সংখ্যালঘু উন্নয়নে বরাদ্দ ৮০০ কোটির মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা খরচ করেনি রাজ্য

সংখ্যালঘু উন্নয়নে বরাদ্দ ৮০০ কোটির মধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা খরচ করেনি রাজ্য

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়নে বরাদ্দ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সংখ্যালঘু এলাকার ইংলিশ মিডিয়াম মডেল স্কুল প্রজেক্ট ও বিভিন্ন পানীয় জলের প্রকল্পের। এই বিপুল টাকায় রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে স্কুল শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষাগার, আইআইটি, পানীয় জল প্রকল্প ,শৌচাগারের মত পরিকাঠামো উন্নয়ন এর খরচ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৪১২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়নি। পড়ে আছে হেলায় গত তিন চার বছর ধরে। নাকি ৩৭৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার কোন ইউসি (খরচের হিসাব) রাজ্যের পক্ষ থেকে জমা পড়েনি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের। যে সময়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন সেই সময়ে রাজ্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই।

কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যকে নজিরবিহীনভাবে চিঠি লিখে জানিয়েছে একটি টিম তৈরি করতে যারা নয়াদিল্লি এসে খরচের হিসাব বুঝিয়ে দেবে কোন কোন প্রকল্প শেষ হয়েছে তা আদৌ বোঝা যাচ্ছেনা সেগুলোর হালো নয়াদিল্লিতে সে বুঝিয়ে রাজ্যের ওই টিম কেন সংখ্যালঘু এলাকায় পানীয় জল প্রকল্প গুলি করা গেল না তাও জানতে চেয়েছে তারা এক্ষেত্রে রাজ্যর সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদের 1486 টি আর্সেনিকমুক্ত পানি ও জলের প্রকল্পের উদাহরণ দেয়া হয়েছে 9 বছরেও এই প্রকল্প গুলি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে শুরু করতে পারেনি মমতা ব্যানার্জির সরকার অথচ এই সময়ে আর্সেনিকের বিপদ আরো বেড়েছে।

গত ২১ শে নভেম্বর রাজ্যর সংখ্যালঘু উন্নয়নের প্রকল্প গুলির পর্যালোচনা বৈঠক হয় নয়াদিল্লির সিজিও কম্প্লেক্স। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব গোলাম আলী আনসারী। সেখানে রাজ্যের প্রকল্প গুলিতে গরমিল আলোচিত হয় গত ৮ নভেম্বর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে নবান্নে চিঠি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় তরফ থেকে।

সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের এক অফিসার জানিয়েছেন গরমিলের যাবতীয় তথ্য নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছে।কোথায় কোথায় টাকা পড়ে আছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে হিসাব দিতে বলা হয়েছে পারা যাবে কিনা সন্দেহ আছে মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লি যাওয়ার আগে বিষয়টি জানানো হয়েছে এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় অন্য কোন খাতে খরচ হয়েছে কিনা উঠছে প্রশ্ন? মমতা ব্যানার্জি যেভাবে মেলা, পুজো, খেলায় টাকা খরচ করেছেন সংখ্যালঘু উন্নয়নে টাকাও ঐ খাতে চলে গেছে কীনা? এই প্রশ্ন উঠছে।

যে প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেটির বর্তমান নাম প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ কার্যক্রম। ২০১৭-১৮ সাল থেকে এই নাম হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে যার নাম ছিল এমএসডিপি। রাজ্যের বারোটি জেলাকে সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বলে বেছে নেওয়া হয়েছিল সেখানে গরিব সংখ্যালঘুদের জন্য স্কুল, বিদ্যুৎ, পানীয় জল সহ নানা ক্ষেত্রে টাকা খরচ হয় এই প্রকল্প থেকে। এই প্রকল্পে ৬০ ভাগ টাকা দেয় কেন্দ্র ৪০ ভাগ টাকা দেওয়ার কথা রাজ্যের কোন কোন ক্ষেত্রে ৯০ ভাগ পর্যন্ত টাকা দিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংখ্যালঘু দফতর সূত্রের খবর এর আগে ২০১৯ একটি চিঠি এসেছিল তখন ৫১৪ কোটি টাকার খরচের হিসাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু হিসাব তৈরি করা যায়নি পুরোটা গত বছরের হিসাব না দেওয়ার টাকার পরিমাণও বেড়েছে।