নাগরিকত্ব ছাড়া মায়ানমারে ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারা:  বিক্ষোভ

নাগরিকত্ব ছাড়া মায়ানমারে ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারা:  বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক, বঙ্গ রিপোর্ট: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসা মিয়ানমার ও আহা সেন্টারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের মত বৈঠকে বসেছেন রোহিঙ্গা নেতারা। রোববার সকালে উখিয়ার কুতুপালং-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথকভাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা নেতারা বরাবরের মত তাদের দাবিগুলো উত্থাপন করেন। এসময় প্রতিনিধিদলের নেতৃবৃন্দরা রোহিঙ্গা নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন যে নিয়মিত বৈঠক অব্যাহত থাকলে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জটিলতা দূর হবে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আসা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আহা সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রোহিঙ্গা নেতারা। বৈঠকে আহা সেন্টারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতারা খোলামেলা আলোচনা করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে একইভাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে বসেন রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গেও।

পরে আন্তর্জাতিক বিভিন্নদাতা সংস্থা ও এনজিও এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুরূপ বৈঠকে বসেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন তারা। পরে দুপুর ১টার দিকে ১০জন হিন্দু রোহিঙ্গা নেতা ও ৪জন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে আলাপ-আলোচনা করেন। এসময় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য বুঝিয়েছেন তারা। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিমানযোগে প্রতিনিধি দল ঢাকায় ফেরেন।

দুই দিনের সফরে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আহা সেন্টারের একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে।
প্রতিনিধি দলটি শনিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌছে হোটেল রয়েল টিউলিপে যান। দুপুরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলটি কুতুপালং ৪নং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেন। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব কাজ করছে সেগুলো তুলে ধরেন। প্রত্যাবাসন ইস্যুতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও যৌথ ডায়লগে অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল ও রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটির সাথে আলোচনায় অংশ নেয়া রোহিঙ্গারা জানান, ওই সংলাপে মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ছাড়াও বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তবে কবে নাগাদ এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিত করেনি মিয়ানমার প্রতিনিধি দল।
এদিকে দেশে ফিরে গেলে সেখানে রোহিঙ্গারা কি রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন সে সম্পর্কে ধারণা দেন মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা। এসময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে নাগরিকত্বসহ নানা দাবি উথাপন করা হয়। অপরদিকে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে শনিবার ও রোববার বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধের জন্য দায়ী মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানান। তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও বসতবাড়িসহ সকল সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানান রোহিঙ্গারা।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৭লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছে। তবে, ২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গাসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের উখিয়া-টেকনাফের ৩১টি ক্যাম্পে জড়ো করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চালানো হয়। কিন্তু দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। গত বছরের শেষ সময়ে ও চলতি বছরের শুরুতে প্রত্যাবাসন আরম্ভ হবার কথা দিলেও কথা রাখেনি মিয়ানমার।
অপর একটি সূত্র মতে, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর আগে আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রশমন করতে চায় মিয়ানমার। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠালো তারা। গত বছরও মিয়ানমারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছিল। এরপরেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো গতি আসেনি। শনিবার আসা দলটি ফিরে গেলে প্রত্যাবাসনে কি বার্তা আসে তা দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী।