গোরাদের কাছে পরাধীন থাকা এবং আজকের স্বাধীনতার মধ্যে কোন তফাৎ নেই: আক্ষেপ ছিল ক্যাপ্টেন আব্বাস আলীর

গোরাদের কাছে পরাধীন থাকা এবং আজকের স্বাধীনতার মধ্যে কোন তফাৎ নেই: আক্ষেপ ছিল ক্যাপ্টেন আব্বাস আলীর

বঙ্গ রিপোর্ট ডিজিটাল ডেস্ক: ২৩ শে মার্চ – ১৯৩১,, যেদিন ভগৎ সিংদের ফাঁসি দেওয়া হলো, সেদিন উত্তরপ্রদেশের বুলন্দ শহরের “খুর্জ-পাঠশালা”-তে প্রতিদিনের মতো পড়তে গিয়েছিলেন- ১১ বছরের শিশু “আব্বাস আলী।”

প্রত্যেকটা ছাত্র সেদিন স্কুলে পড়াশোনা করার বদলে, দেশাত্মবোধক স্লোগান সহকারে মিছিলে অংশগ্রহন করেছিলো। গভীর রাত পর্যন্ত গোরাদের বিরুদ্ধে মিছিল
বিক্ষোভ চলেছিল। সন্ধ্যায় সব ছাত্ররা নিজের বাড়ি ফিরে গেলেও, ১১ বছরের শিশু, তখনো বড়দের সঙ্গে গোরা-বিরোধী স্লোগান দিয়ে চলেছে।

গভীর রাতে, আব্বাসের আব্বা এসে , তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। মা কয়েকটা চড়-থাপ্পড় মেরে, আব্বাস কে বুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লেন।
কিশোর আব্বাস প্রশ্ন করলো -” মা, দেশকে ভালোবাসা অপরাধ ?”
মা বললেন -” না তো।”
আব্বাস জিজ্ঞেস করলো -” তাহলে মারলে কেন?”
মা কান্না ভেজা গলায় বললেন – “তুমি এখন
ছোটো, আগে বড়ো হও,, তারপর গোরাদের মোকাবেলা করো।”
সেদিনের ১১ বছরের শিশু, মনে মনে শপথ নিয়েছিল, দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে।

তারপর —
খুর্জা-র কলেন্দরগড়ের যুবক আব্বাস, নিজের স্বপ্ন সার্থক করতে, পড়াশোনা শেষ করে, “আজাদ হিন্দ ফৌজ”-এ যোগদান করেছিলেন। নেতাজী সুভাষ –
চন্দ্র বোস , ভালোবেসে যাকে “ক্যাপ্টেন – আলী” নামে ডাকতেন। ক্যাপ্টেন আব্বাস আলী, নেতাজী-র আজাদ হিন্দি ফৌজের পক্ষে বহু লড়াই লড়েছিলেন।

সেদিনের কথা, এখনো মনে পড়লে, কান্নায় দুচোখ ভরে যায়, ৯৪ বছরের যুবক, ক্যাপ্টেনের। নেতাজী-র কথা
মনে হলেই, নিজেকে সামলাতে পারেন না। অঝোর নয়নে কাদতে থাকেন, ক্যাপ্টেন আব্বাস আলী।

ক্যাপ্টেন আব্বাস আলীর মতে, এই স্বাধীনতার জন্য লাখো দেশভক্ত আত্মবলিদান দেন নি। গোরাদের
কাছে পরাধীন থাকা এবং আজকের প্রাপ্ত স্বাধীনতার মধ্যে , ওনার নজরে বিশেষ কিছু তফাৎ নেই।

জন্ম: ৩ জানুয়ারি, ১৯২০ উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর, মৃত্যু ১১ অক্টোবর, ২০১৪ আলিগড়। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও লড়াই করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে এ বছরের জন্য উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একসময় উত্তর প্রদেশের সুন্নি ওয়াকাফ বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।