আমানত ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্কলারশিপ প্রদান, কর্মী-প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেট প্রদান

আমানত ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্কলারশিপ প্রদান, কর্মী-প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেট প্রদান

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বুধবার পার্ক সার্কাস হজ হাউসে আমানত ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্কলারশিপ প্রদান,কর্মী-প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন- মুসলিম সমাজের অগ্রগতির জন্য মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন, গণসংগঠন এবং ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে সংখ্যালঘু পশ্চাৎপদ ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই সুযোগগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে প্রথমত আমাদের অভিভাবকদের

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী আরো বলেন মুসলিম সমাজের অগ্রগতির জন্য মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গ কে এগিয়ে আসতে হবে বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে সংখ্যালঘু পশ্চাৎপদ ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে এই সুযোগগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। প্রথমত আমাদের অভিভাবকদের ভাবতে হবে তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য। শিক্ষা ক্ষেত্রে উদাসীনতা বিশেষ করে আমাদের মুসলিম সমাজে পশ্চাৎপদতার কারণ। শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা এখন অনেক ভালো ফল করছে। চাকরির পরীক্ষায়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক ভালো ফল করছে। সহায়-সম্বলহীন ছাত্রছাত্রীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক ভালো করছে। এইসব পরিবারের পাশে দাঁড়ানো একান্ত দরকার। তিনি আরো বলেন- কেবলমাত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখেই এই রোগের প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইসলাম ধর্মে চৌদ্দশ বছর আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, সেই বিধান বজায় রাখলেই আমরা কোভিড-19 কে পর্যুদস্ত করতে পারবো। আমরা সবাই কোভিদ-19 মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশ মেনে চলবো।

ইউনিসেফের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান জনাব মোঃ মহিউদ্দিন সাহেব বলেন- পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু নির্ণায়ক তুলে ধরা যাক। তিনি বলেন- শিক্ষা স্বাস্থ্য বা অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের ফলাফল এর থেকে অনেক ভাল। আবার উল্টোদিকে পশ্চিমবঙ্গের বেশকিছু জেলা আছে এই ফলাফলের থেকে অনেক নিচে এবং এই জেলাগুলো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এই ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদতার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে ইউনিসেফ। পশ্চিমবঙ্গে উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমানে ছাত্রদের থেকে ছাত্রীরা এগিয়ে আছে, পৃথিবীর বহু জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের এই ফলাফল মেলে না। এর কারণ আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। যদিও সামগ্রিকভাবে এটা মনে করা হচ্ছে ছেলেদের মধ্যে দ্রুত আর্থিক স্বনির্ভরতা এর একটা কারণ হতে পারে। অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের সচিব জনাব আব্দুল গনি সাহেব বলেন- বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষকদের শিক্ষা প্রচারের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তুলনামূলক আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন- মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গকে মিশনারি শিক্ষাব্যবস্থার উপরে বেশি নজর দিতে হবে। যেটা আমরা খ্রিস্টান মিশনারী। রামকৃষ্ণ মিশনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি। ইদানিং আল-আমিন মিশন সেই জায়গা পূরণ করে চলেছে।

 

বৌদ্ধধর্মগুরু ডঃ অরুণজ্যোতি ভিখু বলেন- এটা পরিষ্কার যে, সামাজিক কাজকর্মের কোন ভেদাভেদ রাখা চলবে না। পিছিয়ে পড়া মানুষ ও সমাজকে টেনে তুলতে হবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য- সে যে ধর্মের বা বর্ণের মানুষই হোক না কেন? ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সমাজসেবামূলক কাজ কর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটা আগামী দিনেও তা চলতে থাকবে, এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

 

আমানত ফাউন্ডেশন-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহ্ আলম সভার শুরুতে বলেন- আমানত ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি ইউনিসেফের সহায়তায় শুরু হয়েছে। তারই স্টাফদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ওয়াকসপ এবং পাশাপাশি যাকাত মিশনের সমাজসেবা এবং স্বেচ্ছাসেবী গঠন সংক্রান্ত কর্মশালা আজকে শুরু হয় সকাল সাড়ে দশটায়। এই দুটি কর্মশালা পাশাপাশি চলতে থাকে। শেষে এই দুই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী, স্বেচ্ছাসেবী এবং কর্মীবৃন্দকে নিয়ে এই সম্মিলিত সমাপ্তি সভা। এই সভায় ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে স্কলারশিপের চেক তুলে দেয়া হয়। এছাড়া আমানত ফাউন্ডেশনের সকল কর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

আজকের এই সভায় আরো যারা উপস্থিত ছিলেন- মুসলিম ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক জনাব নিসার আহমেদ, আমানাত যাকাত মিশনের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ লাডলা, সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, খাইরুল বাশার মন্ডল, কাজী নয়ন, জালাল উদ্দিন আহমেদ, নওশাদ শেখ, সাবির আহমেদ, মাহমুদ শাহিদ, দেবরঞ্জন লাই ও দেবব্রত সাহা প্রমুখ।