কারা যেন ধর্ম খোঁজে! হিদু সন্তান বড়ো মুসলিম পরিবারে, মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত পোস্ট হিন্দু সন্তানের

বঙ্গ রিপোর্ট ডেস্কঃ দেশে যখন চরম অসহিষ্ণুতায় শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম- দলিতরা, ঠিক সেই সময় এই ঘাটনা আপনাকে কিছুটা আশার আলো দেবে। গত কয়েক সপ্তাহ আগে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল একটি পোস্ট। যেখানে এক হিন্দু সন্তান লিখেছিলেন- ‘উম্মা’ ঈশ্বরের ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। মালয়ালি ভাষায় উম্মা শব্দের অর্থ মুসলিম মা। ব্যাস শুরু হয়ে গেল বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্নব্বন। কারান ছেলেটি যে হিন্দু ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান তার নাম শ্রীধরন।

এই পোস্টের পর শুরু হয় বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশ্নের বান ছুঁড়ে দেওয়া হয়। কেউবা লেখেন বানান ভুল করলেন কি! আবার কেউ জানতে চান সে আসলেই শ্রীধরণ কিনা! নানা বিধ প্রশ্ন আছড়ে পড়তে থাকে যা রীতিমতো ট্রোলের রূপ নেয়।

নিন্দুকদের জবাবে আরও একটি পোস্ট করেন তামিলনাড়ুর মল্লপুরমের যুবক শ্রীধরণ। সেই পোস্টে উঠে আসে মানবতার অনান্য কাহিনী। মা ও সন্তানের স্নেহ যে ধর্মের বন্ধনে আবদ্ধ থাকেনা তা স্পষ্ট। পোস্টে জানা যায় খুব ছোটবেলায় শ্রীধরণের নিজের মা মারা যায়। সেই থেকেই শ্রীধরণ ও তার দুই বোনকে আদর স্নেহে বোড়ো করে তুলেছেন একজন মুসলিম মা। যাকে উম্মা বলে ডাকত তারা। হিন্দু হয়েও মুসলিম পরিবারে বড়ো হয়ে ওঠার পরও তাদের ধর্ম পরিবর্তন করতে হয়নি।

কর্মসুত্রে ওমানে থাকেন শ্রীধরণ। সে জানায় “দুই দিদি সহ মাত্র এক বছর বয়সে মাকে হারায়। নিজের সন্তানের মতোই আমাদের দেখভাল করতেন ওঁরা। পড়াশোনা করিয়েছেন আমাদের, আমার দুই দিদির বিয়েও দিয়েছেন। এমন নয় যে ওঁদের নিজেদের সন্তান ছিল না বলে আমাদের বড় করেছেন। ওঁদেরও তিনটি সন্তান ছিল। কিন্তু আমরা ছ’ভাইবোন একসঙ্গেই বড় হয়েছি কোনও বিভাজন ছাড়াই। আমাদের ধর্ম নিয়ে ওঁধের কোনও সমস্যা ছিল না। ধর্ম বদলও করা হয়নি আমাদের। উম্মা আমাদের সৎ-মা নন, সত্যিকারের মা-ই ছিলেন।”

এমন পোস্ট আসতেই খুব শীঘ্রই ভাইরাল হয়ে এই খবরটি। জানা যায় শ্রীধরনের আসল মায়ের নাম ছিল চাক্কি। তিনি এক মুসলিম পরিবারে পরিচারিকার কাজ করতেন। সুবাইদার তিন সন্তান শানাবাস, জাফর এবং জোশিনা যখন মসজিদে যেত, শ্রীধরনরা যেত মন্দিরে। রোজ সন্ধেয় জোশিনারা কোরান নিয়ে পড়তে বসত, ভাগবদ্গীতা পাঠ করত শ্রীধরনরা। প্রত্যেকেই বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নিজের নিজের কাজে।

এবছ গোড়ার দিকে কিডনির অসুখে অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবাইদা। কিন্তু চাকরিতে অসুবিধা হতে পারে ভেবে সুবাইদা শ্রীধরনকে খবর দিতে বারণ করে। পরে অবশ্য খবর পান শ্রীধরন। কিন্তু তাঁর ছুটির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার আগেই মৃত্যু সংবাদ আসে সুবাইদার।