মায়ানমারে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে রোহিঙ্গাদেরকেও ভোটাধিকার দিতে হবে

মায়ানমারে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে রোহিঙ্গাদেরকেও ভোটাধিকার দিতে হবে

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: নভেম্বরে শুধু আমেরিকানরাই ভোট দেবে না। আধা শতকের সামরিক শাসন থেকে সরে আসার পর মিয়ানমারের তৃতীয় নির্বাচনও হবে নভেম্বরে, ৮ তারিখে।

দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে ঝুলছে। সশস্ত্র সঙ্ঘাতের কারণে ঘরবাড়িহারা জাতিগত নাগরিকরা কিভাবে ভোট দেবে? ভোটারদের ভুল তথ্য থেকে কিভাবে বাঁচাবে ফেসবুক? কোভিড-১৯ এর মধ্যে সরকার কিভাবে প্রচারণা চালাবে এবং কিভাবেই বা ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে?

এই চ্যালেঞ্জগুলো কঠিন। কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে, যেটার সমাধান সহজ, এবং নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, সেটা নির্ধারণের জন্যও এটা গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো সরকার কি রোহিঙ্গাদেরকে ভোটাধিকার দেবে?

রোহিঙ্গারা জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু। এদের অধিকাংশই মুসলিম এবং পশ্চিম মিয়ানমারে তাদের বাস। এই মুহূর্তে দেশের ভেতরের চেয়ে বাইরেই বেশি রয়েছে রোহিঙ্গারা। এর কারণটা এক কথায় হলো: গণহত্যা।

২০১৬ সালের অক্টোবরে এবং ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সামান্য রোহিঙ্গা গেরিলা তৎপরতার জবাবে পূর্ণোদ্দমে বেসামরিক নাগরিকদের উপর নিধন অভিযান চালায়। আর লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। শিগগিরই মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার কোন আশা তাদের নেই। এটা ২০২০ সালের নির্বাচনের জন্য একটা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রোহিঙ্গা-নেতৃত্বাধীন শরণার্থী গ্রুপগুলো এরই মধ্যে বলেছে যে, বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা যাতে ভোট দিতে পারে, সে জন্য যেন সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যাণ্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) মিয়ানমারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে যাতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে শরণার্থী ক্যাম্পে তারা ভোটার নিবন্ধন করে এবং সেখানে ভোটের ব্যবস্থা করে। আরও অনেক রোহিঙ্গা এরপর একই অনুরোধ জানিয়েছে।