রবিউল আউয়াল: নবী দিবসের মাস

রবিউল আউয়াল: নবী দিবসের মাস

 

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক‘ রবিউল আউয়াল (আরবি: ربيع الأول‎‎) হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস। এই মাসে ইসলামের শেষনবী মুহাম্মাদ সাঃ এর জন্মদিন পালন করা হয়। নবী মুহাম্মদ-এর সঠিক জন্ম ও মৃত্যু দিবসটি হলো এই মাসের ১২ তারিখ; ‘রবিউল আউয়াল’ অর্থ “শুরু (মাস)”, বা, “বসন্তের প্রারম্ভ”; এই মাসটির নাম ‘রবিউল আউয়াল’ হওয়ার কারণ হচ্ছে, প্রাক-ইসলামী আরব পঞ্জিকা অনুসারে এটি ছিলো প্রথম মাস। ইসলাম ধর্মীয় মতানুসারে, এটি একটি শুভ মাস।

 

আরবি ভাষায় “রবি” অর্থ “বসন্ত” এবং আল-আউয়াল অর্থ “প্রথম”; কাজেই “রবিউল আউয়াল” দ্বারা বুঝানো হয় “প্রথম বসন্ত”। যদিও চন্দ্র বর্ষপঞ্জি হওয়ায় এই মাসটির সময়কাল প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হয়, কাজেই এটি দ্বারা এখন আর মূল ভাবটি দৃশ্যমান হয় না। ইসলামি বর্ষপঞ্জি একটি চন্দ্র পঞ্জিকা এই বর্ষপঞ্জির মাসগুলো শুরু হয় যখন নতুন চাঁদের জন্ম হয়। ইসলামি চন্দ্রভিত্তিক বর্ষপঞ্জিটির বছর পূর্ণ হয় সৌর পঞ্জিকা অপেক্ষা ১১ হতে ১২ দিন আগেই। সেজন্য প্রতিবছর আরবী হিজরি সন বা তারিখগুলো ১১/১২ দিন আগে চলে আসে।

 

শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্ম ও মৃত্যুদিন হিসেবে মুসলমানদের মাঝে পালিত একটি স্মরণীয় দিন এই ১২ রবিউল আউয়াল। হজরত মহম্মদ সঃ এর জন্মদিন হিসাবে মুসলিমদের মাঝে এ দিনটি বেশ উৎসবের সাথে পালন হতে দেখা যায়। তবে উৎসব নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মাঝে অনেক বিতর্ক রয়েছে। হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল-এর বারো তারিখে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি মুসলমানরা এই দিনকে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী বলে অভিহিত করেন। অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কাছে এই দিন নবী দিবস নামে পরিচিত।

 

হজরত মুহাম্মাদ সাঃ[ ২৯ আগস্ট ৫৭০ – ৮ জুন ৬৩২] হলেন ইসলামের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামি বিশ্বাস মতে আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ নবী তথা ‘বার্তাবাহক, যার উপর ইসলামি প্রধান ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অমুসলিমদের মতে, তিনি ইসলামি জীবনব্যবস্থার প্রবর্তক। অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মুহাম্মাদ সাঃ ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা। তাঁর এই বিশেষত্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন। তিনি ধর্মীয় জীবনে যেমন সফল, তেমনই রাজনৈতিক জীবনেও। সমগ্র আরব বিশ্বের জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি অগ্রগণ্য;বিবাদমান আরব জনতাকে একীভূতকরণ তার জীবনের অন্যতম সাফল্য।

 

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট মুহাম্মদ সাঃকে একজন আদর্শ আইন নির্মাতা এবং মহামানব আখ্যা দিয়ে মুহাম্মাদ সাঃ এবং ইসলামের ভূয়সী প্রশংসা করেন।ইতিহাসবিদ টমাস কার্লাইল এবং উইলিয়াম মন্টমেগেরি ওয়াট তাদের নিজ নিজ বইয়ে মুহাম্মাদকে ইতিহাসের একজন অন্যতম প্রভাবশালী ইতিবাচক সংস্কারক হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া মাইকেল এইচ. হার্ট তার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একশ মনীষী নামক জীবনীগ্রন্থে মুহাম্মাদকে প্রথম স্থানে রেখেছেন।