রামপুরহাটে চলছে দেদার পুকুর ভরাট: রুখতে পুরসভায় কমিটি গঠন

    রামপুরহাটে চলছে দেদার পুকুর ভরাট: রুখতে পুরসভায় কমিটি গঠন

    অমলেন্দু মন্ডল, বঙ্গ রিপোর্ট, বীরভূম: রামপুরহাট পুরসভার ৫, ৭,৮,১০,১৭ ওর্য়াডে পুকুর ভরাট করে বাড়ি করার অভিযোগ নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। পুরসভার পক্ষ থেকে এগুলো বন্ধো করার কোনো উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধী দলের বামফ্রন্ট কাউন্সিলার সঞ্জীব মল্লিকের।তার নিজের ওর্য়াডে ও একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ পুরসভায় করা হয়েছে।

    কিন্ত পুরসভা নির্বিকার। সঞ্জীব মল্লিক জানান গ্রীন সিটি করার জন্য পুরসভায় চার কোটি টাকা এসেছিলো রাজ্য পুর দপ্তর থেকে। শহরে মাত্র কয়েকটি পুকুরের পাড় বাধিয়ে বাকি পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করেছে ।এই অভিযোগ শুধু আমার নয় শাসক দলের দুই কাউন্সিলরের কথপোকথনের একটি ওডিও রের্কড বেরিয়েছে তাতে ও গ্রীন সিটির টাকা আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    (যদিও ভিডিও টির সত্যাসত্য এখনো সরকারী ভাবে প্রমানিত হয়নি।)সঞ্জীব মল্লিকের আরো অভিযোগ আমি বিরোধী রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলর হওয়ার জন্য পুরসভার তৃনমুল পরিচালিত বোর্ড আমাকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেয় না। আমার ও আমার দলের দাবী অবিলম্বে শহরের সমস্ত পুকুর গুলোকে সাধারন মানুষের ব্যাবহার যোগ্য করে পুকুরকে তার নিজস্ব চরিত্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। গ্রীন সিটির সমস্ত টাকা খরচ করে শহর কে সাজাতে হবে।

    এ ব্যাপারে আমরা পুরসভায় একাধিক বার জানিয়েছি। ৭ নং ওয়ার্ডে পুকুর ভরাটের অভিযোগ আছে ওয়ার্ড টি খোদ পুরপিতার। এছাড়াও ৮ নং ওয়ার্ডে সম্প্রতি একটি পুকুরের পারে সরকারী প্রকল্পের বাড়ি তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে পুরসভায় অভিযোগ জমা পরে। ওই ওয়ার্ডের তৃনমুল কাউন্সিলর টিঙ্কু সাউ জানান পুকুর ভরাটের অভিযোগ ঠিক নয় পুকুরের পাড়ে একটি বাড়ি হচ্ছে সরকারী প্রকল্পের।

    পুকুরের কোনো চরিত্র বদল হয়নি, তাছাড়া ওই পুকুর পাড়ে বহু আগে থেকেই অনেক বড় বড় বাড়ি তৈরি হয়ে আছে তখন আমি কাউন্সিলর ছিলাম না। কোনো বাড়ির রেকর্ডে ভিটে করা নেই পুকুর পাড় বলেই উল্লেখ আছে এটাও তাই গরীব মানুষের বাড়ি হচ্ছে।সবচেয়ে সমস্যা খোদ রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ওয়ার্ডে ওয়ার্ড টি শহরের হাটতলা নামে পরিচিত। শহরের বড় বাজার এটি দুইধারে ফুটপাত ব্যবসায়ী দের দখলে কোনো ভাবেই দমকল সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।কো

    কোনো অগ্নিসংযোগ ঘটলে একমাত্র ভরষা পুকুরের জল। সেখানেও বিভিন্ন পুকুর ভরাটের অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে করে আসছেন এলাকা বাসী। ওয়ার্ড টিতে মন্ত্রী বাড়ি হলেও বরাবর ওয়ার্ডটি বিরোধীদের দখলে। দীর্ঘ ১৫ বছর বিজেপির দখলে। বিজেপি কাউন্সিলার সুভাশিষ চৌধুরী জানান আমি ও আমার স্ত্রী মিলে তিন বার ক্ষমতায় আছি বার বার পুকুর ভরাটের অভিযোগ পুরসভায় করা হয়েছে আমরা ক্ষমতায় নেই বোর্ডে বিভিন্ন বার বিভিন্ন দল ক্ষমতায় এসছে কেউ ব্যাবস্থা নেয়নি।

    সম্প্রতি একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ এসছে পুরপিতা কে জানিয়েছি বোর্ড অব কাউন্সিলের মিটিং এ বলেছি আমার ওয়ার্ড সহ সমস্ত ওয়ার্ডের পুকুর সংস্কার করে পুকুরকে তার নিজের চরিত্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ও পুকুর ভরাটের অভিযোগ আছে ওয়ার্ড টি তৃনমুলের দখলে। এব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামালউদ্দিন সেখ (অমল) জানান এই মুহুর্তে আমি রাজ্যের বাইরে আছি ফিরে গিয়ে খোঁজ নেবো। পুরপিতা অশ্বিনী তেওয়ারি এ বিষয়ে জানান বহু ওয়ার্ডে এই অভিযোগ এসছে পুরসভা সব জায়গায় গিয়ে কাজ বন্ধ করেদিয়েছে। হচ্ছে এটা ঠিক তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কিন্ত সম্প্রতি একটি কমিটি করা হয়েছে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশে।ওই কমিটতে সরকারী আধিকারিক রা থাকবেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও আছেন। আমি পুরপিতা হওয়ার পর গ্রীন সিটি প্রকল্পে বহু পুকুর বাধিয়ে দিয়েছি ঘাট করে দিয়েছি কয়েকটি পুকুর পাড়ে সৌন্দর্যায়নের কাজ করেছি। কিছু এখনো বাকী আছে সব গুলোকে তার নিজস্ব চরিত্রে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে শুধু পুকুর নয় শহরে সব থেকে বেশি সমস্যা প্লাস্টিক ব্যবহারে।

    সমস্ত নালা পুকুর সব প্লাস্টিকের আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা বার বার বিভিন্ন প্রচারের মাধ্যমে মানুষ কে সচেতন করছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আমরা প্লাস্টিক বন্ধো অভিজানে নামবো। কোন দোকানদার প্লাস্টিক বিক্রি করলে জরিমানা করবো। প্লাস্টিকের ব্যাবহার বন্ধো হলেই ড্রেন, পুকুর সব পরিস্কার থাকবে।