অসমে উচ্ছেদের নামে নারকীয় হত্যার নিন্দায় সরব মুসলিম দেশগুলির সংগঠন ওআইসি

অসমে উচ্ছেদের নামে নারকীয় হত্যার নিন্দায় সরব মুসলিম দেশগুলির সংগঠন ওআইসি

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ইসলামিক দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) অসমে উচ্ছেদের নামে মানুষ হত্যায় ভারত সরকারের সমালোচনা করেছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ওআইসি’ গতমাসে অসমের দরং জেলায় কয়েকশো মুসলিম পরিবারকে সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদের সময় পুলিশের অভিযানকে পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং সহিংসতা বলে অভিহিত করেছে। ওই পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এক কিশোর সহ স্থানীয় দু’জন মুসলিম নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পরে বিজেপিসাসিত অসম সরকার এই বিষয়ে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলেছিল যে তদন্তটি গুয়াহাটি হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ‘ওআইসি’ ওই ঘটনার মিডিয়া কভারেজকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করে ভারত সরকারের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ করার আবেদন জানিয়েছে।

ইসলামী দেশগুলোর সংগঠন তার বিবৃতিতে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা প্রদানের এবং তাদের সকল ধর্মীয় ও সামাজিক মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর আবেদন জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সার্বভৌমত্বের মধ্যে যেকোনো সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায় পারস্পরিক আলোচনা।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর অসমের দরং জেলার ধোলপুর গ্রামে কথিত ‘অবৈধ দখলদারি’ অপসারণের জন্য পুলিশের অভিযান চলাকালীন সহিংস সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছিল এবং এরমধ্যে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই ঘটনায় আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন। রাজ্য সরকার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অসম সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, গৌহাটি হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত করা হবে।

এই প্রথম নয় যে ‘ওআইসি’ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারত সরকার কাশ্মীর নিয়ে ‘ওআইসি’র বক্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছিল। ‘ওআইসি’ জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। একইসময়ে, ভারত সবসময় এটিকে তার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তান ওআইসি ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তুরস্ক এবং মালয়েশিয়া ছাড়া কোনো সদস্য দেশ প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা করেনি।
পার্সটুডে