চুপ বিজেপি আসছে!

চুপ বিজেপি আসছে!

 

পাঠকের কলমে: গত পঞ্চায়েত ইলেকশন থেকে বাংলায় একটা দারুণ রাজনীতি চলছে, যেখানে শাসকদলের কর্মীরা এবং নেতারা চারিদিকে একটা কথা চাউর করছে ‘আরে একুশের বিধানসভা নির্বাচনটা পার হয়ে যাক, তারপর যে যা পারিস তাই করিস, এখন বিজেপিকে ঠেকাতে হবে।’ খুব ভালো কথা এখন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যা ইচ্ছা তাই করে যাবে, যা ইচ্ছা তাই বলে যাবে, আর মিঞাভাই তুমি কিছু বললে বিজেপি এসে যাবে! আহারে! আবার মুসলিমদের ‘ধর্মগুরু’ রা (যদিও ইসলামে এমন শব্দের প্রয়োগ নেই) যারা মসজিদের ইমাম এবং মুয়াজ্জিন গিরি করে সরকারি ভাতা পান তারাও একটা আশঙ্কার মধ্যে আছে, সেজন্য তারাও চুপ, তারা উচিত কথা বলতে পারেনা, যদি বিজেপি এসে যায় তারা যদি ভাতে মারা পড়ে! যারা নিজেদের এলিট ভাবে বেশ একটু লেখক-সাহিত্যিক গোছের তাদের বড় অংশ মনে মনে ভাবছে যাইহোক তৃণমূল যদিও বা একটু কদর করে, যদি বিজেপি এসে যায় তাহলে তো তারা মুসলিম বলে হয়ত পাত্তাই দেবে না, সেজন্য তারাও চুপ। বলি শাসক দলের নেতাকর্মীরা একের পর এক পুকুর চুরি করে যাবে, আর কেউ কিছু বললে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক কমে যাবে, বিজেপি এসে যাবে এইসব জুজু দেখিয়ে মানুষকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে, এটাকি সম্ভব!

কোন রাজ্যে কি হচ্ছে এটা আমার দেখার বিষয় না, কারা কত বছর মানুষের উপরে জুলুম করেছে, রাজ্যকে পিছিয়ে রেখেছে সেটাও আমার দেখার বিষয় না, এখন যারা ক্ষমতায় জনগণ তাদের ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিল তারা কতটা জনগণের জন্য কাজ করলো সেটাই দেখার। শুধু সংখ্যালঘুদের বিজেপির ভয় দেখিয়ে ভোট লোটার চেষ্টা করে তাহলে বুঝতে হবে এ সরকারের কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাম আমলে সংখ্যালঘুদের যেহাল ছিল চাকরি বাকরি ক্ষেত্রে তৃণমূল আমলে তার কতটা পরিবর্তন হয়েছে এ তথ্য দিয়ে সরকার দাবি করুন যে সংখ্যালঘু ভোটের দাবিদার তারা। প্রথম পাঁচ বছরে সংখ্যালঘুদের ৯০% কাজ হয়ে গেছে, আর পরের পাঁচ বছরে বাকি ১০% কাজ করে সংখ্যালঘুদের ১০০% কমপ্লিট করে দিয়েছে। অতাএব পুরো ভোট শাসকদলের বাক্সে, তা না হলে ‘নিমক হারাম’!

শাসকদলে সংখ্যালঘুদের ‌প্রতিনিধিত্ব করা মুসলমান নেতা-নেতৃদের বড় অংশ আলাদা কোন মুসলিম পরিচিতি আছে বলে মনে হয় না, এরাও অন্যদের মত চুরি-ডাকাতি-খুন-তোলাবাজি সব কিছুতেই চ্যাম্পিয়ন। মুসলিম নাম নিয়ে বড় পদ হাসিল করে নিয়ে যখন যে ক্ষমতায় তার হয়ে ভাড়া খাটে। আপনাদের নিশ্চয়ই বিরাট লম্বা দাড়িওয়ালা মনিরুলের কথা মনে পড়ে, একদা তৃণমূল পার্টি জাদরেল কর্মী পরবর্তীতে ভিড়ে গেলেন বিজেপিতে। এখন সওকাত মোল্লাদের মত যাদের দেখছেন তারা একদিন খুন জখম রাহাজানি প্রভৃতি অভিযোগ থেকে বাঁচতে, তখন যিনি শাসক থাকবে তার দলে ভিড়বে।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ঠেকানোর সবচেয়ে বেশি দায় মুসলমানদের! কারণ গোবলয়ের রাজ্য গুলো দেখে আমরা সত্যিই শংকিত। তবে যে মূর্খরা বলছেন যে একটার পর একটা শাসক দলের কর্মীরা অন্যায় করে যাবে আর গোটা মুসলিম সমাজ শুধুমাত্র বিজেপির হাত থেকে রাজ্য কে বাঁচানোর জন্য তৃণমূলকে ভোট দেবে এটা একটা হাস্যকর দাবি। ঘটনাটা আরেকটু ভালো করে উপলব্ধি করার দরকার আছে ২০২১ এ নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে যে সমস্ত বিধায়করা কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয়ে যাবেন তাদের কিভাবে দলে রেখে সরকার গঠন করতে পারে সেটাই বাংলার মানুষ দেখতে চাই। এখনো সরকারের হাতে সময় আছে পার্টির চরিত্রহীন দুর্নীতিবাজ খুনি ‘জঙ্গি’ (শ‌ওকতরা যেমন যেকোন মুসলিমদের বলে) ক্যাডারদের হাত থেকে যদি বাংলার জনগণকে নিরাপত্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ দিতে না পারেন তবে ক্ষমতা হাত বদল হবেই। যদি ক্যাডারদের সমস্ত কর্ম ভুলে ৯০ ভাগ মুসলিম তৃণমূলকে ভোট দেয়, তবুও বিজেপির হিন্দু তোষণে কাছে, দিদির হিন্দু তোষণ দাঁড়াতে পারছে না, সঙ্গে ৩৪ বছরের সমস্ত দুর্নীতির রেকর্ড ভেঙে দেওয়া ক্যাডারদের বোঝা। এখন যত‌ই বলি চুপ বিজেপি আসছে সেটা কতক্ষণ!!!

কলমে: রাকিবুল ইসলাম, বাদুড়িয়া, উঃ ২৪ পরগনা