সারাজীবন ব্রিটিশের চরবৃত্তি করে আজ মন্দিরের ভূমি পূজোকে স্বাধীনতার সঙ্গে মেলাচ্ছেন: মোদীকে কটাক্ষ সুর্যকান্ত মিশ্রের

    সারাজীবন ব্রিটিশের চরবৃত্তি করে আজ মন্দিরের ভূমি পূজোকে স্বাধীনতার সঙ্গে মেলাচ্ছেন: মোদীকে কটাক্ষ সুর্যকান্ত মিশ্রের

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: মহা আড়ম্বরে অযোধ্যাতে হয়ে গেল রাম মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠান। সরযূ নদীর তীরে স্বর্ণযুগের সূচনা হল বলে দাবি করছেন রাম ভক্তরা। আর সেই ‘স্বর্ণযুগের’ সূচনা হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে। রাম মন্দিরের ভূমিপুজো সেরে নিজের বক্তৃতায় আজকের দিনটিকে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনে সারা দেশ যোগ দিয়েছিল। তেমনই রাম মন্দিরের জন্য অসংখ্য মানুষ বলিদান দিয়েছেন। আজ তাঁদের প্রতীক্ষার অবসানের দিন। ১৫ অগস্ট যেমন ভারতের স্বাধীনতা দিবস, তেমনই আজকের দিনটি ত্যাগ, সংকল্পের প্রতীক হিসেবে মনে রাখবে দেশবাসী।’ মোদীর এই মন্তব্যের পরই তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বামেরা।

    কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদী স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা বলছেন! যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ব্রিটিশের চরবৃত্তি করেছিল, তাঁরাই আজ দেশের স্বাধীনতার কথা বলছেন। যাঁরা ব্রিটিশদের মুচলেকা লিখে দিয়েছিল। আমি জানি না প্রধানমন্ত্রী আন্দামানে গিয়েছেন কিনা, গেলে যে কেউ দেখতে পাবেন, ওখানে সব নাম লেখা আছে। সেই লেখা নামে ওদের একটা নামও দেখাতে পারবেন?’

    এরপরই সাভারকার প্রসঙ্গে মুখ খোলেন সূর্যকান্ত। বলেন, ‘একজন ছিলেন সাভারকর, তিনি ব্রিটিশদের মুচলেকা দিয়েছিল। স্বাধীনতার আগে ওদের কাজ ছিল ব্রিটিশের চরবৃত্তি করা।’ এমনকী আডবাণীদের থেকে গোটা ‘কৃতিত্ব’ নরেন্দ্র মোদী হাইজ্যাক করেছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। এবারই অবশ্য প্রথম নয়, সম্প্রতি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও মোদীর অযোধ্যা যাত্রা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘এখন গোটা দেশে মহামারী চলছে। আর তা মোকাবিলার দায় রাজ্য সরকারগুলোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের এমন মারাত্মক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাম মন্দিরের ভূমিপুজো করতে চলেছেন। মহামারী মোকাবিলা নাকি মন্দিরের শিলান্যাস, কোনটা প্রাধান্য পাবে এটা শাসক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এই মন্দিরের নাম করে করোনার মতো মহামারীর সময়ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি।’ করোনা নিয়ে কেন্দ্রের ‘ব্যর্থতায়’ ১৬ দফা দাবি নিয়ে ২০-২৬ আগস্ট দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বামেরা।