কোভিড পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমছে ধীরে ধীরে: দিশেহারা বিজেপি

    কোভিড পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমছে ধীরে ধীরে: দিশেহারা বিজেপি

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একের পর এক ব্যর্থ নরেন্দ্র মোদী সরকার। সুপ্রিম কোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক মহলে মোদি সরকারের প্রতি ধারাবাহিক তিরস্কার ও একের পর এক রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি জনপ্রিয়তা কমছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যা নিয়ে একপ্রকার দিশেহারা দল।

    যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ধস নেমেছে। এর পরে কোভিডের ধাক্কা সামলাবেন কী ভাবে? লখনউ থেকে ফোনে বিজেপি নেতার একই জবাব— “কিছুই বুঝতে পারছি না!”

    কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে মোদী সরকারের কোনও পরিকল্পনাই নেই। বিজেপি নেতাদেরও বক্তব্য মোটামুটি এক। তার মধ্যেই কোভিডের এই ধাক্কার পরেও যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে, তার ‘স্ট্র্যাটেজি’ কোথায়, তা নিয়ে চিন্তায় তাঁরা।

    বিজেপি নেতারা মানছেন, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় দেশ জুড়ে মৃত্যুর মিছিল এবং তার সঙ্গে অক্সিজেন, টিকার অভাবের ফলে মোদী সরকারের দিকেই আঙুল উঠেছে। স্বাভাবিক ভাবেই এর ফলে মোদীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার গ্রাফ নিম্নমুখী হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা মনে করছেন, রাজ্যের নির্বাচনে শেষ দু’তিন দফার ভোটে কোভিড মোকাবিলায় কেন্দ্রের ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এর পরেও হাল শোধরাতে মোদী-অমিত শাহের দিক থেকে কোনও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না কেন?

    বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “মোদীজি বোধহয় অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগছিলেন। তাই কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ যে এ রকম বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা বুঝতে পারেননি। কিন্তু এখনও কি আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী? দলের নেতারা কি ভাবছেন, মানুষ ২০২৪-এর আগে এই অক্সিজেন, আইসিইউ বেডের জন্য হাহাকার, টিকার অভাবের কথা ভুলে যাবে?” বিরোধী নেতারা বলছেন, বিজেপি হয়তো কোভিডের ব্যর্থতা ভোলাতে ২০২৪-এর আগে ফের মন্দির-মসজিদ, হিন্দু-মুসলিম, পাকিস্তান-জাতীয়তাবাদের ইস্যু তুলে আনতে চাইবে। কিন্তু বারবার একই হাতিয়ারে কাজ দেবে না। বিজেপি সূত্রের খবর, পরে যা হবে, দেখা যাবে।

    কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ ধাক্কা দেওয়ার পরে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা করেছিলেন। তার পরে ‘মন কি বাত’ ছাড়া তিনি এ বিষয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি। বিজেপি নেতারা মনে করছেন, পরিস্থিতি কিছুটা শোধরালে হয়তো তিনি ফের জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা করবেন। কিন্তু এখনই বিজেপির সাংসদ-বিধায়করা নিচু তলায় ক্ষোভ টের পাচ্ছেন।