স্মরণে বিশ্বনবী: আলোর দিশারি মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রেমময় মহাজীবন     

স্মরণে বিশ্বনবী: আলোর দিশারি মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রেমময় মহাজীবন     

 তৈমুর খান

আজ থেকে সাড়ে চৌদ্দশো বছর আগে যে মনীষী পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যাঁর সংস্পর্শে ধূলির ধরণীতে অসভ্য বর্বর মানবজাতি সত্য ও ন্যায়ের সন্ধান পেয়েছিল—তিনিই হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)(৫৭০-৬৩২)। তাঁর পূর্বেও বহু নবী পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তিনিই শেষ নবী—তারপরে আর কেহ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করবেন না। তাঁর মতোও অন্য কেউ ছিলেন না। পৃথিবী তথা মানবসভ্যতা যেন তাঁরই অপেক্ষায় ছিল। কেননা তাঁর জন্যই এই বৈচিত্র্যময় বিশ্বভুবন সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি শুধু একটা ধর্মের নন, একটা সম্প্রদায়ের নন, একটা সময়ের নন—তিনি আবহমানকালের সমগ্র মানবজাতির পথপ্রদর্শক। তিনি আদর্শ প্রেমময় স্বামী, স্নেহময় আদর্শ পিতা, বিশ্বস্ত সঙ্গী, সফল ব্যবসায়ী, যুক্তিবাদী সমাজ সংস্কারক, ন্যায়পরায়ণ বিচারক, মহৎ ও দূরদ্রষ্টা রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিপুণ নেতৃত্বদানকারী দক্ষ সৈনিক।

৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট(১২-ই রবিউল আউয়াল) সোমবার ভোরবেলায় আরব দেশের মক্কা নগরীতে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জন্মের ৫ মাস আগেই পিতা আব্দুল্লাহ মারা যান। পরিবারের প্রথা অনুযায়ী লালন-পালনের ভার পড়ে বনি সা’দ গোত্রের বিবি হালিমার ওপর। এই হালিমার আর একটি সন্তান ছিল। তাঁর একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, নিজের সন্তানটি সর্বদা বাম পাশের দুধ পান করত। ডানপাশের দুধ পান করতেন শিশু মুহাম্মদ (সাঃ)। জোর করে বাম দিকের দুধ তাঁকে পান করাতে পারতেন না। পাঁচ বছর পর ফিরে আসেন মা আমিনার কাছে আর ছয় বছর বয়সেই এই মাকেও হারান তিনি। এক রকম এতিম হয়েই দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হতে থাকেন।

এতিম মুহাম্মদ(সাঃ) জীবনের প্রথম থেকেই দুঃখ-কষ্ট-বেদনার উপলব্ধি করতে থাকেন। সমাজে সেই সময় সুস্থিরতা ছিল না। দাসপ্রথাসহ নানা অমানবিক প্রথা যেমন ছিল, তেমনি মানুষকে হত্যার নিষ্ঠুরতাও প্রদর্শিত হতো। শোষণ পীড়ন অত্যাচার অরাজকতা যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকত। বালক মুহাম্মদ(সাঃ) মানুষকে পরিত্রাণ করতে চাইলেন এইসব অন্ধকার থেকে। ১৪ বছর বয়সেই তিনি চাচা হযরত জুবায়ের(রাঃ) ও কয়েকজন যুবককে নিয়ে দুর্গত মানুষদের সাহায্যার্থে ও বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গড়ে তুললেন ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে একটি সংগঠন। পরোপকারী সত্যবাদী ন্যায়পরায়ণ আমানতদারী বলে সেই সময় মক্কার অবিশ্বাসীরা(কাফেররা) তাঁকে ‘আলামিন’ অর্থাৎ বিশ্বাসী নাম দিলেন। তাঁর কর্মজীবনের আলোকময় প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগল।

