হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! বন্ধ করা হোক গঙ্গাসাগর মেলা: আবারও হাইকোর্টে মামলা দায়ের চিকিৎসকদের

হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! বন্ধ করা হোক গঙ্গাসাগর মেলা: আবারও হাইকোর্টে মামলা দায়ের চিকিৎসকদের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: গঙ্গা সাগর মেলায় সংক্রমণ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ হোক মেলা। আর্জি জানিয়ে ফের মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে মেলা বন্ধ করে দিক, এই মর্মে আদালতে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন আবেদন জমা পড়েছে। মামলাকারীদের আশঙ্কা, ১৪ তারিখ পর্যন্ত মেলা চললে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। যদিও রাজ্যের তরফে এদিনও আদালতে জানানো হয়, মেলার উপর কড়া নজরদারি রয়েছে। কোভিডবিধি মেনেই মেলা চলবে।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। তাই গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ করে দেওয়া হোক। এই মর্মে সোমবার নতুন করে ৫টি মামলা হয়েছে হাইকোর্টে। মামলাকারীদের দাবি, গণপরিবহণে অধিকাংশ যাত্রীই মাস্ক ছাড়া যাতায়াত করছেন। গত ৩ তারিখ থেকে ১০ তারিখ ভয়ঙ্কর গতিতে বেড়েছে সংক্রমণ। এমনকী, মেলায় যোগ দেওয়ার জন্য যাঁরা আসছেন তাঁদের মধ্যেও অনেকে সংক্রমিত। অনেকে উপসর্গহীন। এই পর্যায়ে মেলা হলে রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। আবেদনকারীদের কথায়, এত বড় মেলায় কোভিডবিধি যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি করা কার্যত অসম্ভব। মামলাকারীদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে ১৪ তারিখ পর্যন্ত মেলা চললে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। জানা গিয়েছে, মামলাকারীদের মধ্যে অধিকাংশই চিকিৎসক। আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করার আবেদনও জানান তাঁরা। সোমবারের শুনানিতে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর’স ফোরামের আইনজীবী অনিরুদ্ধ চট্টোপাধ্যায়।

মামলাকারীদের যুক্তি, আদালতের গঠিত কমিটিতে কোনও ভাইরোলজিস্ট বা চিকিৎসককে রাখা হয়নি, যাঁর কোভিড পরিস্থিতিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আবার শুভেন্দু অধিকারীর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এদিকে এদিনও মেলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই আদালতে সওয়াল করে রাজ্য সরকার।

তাঁদের দাবি, কোভিডবিধি মেনে চলা হচ্ছে। যথাযথ নিয়ম মেনেই চলেছে মেলা। করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে গঙ্গাসাগর মেলা চলতে পারে, শুক্রবার জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করে বলেছিল, কমিটি চাইলে মেলা বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে। আবার ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে চালুও রাখতে পারে। কিন্তু আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সোমবার ফের পাঁচটি মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানি হলেও রায়দান স্থগিত রাখে হাইকোর্ট।