মহামারির সংকটময় মুহূর্তে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমর্থন করা যায় না: মীরাতুন নাহার

    মহামারির সংকটময় মুহূর্তে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমর্থন করা যায় না: মীরাতুন নাহার

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: অযোধ্যায় রাম মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই সমালোচিত হয়েছে একাংশের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও ওয়েছে নানা প্রতিবাদ। প্রতিবাদের আঁচ বাংলাতেও। করোনা পরিস্থিতিতে দেশ একেবারে তলানিতে। এই সংকটময় মুহূর্তে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করে রাম মন্দিরে ভূমি পুজো মনে নিতে পারলেন না অধ্যাপক মীরাতুন নাহার।

    তিনি বলেন, “আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই কোনও-না-কোনও ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে চলে। আমার অভিমত সেটা মানুষের নিতান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। সেটা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে প্রযোজ্য। একজন মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে যে ধর্মই পালন করুন না কেন তা নিয়ে কারও অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।

    সংবিধান অনুযায়ী জনসমর্থন পেয়ে যারা আমাদের দেশটা চালোনার ভার পেয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ ভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ থাকবেন, কোনও বিশেষ ধর্মের পক্ষে কাজ করবেনা না। নেতানেত্রীরা কেউ ধর্ম পালন করলে তা ব্যক্তিগত স্তরে করবেন, কিন্তু জনসমক্ষে নয়। সংবিধান, যতদূর আমি জানি, এমন কথাই বলেছে। ভারতবর্ষ পরিচালনার ভার যারা নিয়েছেন তারাই আজকে রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ নিয়ে যারা এত কান্ড করছেন! আমি মোটেই মনে করি না, সংবিধান সম্মত কাজ তারা করছেন। ভারতবর্ষকে ধর্ম নিরপেক্ষ বলে মানলে সরকারের এই কাজকে সমর্থন করা যায় না।

    আজকের করোনা পরিস্থিতি সে কথা আমাদের আরও বুঝিয়ে দেয়। দেশের যা পরিস্থিতি– অর্থনীতি একেবারে বিপর্যস্ত। স্বাস্থ্যনীতি কিছুমাত্র কাজ করছে না। শিক্ষানীতি গঠন হলেও শিক্ষাব্যবস্থা থমকে রয়েছে। আমাদের গরিব দেশে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয়ে যেতে চলেছে। এবং তা দীর্ঘায়ু হবে কিনা তা কেউ বলতে পারে না।

    এরকম একটা সংকটময় মুহূর্তে, যেখানে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা যেখানে বিপর্যস্ত সেখানে বিশেষ একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রতিষ্ঠানের জন্য এত অর্থ ব্যয় সমর্থনযোগ্য নয়। এই অর্থ দেশবাসীর কল্যাণে ব্যবহৃত হলে ভাল হত। আমি মনে করি একটি রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে জনকল্যাণমূলক কাজের বদলে ভূমি পুজোর মতো যে সব কাজ করে চলেছেন সেসব অগণতান্ত্রিক আর সেকারনে সমর্থন যোগ্য নয়। যদিও আমার জানা নেই, এই বিপুল অর্থের জোগান সরকারি তহবিল থেকে এসেছে কিনা। যদি তা হয় তাহলে সেটা সমগ্র দেশবাসীর প্রতি বর্ণনামূলক কার্য বলে গণ্য হওয়া উচিৎ।”