রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস : বিশেষ উপাসনা ও তাকওয়া অর্জনের বরকতময় মাস এই মাহে রমজান

রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস : বিশেষ উপাসনা ও তাকওয়া অর্জনের বরকতময় মাস এই মাহে রমজান

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: আরবি বর্ষের নবম মাস রমজান। মুসলিমদের কাছে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত মাস। রোজার আরবি নাম সাওম বা সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সবধরনের পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামের বিধান অনুসারে, প্রত্যেক সবল মুসলমানের জন্য রমজানে রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয় ইবাদত।

পবিত্র কুরআন শরিফে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারেরা! তোমাদের জন্য রোজা/সিয়াম ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে করে তোমরা মুত্তাকি/তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

মনে রাখতে হবে, রোজা বা সাওম তাদের ওপর ফরজ; যারা প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন ও শারীরিকভাবে রোজা পালনে সক্ষম। যদি কোনো ব্যক্তি সফর অবস্থায় থাকেন অথবা অসুস্থতার কারণে রোজা পালনে অক্ষম হন; তবে তিনি রোজা পরে কাজা আদায় করতে পারবেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি সুস্থ হয়ে কাজা আদায় করার সুযোগ বা সামর্থ্য ফিরে না পাওয়ার আশঙ্কা করেন, তবে তিনি রোজার ফিদইয়া বা একজন গরিবকে এক ফিতরার সমান খাবার খাওয়াবেন অথবা প্রদান করবেন।

রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের এ রমজান মাসে বেশকিছু ইবাদতে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানের তারাবি হলো সন্ধ্যাকলীন বিশেষ ইবাদত তথা নামাজ। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কুরআন খতমের মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করা হয়। তারাবিহ নামাজের সময় মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম হয়।

তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। এ মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দশ দিন রহমত, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফেরাত ও মাসের তৃতীয় ও শেষ দশ দিন হচ্ছে নাজাতের। পবিত্র এ মাসে আল্লহ কুরআন নাজিল করেন। শবে কদরও রমজান মাসে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের মাস এ রমজান। রমজানের পরিপূর্ণ সুফল পেতে হলে চাই পরিপূর্ণ প্রস্তুতি। শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রয়োজন রমজানের বিশেষ ইবাদতের প্রস্তুতিরও। রমজান ও রোজা, তথা সিয়াম সাধনার বিধিবিধান, নিয়মকানুন, রীতিনীতি, মাসয়ালা মাসায়িল ভালোভাবে জেনে আমল করলেই রমজানের পরিপূর্ণ ফজিলত পাওয়া যাবে। তা না হলে রোজা উপবাস ভিন্ন আর কিছুই নয়।

রমজানে বিশেষ নফল আমলসমূহ হলো- পবিত্র কুরআন একাধিকবার খতম করা; কালিমা তৈয়্যেবা অধিক পাঠ করা; দরুদ শরিফ সর্বাধিক পরিমাণে পাঠ করা; তওবা ও ইস্তিগফার করতে থাকা; সর্বদা তসবিহ তাহলিল ও জিকির আজকার করতে থাকা; দ্বীনি শিক্ষা ও দ্বীনি দাওয়াতি কাজে মশগুল থাকা; ধর্মীয় বই-পুস্তক, কুরআন তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও ইসলামি সাহিত্য নিজে পড়া ও অন্যকে পড়তে সাহায্য করা; দীনি মজলিশ আয়োজন করা; অধীনস্থ কর্মচারী ও শ্রমিকদের কাজের চাপ কমিয়ে দেওয়া এবং তাদের পূর্ণ মজুরি ও অতিরিক্ত সম্মানী প্রদান করা; বেশি বেশি দান–খয়রাত করা ইত্যাদি (বুখারি শরিফ, প্রথম খণ্ড, ইমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ৩৭, হাদিস: ৪৮, পৃষ্ঠা: ৩৮)।

এছাড়া রমজানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওয়াজিব দুটি। যথা সদকাতুল ফিতর আদায় করা ও ঈদের নামাজ পড়া। ঈদের দিন সকালে যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বা অধিকারী থাকবেন, তিনি তার নিজের ও পরিবারের সব সদস্যের ফিতরা আদায় করবেন। যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না–ও থাকেন, তবু সুন্নত বা নফল হিসেবে হলেও সদকাতুল ফিতরা প্রদান করা উত্তম।

উল্লেখ্য, হালাল বা বৈধ উপার্জন এবং হালাল রিজিক বা পবিত্র খাদ্য ছাড়া নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।

ইতেকাফে সীমাবদ্ধতা রমজান মাসের অন্যতম ইবাদতের নাম ইতেকাফ। রমজানের শেষ দশকে মুমিন মুসলমান মসজিদে ব্যাপকভাবে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করে।

লাইলাতুল কদর বা ২৬ রমজান দিবাগত ২৭ এর রাতে বা শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনার মাধ্যমে মানুষ ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করে। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে কুরআন সুন্নায় অনেক দিক-নির্দেশনা রয়েছে। সর্বোপরি রমজান শেষে ঈদ উদযাপন মুমিন মুসলিমদের জন্য এক মহা উৎসব।