আজ ফাতেহা ইয়াজ দাহাম বড়পীর হজরত আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহঃ এর ওফাত দিবস

আজ ফাতেহা ইয়াজ দাহাম বড়পীর হজরত আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহঃ এর ওফাত দিবস

ডিজিটাল ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: ফাতেহা ইয়াজ দাহাম হল বড়পীর হজরত আব্দুল ক্বাদির জিলানী (রহ.) এর ওফাত দিবস। বলা হয়ে থাকে, হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন।

‘ইয়াজ দাহম’ ফার্সি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ফাতিহা ইয়াজ দাহম বলতে এগারো-এর ফাতিহা শরিফকে বোঝায়। এই ফাতিহা-ই-ইয়াজ দাহম শরিফ আবদুল কাদের জিলানী এর স্মরণে পালিত হয়।

আব্দুল কাদের জিলানী হলেন ইসলাম ধর্মে অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ত্ব। তিনি ইসলামের অন্যতম প্রচারক হিসাবে সুবিদিত। সূফীরা তাকে ‘বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ)’ নামে ব্যক্ত করা হয়। আধ্যাত্মিকতায় উচ্চমার্গের জন্য বড়পীর, ইরাকের অন্তর্গত ‘জিলান’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করায় জিলানী, সম্মানিত হিসাবে আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন প্রভৃতি উপাধি ও নামেও তাকে সম্বোধন করা হয়।

আব্দুল কাদের হিজরি ৪৭১ সনের রমজান মাসের ১ তারিখে বাগদাদ নগরের জিলান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবু সালেহ মুছা জঙ্গী এবং মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তার মাতা ছিলেন হাসান ইবনে আলীর বংশধর।

শিক্ষা-দীক্ষায় পূর্ণতা অর্জনের পর তিনি নিজেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজে নিয়োজিত করেন। বিভিন্ন মাহফিলে তিনি ইসলামের সুমহান আদর্শ যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বর্ণনা করতেন। তার মহফিলে শুধু মুসলমান নয়, অনেক অমুসলিমও অংশগ্রহণ করতো। তার বক্তব্য শুনে অনেক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ফতহুল গায়ের গুনিয়াতুত তালেবীন, ফতহুর রবযানী, কালীদায়ে গাওসিয়া উল্লেখযোগ্য।

হিজরী ৫৬১ সালের ১১ রবিউস সানী বড়পীর আব্দুল কাদের জ্বিলানী পরলোক গমন করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তার ওফাত দিবস সারা বিশ্বের সূফীরা প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন এবং তার মৃত্যুবার্ষিকী ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম হিসেবে পরিচিত। তিনি ইরাকের বাগদাদ শরীফে শায়িত আছেন।