মুহাম্মদ (সাঃ) এর সত্যতা, ন্যায়পরায়ণতা, দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে সেই সময়ের আরবের ধনাঢ্য ৪০ বছর বয়স্কা বিধবা খাদিজা বিনতে খুআইলিদ তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই এই মহিলাকে তিনি বিয়ে করেন। খাদিজা তাঁর সমস্ত সম্পদ নবীকে সমর্পণ করেন। মুহাম্মদ(সাঃ) মানুষের দুঃখ-কষ্ট, বেদনা,পাপাচার, হিংস্রতা দূর করার জন্য কাতর হয়ে পড়েন। ইনসাফ ও ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার তাগিদ অনুভব করেন। তখন মক্কার অদূরে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন হন। স্বামীর এই কাজে সব রকম সহায়তা করেন খাদিজা। ৪০ বছর বয়সেই আল্লাহর দূত জিব্রাইল (আঃ সাঃ) এর দেখা পান এখানেই। তাঁর মাধ্যমেই কোরআনের আয়াতগুলি একে একে নাজিল হতে থাকে। এটাই তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি। পরবর্তী ২৩ বছরে পুরো কোরআন নাজিল হয়। তিনি ঘোষণা করেন আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। আরবি ভাষায় কোরআনের মর্মার্থ আরববাসী অনুধাবন করতে পারেন এবং দলে দলে তার আলোকে আলোকিত হতে ছুটে আসেন। অবিশ্বাসীরা তখন ভয় পান যে, তাঁরা নিজেদের ক্ষমতার মসনদ আর টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। তখন তাঁরা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে বাণী প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলেন। প্রচুর ধন-সম্পদসহ সুন্দরী নারীদের তাঁকে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন: ‘আমার ডান হাতে যদি সূর্য আর বাম হাতে যদি চাঁদ দেওয়া হয়—তবু আমি সত্য প্রচার থেকে বিরত থাকব না।’ তখন মুহাম্মদ (সাঃ)-কে যাদুকর ও পাগল বলে প্রচার শুরু করেন। এতেও তাঁরা পেরে ওঠেন না, তখনই হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। যাঁরা মূর্তি পূজা ছেড়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসেন— তাঁদের ওপরও অকথ্য অত্যাচার শুরু হয়। কিন্তু কিছুতেই তাঁরা বাধা মানতে বাধ্য নন।

৬২০ খ্রিস্টাব্দে স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর শোকের মধ্যেও নিজের পালিত পুত্র জায়েদ বিন হারেসকে নিয়ে তায়েফে যান ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। সেখানে পাথর মেরে নবীকে জর্জরিত করা হয়। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় ফিরে এসে তিনি মূর্তিপূজারী ও ইহুদিদের বিভিন্ন গোত্রের ভেদাভেদকে দূর করার জন্য এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি সনদপত্র স্বাক্ষর করান। এটিই ছিল ‘মদীনার সনদ’ যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। এতেই প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করা হয়। মুহাম্মদ (সাঃ) হন এর সভাপতি। এখানেই তাঁর দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর উদারতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন অচিরেই সুখ শান্তি ফিরিয়ে আনে। নবদীক্ষিত মুসলমান বা সাহাবায়ে কেরামগণ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েন। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উত্থানে কুরাইশ নেতাদের মনে হিংসার সৃষ্টি হয়। তাঁরা কৌশলে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে খতম করার পথে অগ্রসর হন। মুহাম্মদ (সাঃ) তখন ঐতিহাসিক বদর, উহুদ ও খন্দকসহ অনেকগুলো যুদ্ধের সম্মুখীন হন। নবী নিজেই মোট সাতাশটি যুদ্ধের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু আত্মরক্ষার জন্যই তরোয়াল ব্যবহার করতে বলেন, কখনোই ইসলাম প্রচারের জন্য নয়।সব যুদ্ধেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।

