অবসরে ধোনি-রায়না: জেনে নিন মহেন্দ্র সিং ধোনির কিছু বিশ্বরেকর্ড

অবসরে ধোনি রায়না: জেনে নিন মহেন্দ্র সিং ধোনির কিছু বিশ্বরেকর্ড

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ভারতের দুই বারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্ট্রাগ্রামে নিজেই এ ঘোষণা দেন সর্বশেষ গত বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ক্যাপ্টেন কুল। অনেকেই বলছিলেন, এবারের আইপিএলে ভালো করে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফিরবেন। কিন্তু সব কিছু এককথায় শেষ করে দিলেন ধোনি।

এক বছর ধরে অবসর নিয়ে কোনো কথা না বললেও ৩৯ বছর বয়সী ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আজ সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ক্যারিয়ারজুড়ে আমাকে ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ । ৭টা ২৯ মিনিট (আজ, শনিবার, ১৫ আগষ্ট, ২০২০) থেকে আমাকে অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার হিসেবে গ্রহণ করুন।

অবসর ঘোষণার বার্তায় একটি ভিডিও জুড়ে দিয়েছেন ধোনি। যাতে ফুটে উঠেছে তাঁর ১৫ বছরের ক্যারিয়ার। একটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়, একটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে ধোনিই ভারতের সফলতম অধিনায়ক। টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছিলেন আকস্মিকভাবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও ছাড়লেন আচমকা এবং খুব অসময়ে। তবে ইতিমধ্যেই তিনি আইপিএল দল চেন্নাইয়ের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।

ধোনির পর সুরেশ রায়না।স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় একের পর এক চমক। মহেন্দ্র সিং ধোনির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার খবর সবেমাত্র ঘোষণা হয়েছে। তারপরেই এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানালেন সুরেশ রায়না। ধোনির মতো তিনিও ইনস্টাগ্রামে নিজের অবসর ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানান৷

একনজরে মহেন্দ্র সিং ধোনির কয়েকটি বিশ্ব রেকর্ড:

পৃথিবীতে একমাত্র অধিনায়ক হিসাবে ধোনি জিতেছেন সমস্ত আইসিসি ট্রফি। জিতেছেন ২০০৭ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। পৃথিবীর অন্য কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কের এই কীর্তি নেই।

• অধিনায়ক হিসাবে নিজের দেশকে সর্বাধিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডও তার দখলে। একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে নিজের দেশকে প্রতি ফরম্যাটে ৫০ টি-র বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া একমাত্র অধিনায়কও তিনি। ২০০ টি ওয়ান ডে, ৬০ টি টেস্ট এবং ৭২ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মিলিয়ে মোট ৩৩২ টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহি। তার ঠিক পরেই রয়েছেন রিকি পন্টিং। তিনি মোট ৩২৪ টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

• অধিনায়ক হিসাবে ৬ টি বহুদলীয় ওয়ান ডে প্রতিযোগিতায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৪ টি প্রতিযোগিতায় তার নেতৃত্বে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। বহুদলীয় ওয়ান ডে প্রতিযোগিতায় যা অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ। আর কোনও অধিনায়ক নিজের দেশকে ৪ টি বহুদলীয় ওয়ান ডে প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়ে বিজয়ী হতে পারেননি।

• নিজের ওয়ান ডে কেরিয়ারে মোট ৮৪ বার নট-আউট থেকে গিয়েছেন ধোনি যা একটি রেকর্ড। তার মধ্যে ৫১ বারই ভারত রান তাড়া করছিল এবং এর মধ্যে ৪৭ বার ভারত রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে। অন্য কোনও ব্যাটসম্যান ওয়ান ডে তে নট-আউট থাকার ব্যাপারে ৮০-এর গন্ডি ছুঁতে পারেননি। তার পরে এই তালিকায় রয়েছেন শন পোলক। তিনি কেরিয়ারে মোট ৭২ বার নট আউট থেকেছেন।

• উইকেটকিপার হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবথেকে বেশি স্টাম্পিংয়ের রেকর্ডও মাহির দখলে। মোট ১২৩ টি স্টাম্পিংয় এ নাম জড়িয়ে রয়েছে তার। বিশ্বের বড় বড় নামকরা উইকেটকিপারদের মধ্যে কেউ ১০০ স্টাম্পিংয়ের গন্ডিও পেরোতে পারেননি।

এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেই সব আকর্ষণীয় ঘটনা:
১. একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে ধোনির দখলে রয়েছে তিনটি আইসিসি ট্রফি। আইসিসি টি ২০ ২০০৭, আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১১ এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৩। ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে এই রেকর্ড রয়েছে সকলের প্রিয় মাহির।
২. ক্রিকেটের পাশপাশি ধোনির পছন্দের খেলা ফুটবল। স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি গোলকিপার ছিলেন।এছাড়াও তিনি ব্যাডমিন্টনে দক্ষ ছিলেন। এই দুই খেলাতেই ক্লাব এবং জেলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পরবর্তীকালে কোচ কেশব বন্দোপাধ্যায়ের কারণেই তিনি ক্রিকেটে আসেন।
৩. হেলিকপ্টার শটের কারণে ধোনি জনপ্রিয়। কিন্তু এই শট রাঁচিতে এক টেনিস বল টুর্নামেন্টে তাকে শিখিয়েছিলেন তাঁর এক বন্ধু সন্তোষলাল।
৪. পাশপাশি ধোনির আরও এক ভালোবাসা গতি। অর্থাৎ তিনি মোটর রেসিং পছন্দ করেন। পাশপাশি তার নিজের কাছে রয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক মডেলের বাইক। পড়াশোনার সময় থেকেই তার আকর্ষণ ছিল বাইকে। সেই সময়ে তার প্রথম বাইক ছিল রাজদূত। পরবর্তী কালে নিজের বাইকের প্রতি এই প্যাশনের কারণে একাধিক বাইক নিজের সংগ্রহে রাখেন। পরবর্তীতে তার সংগ্রহে আসে ইয়ামাহা আরডি ৩৫০। এছাড়াও ভারতে ধোনি প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজের সংগ্রহে রেখেছিলেন কাওয়াসাকি নিঞ্জা এইচ২। অত্যন্ত দ্রুত গতি সম্পন্ন এই বাইক পছন্দ করেন অনেকেই। এই বাইকে রয়েছে ৬ স্পিড গিয়ারবক্স।
৫. এছাড়াও তার সংগ্রহে রয়েছে হার্লে ডেভিডসন ফ্যাট বয়। এই বাইকটি রয়েছে তাঁর নিজের শহর রাঁচিতে। অনেকের মত তিনিও হার্লে ডেভিডসন বাইকের ভক্ত। ধোনির এই বাইকে রয়েছে ১৬৯০ সিসি এয়ার কুলড ভি টুইন ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনে রয়েছে ৬ স্পিড ট্রান্সমিশন। এছাড়াও তার সংগ্রহে রয়েছে কনফেডারেট এক্স ১৩২ হেলক্যাট। বিশ্বের খুব কম তারকার সংগ্রহে রয়েছে এই বাইক। যাদের মধ্যে রয়েছেন ব্র্যাড পিট, টম ক্রুজ, ডেভিড বেকহ্যামএবং রেয়ান রেনল্ড।আর ভারতে একমাত্র এই বাইক রয়েছে ধোনির গ্যারাজে। এছাড়াও রয়েছে কাওয়াসাকি জেডএক্স- ১৪আর। আর ধোনি সংগ্রহে রয়েছে কালো মডেলের এই বাইক। এই বাইকে রয়েছে ১৪৪১ সিসি ফোর সিলিন্ডার ইঞ্জিন। আর এর গতি ৩০০ কিমি/ ঘণ্টা।
৬. এছাড়া ধোনির সংগ্রহে রয়েছে ডুকাটি ১০৯৮। খুব অল্প সময়ের জন্যই এই বাইক বাজারে আনা হয়েছিল। আর সেই কারণে বিশ্বজুড়ে এই বাইকের ক্রেতার সংখ্যা কম। তবে সেই সুযোগ ছাড়তে চাননি ধোনি। এই বাইক বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কিনেছিলেন। নামের মতই এই বাইকে রয়েছে ১০৯৮ সিসি ইঞ্জিন। যা ১৬০ পিএস ক্ষমতা সম্পন্ন। যদিও পরবর্তীকালে এই সিরিজ টি পরিবর্তিত হয়ে ডুকাটি ১১৯৮ হিসেবে বাজারে আসে। এছাড়াও ধোনির সংগ্রহে রয়েছে আরও একাধিক বাইক। রয়াল এনফিল্ডের মাচিসমো, সুজুকি শগুন, ইয়ামাহা আরডি৩৫০, ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ ৬০০আর, বিএসএ গোল্ডস্টার সহ একাধিক বাইক রয়েছে তাঁর সংগ্রহে।
৭. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশের সময়ে তার ছিল লম্বা চুল। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তার চুল কেটে ফেলেছিলেন। ক্রিকেটের পাশপাশি বিজ্ঞাপনের দুনিয়াতেও তিনি ছিলেন যথেষ্ট জনপ্রিয়।
৮. মহেন্দ্র সিং ধোনি একমাত্র ক্রিকেটার যিনি আটটি আইপিএল ফাইনাল খেলেছেন। এছাড়া ২০১৮ সালে টি ২০ ক্রিকেটে উইকেট কিপার হিসেবে সব থেকে বেশি ক্যাচ ধরে নয়া রেকর্ড করেছিলেন।
৯. এছাড়া তিনি খড়গপুর রেলস্টেশনে টিকিট এক্সামিনার হিসেবে চাকরি করতেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার হিসেবে চাকরি করতেন।
১০. পাশপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও তিনি যথেষ্ট উচ্চ পদমর্যাদার একজন আধিকারিক ছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তিনি ছিলেন একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থেকেই তাকে দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিনেই তিনি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন তা ভাবতে পারেননি কেউই।