মুসলিম উম্মাহর কাছে ‘শবে কদর’ একটি মহিমান্বিত, বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ রজনী

মুসলিম উম্মাহর কাছে ‘শবে কদর’ একটি মহিমান্বিত, বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ রজনী

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: শবে কদর একটি মহিমান্বিত, বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ রজনী। শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ, শবে কদরে ইবাদত করা হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি ফজিলত রাখে। শবে কদর রমজানুল মোবারকের শেষ দশকের যে কোনও বিজোড় রাতে হতে পারে। শবে কদরে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে স‌ওয়াবের আশায় ইবাদত করলে, পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়

এই রাতে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে ‘কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল হয়। তাই মুসলমানদের কাছে শবে কদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। কদরের রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এ রাতে ঝিকির-আজগার, ইবাদত-বন্দেগী ও কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনা করে থাকেন।

এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তাই এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

তবে কোন দিন বা তারিখে আসে এ রাত?মর্যাদার এ রাতটি কবে হবে তা সুস্পষ্ট বা নির্দিষ্ট করে বলার বা জানার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ কথাটি সুস্পষ্ট যে, তা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় যে কোনো রাতে হবে। সে আলোকে তা হবে- ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাত। অর্থাৎ ২০ রমজান দিবাগত রাত, ২২ রমজান দিবাগত রাত, ২৪ রমজান দিবাগত রাত, ২৬ রমজান দিবাগত রাত এবং ২৮ রমজান দিবাগত রাত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতেও হাদিসে পাকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এভাবে-> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (বুখারি)> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর।’ (বুখারি)

২৭ রমজান শবে কদরতবে কেউ কেউ শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে ২৭ রমজান ‘লাইলাতুল কদর’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কেও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে-হজরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদরের রাত অর্জন করতে ইচ্ছুক, সে যেন তা ২৭ রমাজনের রাতে অনুসন্ধান করে।’ (মুসনাদে আহমাদ)