৬২৭ খ্রিস্টাব্দে মাত্র চৌদ্দশো সাহাবীকে নিয়ে তিনি মক্কায় হজ যাত্রা করলে কুরাইশ বাহিনীর দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন। তখন বাধ্য হয়েই ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ করেন। সন্ধির শর্তে কিছু অসম্মানজনক বিষয় থাকলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তা তিনি মেনে নেন এবং নিজেদের একটা শক্তি হিসেবে কুরাইশদের কাছে তুলে ধরেন। এর দু’বছর পর ১০০০০ মুসলিম সৈন্য নিয়ে তিনি বিনা রক্তপাতেই মক্কা জয় করেন। তাঁর সামনে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানকে গ্রেপ্তার করে আনলে তিনি দীর্ঘদিনের শত্রুকে হাতে পেয়েও ক্ষমা করে দেন। ক্ষমার এই মহান আদর্শ পৃথিবীর ইতিহাসে আজও বিরল। শত্রুও তখন এই মহানুভবতার কাছে মাথা নত করেই ইসলামে দীক্ষা নেন। মক্কায় এভাবেই শান্তি ও সহবস্থান ফিরে আসে। অন্যায় অসত্য শোষণ জুলুম দূর হয়ে যায় চিরতরে।

তাঁর ন্যায় ও সত্যের বাণী ছড়িয়ে দেবার জন্য এবং পারিবারিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নারীদেরও এই কাজে নিয়োগ করেন। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় বহু অসহায় বিধবা নারীকে এবং বিভিন্ন বয়সের নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। যাতে নারীরা সহজেই অন্য নারীদের মধ্যে তাঁর আদর্শ সত্য ও শান্তির বাণী পৌঁছে দিতে পারে। এমনকী তাঁর অবর্তমানেও এই কাজটি অব্যাহত রাখে। এমনই দূরদর্শী ছিলেন তিনি।

মুহাম্মদ (সাঃ) মানবিক কর্মপন্থা ও সুশৃঙ্খলা সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ দশম হিজরিতে এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার সাহাবীদের সম্মুখে আরাফাতের ময়দানে জীবনের যে অন্তিম ভাষণ দিয়েছিলেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাসে তা ‘বিদায় হজের ভাষণ’ নামে পরিচিত। সারা পৃথিবীর মানুষের কাছেই চিরদিন তা অনুসরণযোগ্য। তিনি দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন:১) বন্ধুগণ স্মরণে রেখো: এই দিন এই মাস এই স্থান যেমন তোমাদের কাছে পবিত্র, তেমনি তোমাদের জীবন অর্থ-সম্পদ-রক্ত এবং মান-মর্যাদাও তোমাদের পরস্পরের কাছে পবিত্র। অন্যের উপর কেউ কখনও হস্তক্ষেপ করবে না। ২) স্মরণে রেখো: স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি স্ত্রীদেরও তোমাদের ওপর অধিকার আছে।৩) স্মরণে রেখো: শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকিয়ে যাবার আগেই তার শ্রমের উপযুক্ত মজুরি দিয়ে দিয়ো।৪) স্মরণে রেখো: যে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে, সে কখনও প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না।৫) স্মরণে রেখো: চাকর চাকরানীদের প্রতি কখনও নিষ্ঠুর হইও না। তুমি যা খাবে এবং তুমি যা পরিধান করবে—তাদেরও তা-ই দিবে। ৬) স্মরণে রেখো: কোনও অবস্থাতেই এতিমদের সম্পদ আত্মসাৎ করবে না।

