হিন্দি না জানার জন্য ট্রেনিং থেকে বেরিয়ে যেতে বলায় কেন্দ্রীয় আয়ুষ সচিবকে তুলোধনা এইচডি কুমার স্বামীর

    হিন্দি না জানার জন্য ট্রেনিং থেকে বেরিয়ে যেতে বলায় কেন্দ্রীয় আয়ুষ সচিবকে তুলোধনা এইচডি কুমার স্বামীর

    নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: হিন্দি না জানার জন্য ট্রেনিং থেকে বেরিয়ে যেতে বলায় সারা দেশে আয়ুষ সচিব তীব্র সমসলোচনার মুখে পড়েছেন। এবার তাকে তুলোধনা করলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং জনতা দল সেকুলার–এর নেতা এইচডি কুমার স্বামী। আয়ুষ সচিবের মন্তব্যকে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার ‘’নির্লজ্জ উত্তেজনা’’ বলে অভিহিত করেন দক্ষিণী নেতা।

    একাধিক টুইট করে কুমারস্বামী জানতে চান হিন্দি না জানার জন্য ভারতের মানুষ আর কতদিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি কন্নড় ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের অসহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন। অনলাইন ট্রেনিং চলাকালীন আয়ুষ বিভাগের সচিব রাজেশ কোতেচা বেশ কিছুটা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলে বসেন, যারা হিন্দি জানে না তারা যেন ট্রেনিং ছেড়ে চলে যান। কুমার স্বামী কন্নড় ভাষায় লেখা টুইটে জানতে চেয়েছেন আয়ুষ সচিব এই মন্তব্য কি নিজে ইংরেজি না জানার কারণে করেছেন নাকি হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার নির্লজ্জ উত্তেজনার বশে করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সমস্ত ভাষার সমানাধিকার রয়েছে মনে করিয়ে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন দেশের সংহতির জন্য সংবিধানের মূল সুরই হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। টুইটে কুমারস্বামী প্রশ্ন করেছেন, ‘’যখন শুধুমাত্র হিন্দিতে কথা না বলতে পারার জন্য ট্রেনিং থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয় তখন কি সেটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা নয়? সেটা কি সংবিধানের বিরোধিতা করা নয়?’’

    কর্নাটকের কন্নড় ভাষাভাষি সহ অন্যান্য ভাষাগোষ্ঠীর মানুষেরা আর কতদিন হিন্দি না জানার জন্য এই দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলবে সেই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ‘’হিন্দি আধিপত্যবাদের ঘোরে’’ করা আয়ুষ সচিব কোতেচা’র এই মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন জনতা দল সেকুলার–এর নেতা।

    হিন্দি না জানার জন্য দক্ষিণী নেতারা সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তাদের যোগ্য সম্মান পান না এই ধরনের একটি অভিযোগ দক্ষিণ ভারতীয় রাজনীতিবিদদের বহুদিনের। এই হিন্দি না জানার জন্য বহু রাজনৈতিক নেতা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন কুমারস্বামী। দক্ষিণ ভারতীয়দের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করার নেপথ্যে শাসক শ্রেণীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা জানিয়ে তিনি দাবি করেন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ইংরাজি অথবা হিন্দি দু’ভাষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।