দিল্লিতে ধর্ষণের পর খুন রাবিয়া সাইফি! ‘নির্ভয়ার নির্মমতাও ছাপিয়ে’: মিডিয়া নিরব কেন? উঠছে প্রশ্ন

দিল্লিতে ধর্ষণের পর খুন রাবিয়া সাইফি! ‘নতুন নির্ভয়া’: মিডিয়া নিরব কেন? উঠছে প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: সম্ভবত ধর্ষণের পর রাবিয়া সাইফিকে খুন করার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসতে ৯ বছর আগের নির্ভয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যা দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২২ বছরের জ্যোতি সিংকে নৃশংসভাবে নির্যাতনের ঘণ্টা খানেকের মধ্যে দেশের প্রথম সারির খবরের কাগজ গুলির শিরোনামে উঠে আসে। যাইহোক দিল্লি পুলিশ কয়েক দিনের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে।

নির্ভয়া কাণ্ডের কয়েকদিন পর পর্যন্ত অনেকেই ভেবেছিলেন যে একটি মেয়ের চূড়ান্ত আত্মবলিদানের ফলে বাকি মেয়েরা অন্তত নিরাপত্তা পাবে অদূর ভবিষ্যতে। অনেকে বিশ্বাস করেছিলেন যে এমন কোনো দুষ্কর্মেও আর সামান্যতম সহ্য করা হবে না। নির্ভয় কাণ্ডে দেশজোড়া অভূতপূর্ব প্রতিবাদ ও ধর্ষণ রুখতে নয়া আইন হওয়া সত্বেও কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে। নির্ভয়ার ঘটনার মাত্র নয় মাস পরে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুজাফফরনগরে আবার ঘটে ধর্ষণের ঘটনা। এদিকে উন্নাওয়ের ধর্ষিতা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকা কালিন বাবাকে হারিয়েছেন। এবং তার পরিবারের আরও দুই সদস্য যখন গাড়িতে চেপে কোথাও যাচ্ছিলেন তখন তারাও দুর্ঘটনায় নিহত হন।

এর ঠিক পরেই ৮ বছরের শিশু আসিফা বানুকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় কাশ্মীরের কাঠুয়াতে। ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস গোটা দেশ দেখল দর্শকদের সমর্থনে মিছিল করেছিল একদল মানুষ দলীয় পতাকা নিয়ে। এক বছর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাতরসে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর খুন করে রাতের অন্ধকারে প্রশাসনিক তৎপরতায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু যত ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তাদের মধ্যে নৃশংসতা পাশবিকতা নির্মমতায় প্রথমে থাকবে দিল্লির রাবিয়া সাইফীর ঘটনা। তার একটি তুতো ভাই ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিওতে সাইফির খুনের হাড় হিম করা বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন সাইফির মুখের মধ্যে ছুরি ঢুকিয়ে ফালাফালা করে কেটে দেওয়া হয়। কেটে ফেলা হয় তার স্তনযুগল। হাতের তালু এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়া হয় ছুরি দিয়ে। গলা প্রায় পুরোটাই কাটা। তার গোপনাঙ্গ ভয়াবহভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত রাবিয়া সাইফি কোন সাধারণ মেয়ে নয়, সে ছিল একজন সিভিল ডিফেন্স আধিকারিক এবং দেশের রাজধানী দিল্লির ডিএম দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে খুন করা হয় ফরিদাবাদে এবং এমন নৃশংসভাবে যে তা বর্ণনাতীত। এরপরও মূল ধারার মিডিয়াগুলি সাইফের ঘটনা নিয়ে একেবারে নিরব দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও একটি বাক্য উচ্চারণ করেননি এখনো পর্যন্ত। এ বিষয়ে টিভি চ্যানেলের সঞ্চালকরা প্রতিবেশী দেশের মহিলাদের উপর অত্যাচার হচ্ছে বলে গলা ফাটাচ্ছেন তাদেরও এখনো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দিল্লির রাবিয়া সাইফীর ঘটনা নিয়ে একটি কথা বলতে।