নেতাজির আইএনএ-র নির্ভরযোগ্য সেনানায়ক ছিলেন শাহরুখের মাতামহ জেনারেল শাহনওয়াজ খান

নেতাজির আইএনএ-র নির্ভরযোগ্য সেনানায়ক ছিলেন শাহরুখের মাতামহ জেনারেল শাহনওয়াজ খান

 

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: কয়েকবছর আগে ভারতকে ‘অসহনশীল দেশ’ বলার ‘অপরাধ’-এ তাঁকে পাকিস্তানে চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি, শাহরুখ খান সে কথায় পাত্তা দেননি। তখন সামনে এসেছিল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শাহরুখ যে শুধুমাত্র এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর পুত্র তাই নয়, তাঁর মাতামহসম জেনারেল শাহনওয়াজ খান ছিলেন নেতাজি সুভাষ বসু ঘনিষ্ঠ সহযোগী, তাঁর আইএনএ-এর এক নির্ভরযোগ্য সেনানায়ক।

চারের দশকে দিল্লিতে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয় লতিফা ফাতিমা নামক এক বালিকা। জেনারেল শাহনওয়াজ তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছন। সেখানেই বালিকার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় তাঁর। ফাতিমাকে নিজের মেয়েই মনে করতেন শাহনওয়াজ। শোনা যায় তিনি ফাতিমাকে দত্তকও নিয়েছিলেন, যদিও শাহরুখের পরিবারের তরফ থেকে এই খবরকে কখনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীকালে ফাতিমার বিয়ে হয় স্বাধীনতা সংগ্রামী মীর তাজ মহম্মদের সঙ্গে। ১৯৬৫ সালে তাঁদের এক পুত্রসন্তান জন্মায়— নাম শাহরুখ খান। ফাতিমার বিয়েও হয়েছিল শাহনওয়াজের বাংলোতেই।

ছেলেবেলা থেকে ১৯৮৫ সালে শাহনওয়াজের মৃত্যু পর্যন্ত প্রায়শই তাঁর বাড়ি যেতেন শাহরুখ এবং তাঁর বোন। বিশেষত, এই দাদুর বাড়িতে ঈদের নেমন্তন্ন তো কখনওই ‘মিস’ করতেন না শাহরুখ। ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার টিক্কা খানের পুত্র শাহনওয়াজ বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ১৯৩৫ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর কর্মস্থল ছিল দক্ষিণপূর্ব এশিয়া।

১৯৪২-এ ৪০ হাজার যুদ্ধবন্দিদের একজন ছিলেন শাহনওয়াজ। পরবর্তীকালে তিনি নেতাজির নেতৃত্বে যোগ দেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা আইএনএ-তে। ১৯৪৫ সালে মে মাসে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে পরাজয় হয় আইএনএ-র। সে বছরই আগস্টে যুদ্ধবন্দিদের বিচার শুরু হয় লালকেল্লায়। সেই বিচারে ব্রিটিশ সরকার বন্দিদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিলেও জনরোষের ভয়ে সেটা করতে পারেনি।