একইসঙ্গে মানবাধিকারের বিভিন্ন দিকগুলিও তিনি তুলে ধরেন। নবুয়ত প্রাপ্তির পর ২৩ বছরের আন্দোলনে তিনি জাহিলিয়াত যুগের অবসান ঘটিয়ে বর্বর জাতিকে একটি সত্য ও সুশৃঙ্খল জাতিতে পরিণত করেন। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমূল সংস্কার করেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চিরাচরিত গোত্রীয় পার্থক্য মুছে দিয়ে ঘোষণা করেন: ‘আরবদের সঙ্গে অনারবদের এবং কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে শ্বেতাঙ্গদের কোনও পার্থক্য নেই। সেই ব্যক্তি উত্তম যিনি অধিক মুত্তাকিন।’ মুত্তাকিন অর্থাৎ আল্লাহ বিশ্বাসী এবং সহানুভূতিশীল মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তি । সুদ খাওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। যাকাত দানের মাধ্যমে সমাজে দারিদ্র্য দূর করার পন্থা অবলম্বন করতে বলেন। যাকাত মানে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফসল রেখে বাকি অংশ দান করা। সামাজিক ক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে মাতৃত্বকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন: :মায়ের পায়ের নিচেই স্বর্গ।’ পিতার সম্পদের ভাগ যাতে কন্যারাও পায় সে ব্যবস্থাও করেন। আবার শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন: ‘শিক্ষা লাভের জন্য সুদূর চীন দেশেও যাও।’ উল্লেখ্য তখনও চীন দেশে ইসলাম পৌঁছায়নি। আর এক জায়গায় উল্লেখ আছে: ‘শহিদের রক্তের চেয়ে জ্ঞানীর কলমের কালি বেশি মূল্যবান।’ এতেই বোঝা যায় তিনি মানসিক দিক দিয়ে কতটা অগ্রবর্তী ছিলেন। একত্ববাদের আলোয় শক্তিশালী জাতিকে বিবেক ও চৈতন্যসম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। অন্যায় ও পাপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে পেরেছিলেন। যে হানাহানি-সংঘাত শোষণ-পীড়ন জুলুম-অবিচার-ব্যভিচার-ঘুষ প্রচলিত ছিল তা কঠোরভাবে দমন করেন। জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছে তিনি বলেন: ‘আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে গেলাম। যতদিন তোমরা এই দুটি জিনিসকে আঁকড়ে রাখবে—ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব অর্থাৎ কোরআন, আর অপরটি হলো আমার সুন্নাহ অর্থাৎ হাদিস।’ আজ আমরা ‘কাফের’ বলতে মুসলিম ছাড়া অন্যদের বুঝি, কিন্তু এটা একেবারেই ভুল। কাফের শব্দটি হিব্রু, আরবিতে কাফের ও কুফর শব্দটি এসেছে। ইসলামে কাফের শব্দের অর্থ: জেনেশুনেও যিনি ইসলামে অবিশ্বাস করেন। অর্থাৎ ইসলাম সত্য জেনেও তা অস্বীকার করা। ইহুদি ধর্মের সত্যকে ঢেকে রাখে যে, সে কোফার; আর ইসলামের সত্যকে ঢেকে রাখে ও অস্বীকার করে যে, সে কাফের। মুহাম্মদ (সাঃ) না জেনে কাউকে কাফের বলতে নিষেধ করেছেন। সূরা কাফিরুনে বলা আছে: তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার কাছে। অর্থাৎ মুসলমান মাত্রই ভিন্ন ধর্মের প্রতি তার বিদ্বেষ নেই।

কোরআন এবং হাদিস প্রতিমুহূর্তেই আমাদের সতর্ক করে। দয়া-মায়া স্নেহ-মমতায় এবং সহিষ্ণুতায় মানবিক গুণসম্পন্ন হতে বলে। বিনা কারণে একটা পিঁপড়ে পর্যন্ত আমাদের হত্যার হুকুম নেই। মুমূর্ষু প্রাণী কুকুর হলেও তাকে জল দান করতে হবে। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিবাদ না করতে পারলে অন্তত ঘৃণাও করতে হবে। রাস্তায় কাঁটা থাকলে তা তুলে ফেলতে হবে। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে।মাতা-পিতার সেবা করতে হবে। অন্যায় করলে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি কোনও বিষয়ে কটূক্তি করা যাবে না। তাদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়াও নিষেধ। গরিব-দুঃখীদের দান করতে হবে। যেকোনও বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কেউকে দুঃখ বা আঘাত দেওয়া যাবে না। যুদ্ধবন্দিদের প্রতি সম্মানজনক ব্যবহার করতে হবে। জন্মদিন পালনে শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ। আরও কত কত বিধান আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ছড়িয়ে আছে। প্রতিটি বিধানই সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পৃথিবীতে স্বর্গ প্রতিষ্ঠার নামান্তর। কিন্তু এই মহামানবের বাণী ও জীবন-দর্শনের ভুল ব্যাখ্যা অনেক সময়ই তা ভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। যদি আমরা কোরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত সত্যকে আবিষ্কার করতে পারি, তবে সেই সুমহান মহাজীবনের সাক্ষাৎ লাভ করব। যেখানে বিভেদ নেই, সংঘাত নেই, শুধু প্রেম আর আত্মীয়তার হাতছানি।