পার্ক সার্কাসে CAA বিরোধী অবস্থান বিক্ষোভে বিনামূল্যে ৩০০ প্লেট চিকেন হালিম দিয়ে নজর কাড়লেন শামসুল

পার্ক সার্কাসে CAA বিরোধী অবস্থান বিক্ষোভে বিনামূল্যে ৩০০ প্লেট চিকেন হালিম দিয়ে নজর কাড়লেন শামসুল

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: পার্ক সার্কাস এখন কলকাতাযর নতুন শাহিনবাগ। ৭ জানুয়ারি থেকে সিএএ এবং এনআরসি–র বিরুদ্ধে ধরনায় বসেছেন মহিলারা। থাকছেন সারা রাতও। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছেন কলকাতাবাসীদের একটা বড় অংশ। তারই মধ্যে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাতারাতি ‘‌ভাইরাল’‌ হয়ে গিয়েছেন শামসুল হুদা।

না, এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন না তিনি। তবে তিনিও পাশে দাঁড়িয়েছেন এই আন্দোলনের। সমর্থন ‘‌পাঠিয়েছেন’‌ একটু ভিন্নভাবে। আন্দোলনরত মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে হালিমের ব্যবস্থা করছেন শামসুল। প্রায় ৩০০ প্লেট চিকেন হালিম নিজের হাতে বানিয়ে পার্ক সার্কাসে অবস্থানরত মহিলাদের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বিষয়টা প্রথম নজরে আসে মিজানুল কবির নামে এক যুবকের। ১২ জানুয়ারি রবিবার পার্ক সার্কাস ময়দানের ধরনা থেকে ফেরার পথে তিনি হালিম খেতে শামসুল হুদার দোকানে যান। মা ফ্লাইওভার ওঠার মুখে গেটের কাছেই হালিম বিক্রি করেন শামসুল।

কিন্তু দোকানে হালিম থাকলেও সেটা মিজানুলকে বিক্রি করতে রাজি হননি তিনি। বিস্মিত মিজানুল এর কারণ জানতে চাইলে শামসুল বলেন, ‘‌এই হালিম বিক্রির জন্য নয়। ময়দানে যে মা–বোনরা আন্দোলন করছেন, এটা আমি ওঁদের জন্য রেখেছি।’‌

মিজানুলকে তিনি আরও জানান, এই ৩০০ প্লেট হালিমই তিনি বিনামূল্যে দিচ্ছেন।
নিউজপোলের সঙ্গে কথা বলার সময় শামসুল বললেন, ‘‌আসলে অনেক দূর দূরান্ত থেকে সকলে আসছেন এই আন্দোলনে যোগ দিতে। আমাদের মা–বোনরা খোলা আকাশের নীচে বসে শীতের মধ্যে আন্দোলন করছেন। ওঁদের মুখে একটু গরম খাবার তুলে দেওয়াটা আমি কর্তব্য বলে মনে করছি।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌এটা ভাবলে ভুল হবে যে শুধু মুসলিমরাই এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

অনেক হিন্দুভাইও আসছেন এখানে। ওঁরা গোমাংস খান না। ওঁদের খাদ্যাভ্যাসকে সম্মান জানিয়ে খুব সচেতনভাবেই চিকেন হালিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। যাতে না জেনেও যদি কেউ হালিম খান, তাহলেও যেন তাঁদের খাদ্যাভ্যাসের বিচ্যুতি না ঘটে। আসলে এই লড়াই জাতিধর্ম নির্বিশেষে গোটা দেশের মানুষের। আমি হয়তো সরাসরি রাস্তায় নামতে পারছি না। কারণ পার্ক সার্কাস ছাড়াও মেটিয়াবুরুজ এবং ব্রড স্ট্রিটে দোকান রয়েছে। সেগুলোও আমাকে দেখতে হচ্ছে। তাই এভাবেই কিছুটা পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’‌

নানারকম সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন শামসুল। তবে এক্ষেত্রে বিরাট কিছু করে ফেলেছেন বলে মনে করেন না তিনি। বললেন, ‘‌এই দেশ কারও একার নয়। এই দেশ কোনও একটি ধর্মের নয়। আমাদের দেশে এত ধরনের মানুষ আছেন বলেই এই দেশ এতো সুন্দর। সমাজসেবা করা মানে তো দেশেরই সেবা করা। সবাইকে নিয়েই দেশ, দেশের জন্য লড়াইকে সবাইকে পাশে চাই। আমি একজন সামান্য ব্যবসায়ী। যেটুকু করতে পারতাম, সেটুকুই করেছি।’‌