দেশের রাজনৈতিক অভিমুখ এখন ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে চলেছে: সতর্ক হোন!

দেশের রাজনৈতিক অভিমুখ এখন ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে চলেছে: সতর্ক হোন!

অধ্যাপক ডঃ নুরুল ইসলাম

সমগ্র দেশে আজ এক অভিনব রাজনৈতিক সমীকরণ চলছে। এই সমীকরণ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি পরিভাষার বার বার ব্যবহার লক্ষ্য করছেন? সাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রদায় সংহতিকরণ, মেরুকরণ ও ফ্যাসিবাদ ইত্যাদি। দেশের রাজনৈতিক অভিমুখ এখন ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই বিপজ্জনক সমীকরণ ও অবস্থান সৃষ্টি করেছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী দল সমুহ।

লক্ষণীয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থান ধর্মনিরপেক্ষ। তারা বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করে চলেছে। তারা হিন্দুত্ববাদীদের মতো মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে পাল্টা সমীকরণ ও মেরুকরণের কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তাদের প্রতি শত নির্যাতন সত্বেও তারা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলেছে। শত প্ররোচনা সত্বেও তারা সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু তাদের এই ইতিবাচক তৎপরতাকে দূর্বলতা ভাবছে। তাই, তারা আরো বেশি করে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে।

বস্তুত ধর্মীয় হিন্দুত্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকারক নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিন্দুত্ব ভয়ানক বিপজ্জনক। আর এস এস-বিজেপি রাজনৈতিক হিন্দুত্ব নিয়ে বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছে। রাজনৈতিক হিন্দুত্ব এখন দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। তারা যেভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব শৃংখল সৃষ্টি করে ধর্মীয় মেরুকরণ করে চলেছে তা এক বিপজ্জনক মোড়ে পৌছে গেছে। বস্তুত ধর্ম যখন ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হয় তখন তা বিপজ্জনক হয়ে উঠে। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের জন্ম দেয়। যার পরিণতি সমগ্র বিশ্ব অবলোকন করেছে।

এই ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদকে রুখতে না পারলে মুসলিম, দলিত ও প্রগতিশীল মানুষদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠবে। এই বিধ্বংসী শক্তিকে রুখে দিতে না পারলে সমুহ বিপদ দেশের জন্য। সভ্যতার জন্য। তারা ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হচ্ছে। আমরা সকলেই আতঙ্কিত!
এই ফ্যাসিবাদী অশুভ শক্তি এখন কল্পনা নয় বাস্তবে দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে হলে দেশের আপামর জনসাধারণকে সংগঠিত হতে হবে। তারা এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না। সুসংহত রণকৌশল প্রণয়ন করে মোকাবেলার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের শত বিভেদ আছে। কিন্তু রাজনৈতিক হিন্দুত্ব যে আমাদের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক এবিষয়ে দ্বিমত নেই। এই অভিন্ন লক্ষ্যে দেশের সকল ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল শক্তিকে মহাজোট গঠন করে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যুদ্ধ বিরতি চাইলেও তারা থামবেনা। তাদের অভিষ্ট লক্ষ্য আমাদের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়া। রূপ কথার রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা নাকি তাদের অভিষ্ট লক্ষ্য। কথিত রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা হলে নাকি দেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে। আর ভারত পৃথিবীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি রূপে আবির্ভূত হবে! সত্য বলতে কি, কথিত রামরাজত্বে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের প্রশ্নহীন আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু তথাকথিত শুদ্রদের অবস্থান কি হবে?