হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীক

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীক

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: কল্পিত ছবি ব্যবহার করে কারও হুবহু চেহারা যেমন চেনা যায়না তেমনি নিষেধ আছে এমন ছবি জোর করে বানানোর মধ্যেও কুপ্রবৃত্তি কাজ করে। পৃথিবীর জন্য রহমত স্বরূপ আবির্ভূত নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনও ছবি নেই। অথচ বারবার তার ছবি অঙ্কন করার চেষ্টা হয়েছে বিতর্কিত করার জন্য। সম্প্রতি ফ্রান্সের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে, বিশ্ব নবীর (স:) আদর্শ অনেকে সহ্য করতে পারছে না। আর তাই অযথা বিতর্ক তৈরি করতেই অযাচিত কার্যক্রম করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গের আমীর এ হালকা মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন,”ফ্রান্সে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)’কে অবমাননা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যে আলোচনা,সমালোচনা হচ্ছে তা খুবই স্বাভাবিক। কেউ যদি কারও আপত্তিকর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, সেক্ষেত্রে লোকেরা আপত্তি জানাবেন, এটা স্বাভাবিক। আমরা সবাই জানি যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কোনো ছবি নেই। নবী (সাঃ) এব্যাপারে নিষেধ করেছেন। তাঁর কোনো ছবি আঁকা এবং ব্যাঙ্গাত্মকভাবে সেটাকে প্রকাশ করা একদমই অপরাধ। এতে মুসলিমদের আবেগে আঘাত লাগে। তাই এটা করা বাঞ্ছনীয় নয়। এক্ষেত্রে যেখানেই এধরণের ঘটনা ঘটুক না কেন, মুসলিমদের আবেগ’কে সামনে রেখে সেখানকার প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। কিন্তু ফ্রান্স সরকার কোনোরকম পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে এটাকে ইন্ধন জুগিয়েছে। তাদের এই ধরণের মানুষিকতা আপত্তিজনক, যা মানুষকে আঘাত করেছে।”

তিনি আরও বলেন,”এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সমালোচনা চলছে। তবে এক্ষেত্রে এর উত্তর খারাপ পন্থায় দেওয়া, যেমন কার্টুনিস্টকে হত্যা করা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। যেটা হওয়া ঠিক হয়নি। এর প্রতিবাদ এভাবে হওয়া উচিৎ, যে আমরা মহানবী (সাঃ)’র জীবনদর্শন নিজেদের ব্যাক্তিগত, রাষ্ট্রীয়,সামাজিক, পারিবারিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালাবো। এর মাধ্যমে যথাযথ প্রতিবাদ সম্ভব।
“তারা যদি তোমার সাথে খারাপ আচরণ করে, তাদের সাথে তুমি উত্তমভাবে পেশ হও।” (আল কুরআন)
আমাদের চেষ্টা করা দরকার নবীজীর (স:) আদর্শে জীবন সাজানোর এবং ইসলামের স্বরূপ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরাও বিভিন্ন বক্তব্য রেখেছেন। পণ্য বয়কটের প্রসঙ্গও এসেছে। মিল্লাতের দায়িত্বশীলরাও অনেকে অনেক রকম বলেছেন। সেটা যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটা তারা করবে। কিন্তু তাঁর(সাঃ) জীবনদর্শনকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়িত করা এবং জনসমক্ষে নবীজী (সাঃ)’র জীবনাদর্শকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সেমিনার,সিম্পোজিয়াম, আলোচনায় অংশ গ্রহণ করা এবং এই আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা আমাদের চালাতে হবে।”