পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে শপথ নিলেন তানজানিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট সামিয়া হাসান

পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে শপথ নিলেন তানজানিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট সামিয়া হাসান

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: তানজানিয়ায় প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হলেন সামিয়া সুলুহু হাসান। শুক্রবার (১৯ মার্চ) তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির আকস্মিক মৃত্যুর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিয়া হাসান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারুসসালামে ৬১ বছর বয়সী সামিয়া হাসান প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

শপথ অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সামিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানে সামিয়া হাসান সততার সঙ্গে তানজানিয়ার সংবিধান সমুন্নত রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

তানজানিয়ার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা। সামিয়া সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২০ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাগুফুলি ও সামিয়া পুনর্নির্বাচিত হন। ২০১৫ সাল থেকে সামিয়া হাসান ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত বুধবার (১৭ মার্চ) তানজানিয়ার সরকারি টেলিভিশনে সামিয়া হাসান প্রেসিডেন্ট মাগুফুলির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাগুফুলি মারা যান।

তিনি মৃদুভাষী– নম্র ও একজন বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। হঠাৎই একটা গোটা দেশের শাসনভার এসে পড়েছে তাঁর কাঁধে। তানজানিয়ার ক্ষমতাসীন মধ্যবামপন্থী চামা চা মাপিনদুজি সিসিএম দলের কর্মী ছিলেন তিনি। ক্রমে নিজের যোগ্যতার মাধ্যমে কাজ করে দলীয় নেতাদের নজরে আসেন এবং পদমর্যাদো বাড়তে থাকে তাঁর।

শেষপর্যন্ত ২০১৫ সালে জন মাগফুলি তাঁকে রানিং মেট বানান এবং নিজের প্রথম নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন সামিয়াকে নিয়েই। সেই ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে মাগফুলির দল এবং ঐতিহাসিকভাবে তানজানিয়ার প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সামিয়া হাসান। বিগত অক্টোবরের নির্বাচনে অবশ্য নানান অব্যবস্থাপনার অভিযোগের মাঝে পুননির্বাচিত হয় মাগফুলিসামিয়া জুটি।

এরপর থেকে প্রেসিডেন্ট মাগফুলির প্রতিনিধি হয়ে অপরিচিত মুখ হয়েই বহুবার বিদেশ সফর করেছেন তিনি। কারণ তানজানিয়ার বাইরে তেমন কেউই তাঁকে চিনতেন না। তবে আজ হাতে পবিত্র কুরআন ধরা ও মাথায় স্কার্ফ পরা সামিয়ার ছবি ভেসে উঠেছে সবগুলো আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেলে। বিশ্ব মানচিত্রে লুকিয়ে থাকা একটি ছোট্ট দ্বীপের মেয়ে এখন আফ্রিকার আইকন বনে গিয়েছেন।