুপ্রভাব এবং প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার সুঅভ্যাস ছাত্র দের মধ্যে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এই দুই স্কুল। পুরোপুরি ভাবে প্লাস্টিক বর্জন হয়তোবা সম্ভব নয় কিন্তু তার সঠিক ব্যবস্থাপনা দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে কিছুটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে এবং এই ইকো ব্রিকের মাধ্যমে প্রাচীর তৈরির মত একটি গঠন মূলক কাজ সম্ভব হল।

স্কুলের এমন উদ্যোগকে স্থানীয় লোকজন যেমন একদিকে চমক এর দৃষ্টিতে দেখছেন আবার বাহবা দিতে ভুলছেন না। স্কুলের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন পরিবেশপ্রেমী থেকে পথচলতি মানুষজন।

ভারত সরকারের নীতি আয়োগ জানাচ্ছে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ভারতবর্ষের ২১ টি শহর জলশূন্য হতে চলেছে । আর এখানেই ভাবাচ্ছে স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।
স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কথায় যেকোনো সামাজিক সুঅভ্যাস প্রাথমিকভাবে শুরু হয় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য দিয়ে ।

তাই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের কল্পিত দূষণমুক্ত পরিবেশ এর স্বপ্ন দেখছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ।
আশা একটাই ছাত্র-ছাত্রীদের এই প্রয়াস ভবিষ্যতে সমাজের বৃহত্তর ক্ষেত্রে বিস্তার লাভ করবে এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবে। পেটুয়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তেহরান হোসেন বলেন “আগামী দিনে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানাব। এইভাবে আমরা প্লাস্টিক মুক্ত হতে পারব।