সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর কেন্দ্রের নির্বাচনের দিন ১৩ মে সম্ভাব্য ইদ হতে পারে ! দিন বদলের দাবি স্থানীয়দের

সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর কেন্দ্রের নির্বাচনের দিন ১৩ মে সম্ভাব্য ইদ হতে পারে ! দিন বদলের দাবি স্থানীয়দের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্র সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরের সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস ও আরএসপি প্রার্থী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায় ২৬ এপ্রিল ঘোষিত নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ঐ দুটি কেন্দ্রে পরবর্তী নির্বাচনের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার কমিশনের তরফে দুটি পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ মে ওই দুই কেন্দ্রে নির্বাচন। ভোটগণনা আগামী ১৮ মে।

ভোটের দিন ঘোষণা হতেই স্থানীয়রা কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কারণ, ঘটনাচক্রে ১৩ মে আবার ইদ হতে পারে। ইদের দিন ভোট দিতে যেতে নারাজ ঐ দুই কেন্দ্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোট বয়কটের হুমকিও দিচ্ছেন অনেকেই। ঐ দুই কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত এবং দুটি কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত।

এবারে রোজা শুরু হয়েছে ১৪ এপ্রিল। যদি ২৯ টি রোজা হয় তাহলে ১৩ মে ইদ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এলাকার মানুষের দাবি যে দিন ইদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেদিন ভোটের দিন নির্ধারণ করা একেবারে ঠিক হয়নি। অবিলম্বে কমিশন ১৩ ও ১৪ মে বাদ দিয়ে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করুন।

২৬ এপ্রিল অর্থাৎ সপ্তম দফায় সামশেরগঞ্জ আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী রেজাউল হক করোনায় প্রয়াত হন। কংগ্রেস প্রার্থীর মৃত্যুতে নিয়ম মেনে বাতিল করতে হয় সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রের নির্বাচন। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, নিয়ম মেনে পরে ওই দুই কেন্দ্র ভোটের দিন ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে, জঙ্গিপুর কেন্দ্রেও ২৬ এপ্রিলই ভোট হওয়ার কথা ছিল। এই কেন্দ্রেও থাবা বসায় করোনা। ১৬ এপ্রিল মৃত্যু হয় এই কেন্দ্রের সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী তথা আরএসপির লোকাল কমিটির সম্পাদক প্রদীপ নন্দীর। যথারীতি ওই কেন্দ্রেও ভোট পিছিয়ে দিতে হয়।

সোমবার ওই দুই কেন্দ্রেই ভোটের দিন ঘোষণা করেছে কমিশন । বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ওই দুই কেন্দ্রে ভোট হবে সম্ভাব্য ইদের দিন অর্থাৎ আগামী ১৩ মে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন আগামী ২৬ এপ্রিল। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। দুই কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৮মে। মুশকিল হল, এই দুই কেন্দ্রেই ভোটারদের মধ্যে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সংখ্যাই বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য ইদের দিন ভোট ঘোষণা হওয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।