আকাশছোঁয়া সাফল্য! সবদিক বিবেচনা করেই নতুন মন্ত্রিসভা নিজেই তৈরি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

    আকাশছোঁয়া সাফল্য! সবদিক বিবেচনা করেই নতুন মন্ত্রিসভা নিজেই তৈরি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: আকাশছোঁয়া সাফল্য। প্রত্যাশাও তাই গগনচুম্বী। নির্বাচন পর্বে বিজেপির সাঁড়াশি প্রচারে অনেক সিনিয়র তৃণমূল নেতা কর্মী ঠিক যেন ভরসা পাচ্ছিলেন না। কিন্তু ২ মে বদলে দিয়েছে পুরো ছবি। ফলে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি শপথ নেওয়ার পরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন এখন একটাই। কারা মন্ত্রী হচ্ছেন? নতুন মুখ কতজন থাকছে সেই মন্ত্রিসভায় ? সূত্রের খবর ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে রবীন্দ্রভবনে শপথ নেবেন মন্ত্রীরা। তার আগেই বিধানসভায় শপথ নেবেন বিধায়করা।

    মমতা ব্যানার্জি আগেই জানিয়েছিলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এবার আর তিনি নিজের হাতে বেশি দপ্তর রাখবেন না। আগের বার কম বেশি ১০টি দপ্তর ছিল তাঁর হাতে। গত সরকারের শেষের দিকে যখন একাধিক মন্ত্রী দল ছাড়েন তখন তাদের দপ্তরগুলো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার কাছেই ছিল। আবার এমন অনেক সিনিয়র মন্ত্রী ছিলেন যাদের কাছে একাধিক দপ্তর ছিল। যেমন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অমিত মিত্র, অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ। এবার দপ্তর বণ্টনের ক্ষেত্রে খানিকটা বিকেন্দ্রীকরণের দিকে হাঁটতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে।

    একইসঙ্গে পুরনো সরকারে যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন এবং এবার জিতে এসেছেন তাদের দাবি রাখতেই হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে সুব্রত মুখার্জির কথা। বালিগঞ্জ বিধানসভা থেকে এবার তার জেতার ব্যবধান ৭৫ হাজার। যেমন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নিজের কেন্দ্র রাসবিহারী বদলে এবার তিনি ভবানীপুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। ভবানীপুর অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জির ভোট কেন্দ্র।

    আবার হাড়োয়া থেকে প্রায় ৮১ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতে এসেছেন হাজী নুরুল ইসলাম। তবে ২৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধান মালদহের সুজাপুরের আব্দুল গণি সেখানে জিতেছেন প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এমনিতেই কথা ছিল এবার সরকার গঠন হলে তৃণমূলের মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু মুখ, মহিলা, এবং বিভিন্ন জেলা থেকে যাঁরা জিতে এসেছেন তাদের বেশি সংখ্যায় রাখা হবে।

    সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভায় ফিরে আসছেন মদন মিত্র। এমনটাও জানা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া পরিবহন দপ্তর পেতে চলেছেন তিনি। দুই তারকা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী এবং পরিচালক রাজ চক্রবর্তী মন্ত্রী হতে পারেন বলে খবর। নন্দীগ্রামের পাশের কেন্দ্র চন্ডীপুর থেকে জিতে এসেছেন সোহম। এমনিতেই পূর্ব মেদিনীপুর এবার যথেষ্ট ‘স্পর্শকাতর’ ছিল।

    আবার অন্যদিকে ব্যারাকপুরে কঠিন লড়াই ছিল রাজের। রাজনৈতিক মহলের মত, অর্জুন সিং বিজেপিতে চলে যাওয়ার পরে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সেই হিসেবে পুরস্কার পেতে চলেছেন রাজ।

    তালিকায় রয়েছেন নতুন দুই মহিলা মুখ। একদিকে মেদিনীপুর থেকে জিতে আসা জুন মালিয়া যিনি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের শিশু সুরক্ষা কমিশনের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে বেহালা পূর্ব থেকে রত্না চ্যাটার্জী। সম্ভাবনা রয়েছে ঝাড়গ্রাম থেকে জিতে আসা আদিবাসী অভিনেত্রী বিরবাহা হাঁসদারও। পাশাপাশি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজারা নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন বলেই খবর।

    থাকছেন ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, ইন্দ্রনীল সেন সহ পুরনো মন্ত্রীরা। ডোমজুড় থেকে রাজিব ব্যানার্জি কে হারিয়েছেন কল্যান ঘোষ। থাকতে পারেন তিনিও। পুরনো অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র শারীরিক কারণে এবার ভোটে দাঁড়াননি। ভোটে দাঁড়াননি আরেক মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুও

    । এই দপ্তরগুলো কারা পাবেন সেদিকেও নজর থাকছে সবার। তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতা ব্যানার্জি সিদ্ধান্ত নিলেও পরে তা দলের কোর কমিটির বৈঠকে পাস করিয়ে নেওয়া হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।